রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. হুমায়ুন কবীর বলেছেন, ‘আগামী জুন মাসে কালুরঘাট সেতুর সংস্কারকাজ শুরু হবে। এরপর সেপ্টেম্বরে চালু হতে পারে দোহাজারী-কক্সবাজার রেললাইন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহে নতুন এই রেললাইনের উদ্বোধন করতে পারেন। এই লাইন চালু হলে ট্রেনে করে পর্যটন নগরী কক্সবাজারে যেতে পারবেন সারা দেশের মানুষজন।’
শনিবার (৬ মে) সকালে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব। কর্ণফুলী নদীর ওপর কালুরঘাট সেতুর সংস্কারকাজ বাস্তবায়ন ও ফেরি চালুর বিষয়ে এ মতবিনিময় সভার আয়োজন করে জেলা প্রশাসন। জেলা প্রশাসক আবুল বাসার মোহাম্মদ ফখরুজ্জামানের সঞ্চালনায় এতে উপস্থিত ছিলেন রেলওয়ের পূর্বাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক মো. জাহাঙ্গীর হোসেন, নগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার আ স ম মাহতাব উদ্দিন ও বিভাগীয় রেলওয়ে ব্যবস্থাপক আবিদুর রহমান প্রমুখ।
বর্তমান সরকার রেলপথ উন্নয়নে বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে জানিয়ে রেলসচিব বলেন, ‘উন্নয়নের অংশ হিসেবে দোহাজারী-কক্সবাজার রেললাইন হচ্ছে। এই রেলপথ দিয়ে ১২০-১৩০ কিলোমিটার বেগে ট্রেন চলাচল করতে পারবে। প্রকৃতির সৌন্দর্য দেখতে দেখতে পর্যটন নগরীতে যাবেন যাত্রীরা।’
কালুরঘাট সেতু দিয়ে ৩ মাস ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকবে
আগামী জুন মাসে কালুরঘাট সেতু সংস্কার করা হবে জানিয়ে রেলসচিব বলেন, ‘পুরো সেতুর সংস্কারকাজ শেষ করতে ছয় মাস লাগবে। তবে সেতুর মূল রেললাইনের সংস্কারকাজ তিন মাসের মধ্যে শেষ করা হবে। এই তিন মাস চট্টগ্রাম-দোহাজারী ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকবে। সেইসঙ্গে সেতু দিয়ে যান চলাচল বন্ধ থাকবে। সংস্কারকাজ চলাকালে সেতুর বিকল্প হিসেবে যাতায়াতের জন্য ফেরি চালু করা হবে। সেতুতে যান চলাচল বন্ধ থাকলে সাময়িক অসুবিধা হবে। তবে সংস্কার হয়ে গেলে তা আর থাকবে না। ২০২৮ সালে নতুন সেতু হলে দুর্ভোগ দূর হবে।’
সভায় রেলওয়ের পূর্বাঞ্চলের প্রধান প্রকৌশলী আবু জাফর মিঞা বলেন, ‘১৯৩১ সালে কালুরঘাট রেলসেতু নির্মিত হয়। ১৯৬২ সালে যান চলাচল শুরু হয়। সেতুর বর্তমান অবস্থা খারাপ। এর আগে দুবার সংস্কার করা হয়েছিল। এখন কক্সবাজারে ভারী ইঞ্জিনের ট্রেন যাবে। তাই সেতু সংস্কার করতে হচ্ছে। বর্তমানে এই সেতুতে ট্রেনের গতি ১০ কিলোমিটার। সংস্কারের পর ৫০-৬০ কিলোমিটার হবে।’
সভা শেষে নগরীর সিআরবি এলাকায় জরাজীর্ণ রেলওয়ে বক্ষব্যাধি হাসপাতালকে সংস্কারের মাধ্যমে বিভাগীয় কর্মচারী কল্যাণ হাসপাতালে রূপান্তরের সম্ভাব্যতা যাচাই করেন রেলসচিব। এ সময় জেলা প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।