মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে এসে বাহিনী গঠন, পাহাড়ে আস্তানা গড়ে অপহরণ-ধর্ষণ ও হত্যা

মিয়ানমার থেকে অবৈধভাবে বাংলাদেশে এসে বাহিনী গঠন করেছিল হাফিজুর রহমান ওরফে ছলেহ উদ্দিন। এরপর পাহাড়ে আস্তানা গড়ে মাদক ও অস্ত্র চোরাচালান, মানবপাচার, অপহরণ, ধর্ষণ ও হত্যাসহ নানা অপরাধ কর্মকাণ্ডে জড়ায়। গত কয়েক বছরে কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার স্থানীয় বাসিন্দা ও রোহিঙ্গাদের কাছে মূর্তিমান আতঙ্ক হয়ে ওঠে ছলেহ ও তার বাহিনী।

অবশেষে শুক্রবার রাতে টেকনাফের বাহারছড়া ইউনিয়নের পাহাড়ি এলাকায় র‌্যাবের সঙ্গে গোলাগুলির পর ছলেহ ও তার পাঁচ সহযোগীকে গ্রেফতার করে র‌্যাব-১৫। এ সময় বিদেশি পিস্তল, পাঁচ রাউন্ড গুলি, ১১টি একনলা বন্দুক, ১৭ রাউন্ড তাজা কার্তুজ, চার রাউন্ড খালি কার্তুজ, দুটি ছুরি ও ছয়টি দা উদ্ধার করা হয়।

শনিবার (০৬ মে) দুপুরে র‌্যাব-১৫-এর কক্সবাজার কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন।

গোলাগুলির ঘটনার বর্ণনা দিয়ে খন্দকার আল মঈন বলেন, ‘শুক্রবার রাতে ছলেহ ও তার বাহিনী ডাকাতি এবং অপহরণের প্রস্তুতিকালে বাহারছড়া পাহাড়ি এলাকায় অভিযান চালান র‌্যাব। এ সময় তাদের সঙ্গে গোলাগুলি হয়। পরে দুর্ধর্ষ অপরাধী হাফিজুর রহমান ওরফে ছলেহ উদ্দিনকে (৩০) পাঁচ সহযোগীসহ গ্রেফতার করা হয়।’   

গ্রেফতার তার সহযোগীরা হলো- নুরুল আলম (৪০), আক্তার কামাল ওরফে সোহেল (৩৭), নুরুল আলম ওরফে লালু (২৪), হারুনুর রশিদ (২৩) ও রিয়াজ উদ্দিন ওরফে বাপ্পি (১৮)।

ছলেহ উদ্দিন মূর্তিমান এক আতঙ্কের নাম উল্লেখ করে খন্দকার আল মঈন বলেন, ‘২০১২ সালে মিয়ানমার থেকে অবৈধপথে বাংলাদেশে আসার পর পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর বিভিন্ন সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর সঙ্গে হাত মিলিয়ে অপরাধ কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ে ছলেহ। ২০১৩ সালে অবৈধভাবে মালয়েশিয়ায় যায়। ২০১৯ সালে আবারও বাংলাদেশে অবৈধভাবে প্রবেশ করে এবং অবৈধভাবে উখিয়ায় অবস্থান নেয়। এরপর বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তে মাদক ও অস্ত্র পাচার, মানবপাচার, অপহরণ, হত্যা ও ধর্ষণসহ নানা অপরাধ করতে থাকে। এসব অপরাধ কর্মকাণ্ড পরিচালনার জন্য ১২-১৫ সদস্যের বাহিনী গড়ে। টেকনাফের পাহাড়ে আস্তানা গড়ে অপহরণ, ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ড চালিয়ে আসছিল। পাশাপাশি থাইল্যান্ড ও মালয়েশিয়াসহ বিভিন্ন দেশে মানবপাচার করছিল। এসব অপরাধে তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা হয়। তবু পাহাড়ে থেকে নানা অপরাধ কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছিল ছলেহ ও তার বাহিনী।’ 

তিনি বলেন, ‘সর্বশেষ টেকনাফের শালবাগান পাহাড়, জুম্মা পাড়া ও নেচারপার্ক, নোয়াখালী পাড়া পাহাড়, বড় ডেইল পাহাড়, কচ্ছপিয়া পাহাড়, জাহাজপুরা পাহাড়, হলবনিয়া পাহাড়, শিলখালী পাহাড়ে অবস্থান নিয়ে অপরাধ কার্যক্রম করছিল। কখনও অটোরিকশাচালক, কখনও রিকশাচালক ছদ্মবেশে হ্নীলা, হোয়াইক্যং, উনচিপ্রাং, শ্যামলাপুর, জাদিমোড়ার বাসিন্দাদের অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায় করতো।’

ছলেহ উদ্দিনের বিরুদ্ধে উখিয়াসহ কক্সবাজারের বিভিন্ন থানায় ১০টির বেশি মামলা রয়েছে জানিয়ে খন্দকার আল মঈন বলেন, ‘গ্রেফতারের পর জিজ্ঞাসাবাদে গত ১৮ ডিসেম্বর বাহারছড়া থেকে ১০ কৃষক, ২ জানুয়ারি এক রোহিঙ্গা নারী, ২৬ মার্চ হ্নীলার দমদমিয়ার বাসিন্দা কবির আহমদের ছেলে রেদোয়ান সবুজ, মাওলানা আবুল কালামের ছেলে নুরুল মোস্তফা, ১৫ এপ্রিল ফুলের ডেইল এলাকার বাবুল মেম্বারের ছেলে ফয়সাল, ৩০ এপ্রিল একই এলাকার হামিদুল্লাহ এবং ৩ মে রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে আবু কালামকে অপহরণের কথা স্বীকার করেছে ছলেহ। অপহৃত প্রত্যেকের কাছ থেকে পাঁচ-১০ লাখ টাকা পর্যন্ত মুক্তিপণ নিয়েছে সে।’