লক্ষ্মীপুরে যুবলীগ ও ছাত্রলীগ নেতা হত্যা: তারেক আজিজ রিমান্ডে

লক্ষ্মীপুরে সাবেক যুবলীগ নেতা আবদুল্লাহ আল নোমান ও সাবেক ছাত্রলীগ নেতা রাকিব ইমাম হত্যা মামলায় গ্রেফতার তারেক আজিজের পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। সোমবার (৮ মে) বিকালে চন্দ্রগঞ্জ আমলি আদালতের জ্যেষ্ঠ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আনোয়ারুল কবীর এ রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

তারেক আজিজ সদর উপজেলার বশিকপুর ইউনিয়নের নন্দীগ্রামের মৃত রফিক উল্যার ছেলে। তিনি হত্যা মামলার ১০ নম্বর আসামি। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও দত্তপাড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ উপপরিদর্শক বেলায়েত হোসেন রিমান্ডের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, ‌‘রবিবার তারেককে ঢাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়। আদালতে সোপর্দ করে ১০ দিনের রিমান্ড চাওয়া হয়েছিল। আদালত পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন। প্রধান আসামিকে গ্রেফতারে আমাদের অভিযান অব্যাহত আছে।’ 

পুলিশ জানায়, তারেক কল করে নোমানকে নাগেরহাটে যেতে বলেছেন। নাগেরহাটে যাওয়ার পথে নোমান ও রাকিবকে গুলি করে হত্যা করা হয়।

এরই মধ্যে নোমান ও রাকিব হত্যা মামলায় আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন আলমগীর হোসেন নামের এক আসামি। গত বুধবার সন্ধ্যায় চন্দ্রগঞ্জ আমলি আদালতে তার জবানবন্দি গ্রহণ করেন বিচারক আনোয়ারুল কবীর। এর আগের দিন মঙ্গলবার সন্ধ্যায় দেওয়ান ফয়সাল নামের আরেক আসামি স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। তিনি রামগঞ্জ উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক।

চন্দ্রগঞ্জ থানার ওসি মো. তাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘নোমান ও রাকিব হত্যা মামলায় এখন পর্যন্ত দুই জন স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। মামলায় এ পর্যন্ত ১২ জন গ্রেফতার হয়েছেন।’

গত ২৫ এপ্রিল রাতে সদর উপজেলার বশিকপুর ইউনিয়নের পোদ্দারবাজার এলাকায় জেলা যুবলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ আল নোমান ও জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক রাকিব ইমামকে গুলি করে হত্যা করা হয়। এ সময় তাদের ব্যবহৃত মোটরসাইকেল ও মোবাইল নিয়ে যায় সন্ত্রাসীরা। 

পরদিন রাতে নোমানের বড় ভাই ও বশিকপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাহফুজুর রহমান বাদী হয়ে ৩৩ জনের বিরুদ্ধে চন্দ্রগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা করেন। এতে চন্দ্রগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি আবুল কাশেম জিহাদীকে প্রধান করে ১৮ জনের নাম উল্লেখ ও অজ্ঞাত ১৫ জনকে আসামি করা হয়।