ফেনীতে বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের ওপর হামলার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এতে অন্তত ২৮ জন আহত হয়েছেন। আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা এ হামলা চালিয়েছেন বলে অভিযোগ বিএনপির।
বৃহস্পতিবার (১৮ মে) বিকাল থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত জেলার বিভিন্ন উপজেলায় এ হামলার ঘটনা ঘটে। এ সময় শতাধিক বাড়িঘরে হামলা ও লুটপাট করা হয়েছে বলে জেলা বিএনপির পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়। জেলা বিএনপির আহ্বায়ক শেখ ফরিদ বাহার এসব অভিযোগ করেছেন।
তিনি বলেন, ‘শুক্রবার ফেনী জেলা বিএনপির জনসভাকে কেন্দ্র করে পুরো জেলায় আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগ-যুবলীগ নেতাকর্মীরা বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন। তারা আমাদের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালিয়েছেন। এতে ২৮ নেতাকর্মী আহত হন। এ সময় শতাধিক বাড়িঘরে হামলা ও লুটপাট করা হয়েছে।’
হামলায় আহতদের মধ্যে পরশুরাম উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক শামসুল আলম শাকিল, সদর উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ইয়াছির আরাফাত, মোটবি ইউনিয়ন শ্রমিক দলের সভাপতি বাদল, যুবদল নেতা ইয়াসিন, মাসুম, ছনুয়া ইউনিয়ন ছাত্রদল নেতা হৃদয় ও ওমরের নাম জানা গেছে। তারা ফেনী জেনারেল হাসপাতালসহ বিভিন্ন ক্লিনিকে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
তবে হামলার অভিযোগের বিষয়টি জেলা আওয়ামী লীগের দফতর সম্পাদক শহীদ উল্লাহ খন্দকার অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, ‘বিএনপির এমন অভিযোগ কাল্পনিক।। নিজেদের অভ্যন্তরীণ কোন্দলকে চাপা দিতে আমাদের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করেছেন।’
জেলা বিএনপির সদস্য সচিব আলাল উদ্দিন আলাল বলেন, ‘১০ দফা দাবিতে কেন্দ্রীয় বিএনপির কর্মসূচির অংশ হিসেবে শুক্রবার জেলা বিএনপির উদ্যোগে জনসভায় ৫০ হাজার নেতাকর্মীর উপস্থিতির প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। শহরের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে জনসভা করতে চাইলেও প্রশাসন অনুমতি দেয়নি। একপর্যায়ে ইসলাপুর রোডের দলীয় কার্যালয়ে জনসভার আয়োজন করা হয়েছে।’
দলীয় সূত্র জানায়, জনসভায় বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মো. শাহজাহান প্রধান অতিথি হিসেব উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। হামলা-মামলা দিয়ে বিএনপির নেতাকর্মীদের দমিয়ে রাখা যাবে না। যেকোনো মূল্যে তারা শুক্রবার জনসভা করবেন বলে দলীয় নেতারা জানিয়েছেন।