চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের ভূমি অধিগ্রহণ (এলএ) শাখার এক সার্ভেয়ারসহ আট জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন এক সাংবাদিক। বুধবার (৭ জুন) চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল দেবের আদালতে মামলাটি করা হয়। আদালত আমলে নিয়ে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) তদন্ত করে ৩০ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে নির্দেশ দিয়েছেন।
মামলার বাদী আহমদ কবির আনোয়ারা উপজেলার বৈরাগ ইউনিয়নের মৃত দানা মিয়ার ছেলে। মামলার আসামিরা হলেন- নুরুল ইসলাম (৬০), নবী হোসেন (৩৫), মো. ফোরকান উর রশিদ (৩৪), উম্মে কাউছার (২৫), কমল কান্তি দে (৫৪), সালাউদ্দিন (৩৬), শফি তালুকদার (৩৭) ও আলমগীর (৩৫)। এর মধ্যে কমল কান্তি দে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের ভূমি অধিগ্রহণ শাখার সার্ভেয়ার হিসেবে কর্মরত।
মামলার এজাহারে বলা হয়, আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে ভুয়া জমির কাগজপত্র তৈরি করে আহমদ কবিরের মালিকানাধীন জমির ক্ষতিপূরণের অর্থ প্রতারণার মাধ্যমে তুলে নিয়েছে।
মামলার বাদী আহমদ কবির বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘কর্ণফুলী নদীর তলদেশে টানেল নির্মাণের জন্য ২০১৬-২০১৭ এবং ২০১৭-২০১৮ সালে আনোয়ারা উপজেলার বেশ কিছু জমি অধিগ্রহণ করা হয়। এর মধ্যে আমার পারিবারিক ও নিজের কেনা বেশ কিছু জমিও ছিল। বছরের পর বছর কাগজপত্র নিয়ে এলএ অফিসের এ কর্মকর্তার টেবিল থেকে আরেক কর্মকর্তার টেবিলে ধরনা দিয়েছি। অথচ এলএ অফিসের লোকজন নানা তালবাহানা আমাকে অধিগ্রহণের ক্ষতিপূরণের টাকা দেয়নি। বরং এলএ অফিসের কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারীর যোগসাজশে আমার জমির টাকা অন্যদের দিয়ে দিয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘সরকার আমার জমিও নিয়ে গেছে। ক্ষতিপূরণের টাকা চাইতে গিয়ে আমি মারধরেরও শিকার হয়েছি। তাই এর সুষ্ঠু প্রতিকার চেয়ে আদালতের আশ্রয় নিয়েছি।’
বাদীপক্ষের আইনজীবী গিয়াস উদ্দিন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘প্রতারণার মাধ্যমে ভূমির ক্ষতিপূরণের অর্থ আত্মসাৎ করার অভিযোগে এ মামলা করা হয়েছে। আসামিদের বিরুদ্ধে থানা এবং আদালত মিলে আরও ৯টি এ ধরনের মামলা ঝুলছে। এক নম্বর আসামি নুরুল ইসলামের বিরুদ্ধে আদেশ জালিয়াতিরও অভিযোগ আছে। আমরা এসব বিষয় আদালতকে জানিয়েছি। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে পিবিআইকে তদন্ত করে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।’