চট্টগ্রামের মীরসরাইয়ে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সঙ্গে যুবলীগের নেতাকর্মীদের সংঘর্ষ ও গুলির ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। এ সময় উভয়পক্ষের বেশ কয়েকটি গাড়ি ও মোটরসাইকেল ভাঙচুর করা হয়েছে।
শনিবার (১৭ জুন) বিকাল ৪টার দিকে উপজেলার ১১ নম্বর মঘাদিয়া ইউনিয়নের মিয়াপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আহতদের চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার বিকালে উপজেলার মিয়াপাড়া এলাকায় নুরুল আবছার চৌধুরী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে অনূর্ধ্ব-১৭ ফুটবল টুর্নামেন্টের প্রস্তুতি ম্যাচের আয়োজন করা হয়। খেলা চলার সময় মঘাদিয়া ইউনিয়নের টিম কোচ ছাত্রলীগকর্মী রবিনকে ডেকে নিয়ে যান যুবলীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য নিয়াজ মোর্শেদ এলিটের অনুসারীরা। এ সময় এলিটের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে ফেসবুকে অপপ্রচার চালানোর কারণ জানতে চেয়ে রবিনকে মারধর করেন এলিটের অনুসারী শাহিনসহ কয়েকজন। রবিন মঘাদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর হোসেন মাস্টারের অনুসারী। তাকে মারধরের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসেন চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর। রবিনকে মারধরের কারণ জানতে চাইলে চেয়ারম্যানকেও হেনস্তা করেন এলিটের অনুসারী শাহিনসহ অন্যরা। এ নিয়ে দুই পক্ষের নেতাকর্মীদের হাতাহাতি ও মারামারির ঘটনা ঘটে। তখন এলিটের অনুসারীদের পক্ষ থেকে গুলি ছোড়া হয়। এতে চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীরের অনুসারী ছাত্রলীগ কর্মী নিশান, রবিন ও সাকিবসহ পাঁচ জন আহত হন। এর মধ্যে নিশান ও সাকিবকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। কিছুক্ষণ পর পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হয়।
পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে ওই ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ইদ্রিস মিয়ার কবর জিয়ারত করতে যান এলিট ও তার অনুসারীরা। সেখান থেকে ফেরার পথে মীরসরাই ইকোনমিক জোন সড়কে এলিটের গাড়িবহরে হামলা চালান চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীরের অনুসারীরা। এতে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষে বাধে। সংঘর্ষে চট্টগ্রাম উত্তর জেলা যুবলীগ নেতা আছিফুর রহমান শাহীন, মীরসরাই উপজেলা যুবলীগ নেতা মো. আলী, রমজান আলী, শওকত আজিম রিংকু ও শাহাবুদ্দিন আহত হন।
এ বিষয়ে নিয়াজ মোর্শেদ এলিট বলেন, ‘সকাল থেকে সরকারের উন্নয়নের চিত্র তুলে ধরে প্রচারণা চালাচ্ছিলাম। বিকালে মীরসরাই ইকোনমিক জোনের দিকে যাওয়ার পথে সড়কে বালুর ট্রাক দিয়ে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেন চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর হোসেন ও তার অনুসারীরা। এ সময় চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে তার অনুসারী তৌহিদ আনোয়ার বাপ্পি, আবদুল্লাহ আল নাঈম রবিন, ফিরোজ খান, আবু নাসির রিপন, মোমিনুল ইসলাম আমার গাড়িবহরের সঙ্গে থাকা যুবলীগের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালান। হামলায় পাঁচ জন নেতাকর্মী গুরুতর আহত হন। তাদের চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। হামলার সময় আমাদের ছয়টি গাড়ি ভাঙচুর করা হয়েছে। হামলাকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেবো।’
তবে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করে মঘাদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, ‘রবিনকে মারধরের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গেলে এলিটের পিএস আসিফ রহমান শাহীন আমার ওপর চড়াও হন। এই খবর পেয়ে যুবলীগ ও ছাত্রলীগের কর্মীরা জড়ো হলে এলোপাতাড়ি গুলি ছুড়েছেন এলিটের গানম্যান। সেইসঙ্গে ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক তৌহিদ আনোয়ার বাপ্পির মোটরসাইকেলসহ একাধিক গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। তাদের হামলায় আমাদের পাঁচ কর্মী আহত হন।’
এ বিষয়ে জানতে চাইলে মঘাদিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি তোফায়েল উল্লাহ চৌধুরী নাজমুল বলেন, ‘কোনও কারণ ছাড়াই এলিটের বহর থেকে গুলি ছোড়া হয়েছে। এরপর উভয়ের অনুসারীরা সংঘর্ষে জড়ান। পরে এলিটের গাড়িবহর থেকে হামলা চালিয়ে বেশ কয়েকটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করা হয়। এতে কয়েকজন নেতাকর্মী আহত হন। এর মধ্যে সাবিক এবং নিশানকে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।’
হামলার প্রতিবাদে শনিবার সন্ধ্যায় মঘাদিয়া মিয়াপাড়া এলাকায় আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগ বিক্ষোভ মিছিল করেছে উল্লেখ করে তোফায়েল উল্লাহ চৌধুরী বলেন, ‘মীরসরাই আওয়ামী লীগে কখনও বিভক্তি ছিল না। ইদানিং বিএনপি পরিবারের সদস্য এলিট এখানকার আওয়ামী লীগের মূলধারার শক্তিকে খর্ব করে বিএনপির এজেন্ডা বাস্তবায়নের জন্য ঝামেলা সৃষ্টির পাঁয়তারা চালাচ্ছেন।’
জানতে চাইলে মীরসরাই থানার ওসি মো. কবির হোসেন বলেন, ‘সংঘর্ষে দুই পক্ষের কয়েকজন আহত হয়েছেন। এ নিয়ে এখনও কোনও পক্ষ থানায় অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
গুলি ছোড়ার বিষয়ে ওসি বলেন, ‘যদি এটি কর্তৃপক্ষের অনুমোদিত অস্ত্র হয়, তাহলে নিরাপত্তার কারণে গুলি ছুড়েছে হয়তো। তবে এটি বৈধ অস্ত্র কিনা এবং গানম্যানের অনুমোদন আছে কিনা, তা খতিয়ে দেখবো।’
অস্ত্র ও গানম্যান রাখার বিষয়ে জানতে চাইলে যুবলীগ নেতা নিয়াজ মোর্শেদ এলিট বলেন, ‘এটি বৈধ অস্ত্র। সরকার নিরাপত্তার স্বার্থে আমাকে বৈধ অস্ত্র ও গানম্যান দিয়েছে।’