ছাত্রদলের নারী কর্মীকে ‘নির্যাতনের’ পর পুলিশে দিলো ‘ছাত্রলীগ’

চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে নাদিয়া নুসরাত নামে ছাত্রদলের এক নারী কর্মীকে শারীরিকভাবে নির্যাতনের পর পুলিশে সোপর্দের অভিযোগ উঠেছে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। ঘটনাটি ঘটেছে গত বুধবার (১৪ জুন) রাতে উপজেলার ইছাখালী শাহাজী বাজার এলাকায়। পরে পুলিশ তাকে গত বছরের ডিসেম্বরে আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগে দায়ের একটি মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে পাঠায়। আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ প্রদান করেন।

এ প্রসঙ্গে চট্টগ্রাম উত্তর জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক সরোয়ার সেলিম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘গত বুধবার (১৪ জুন) নগরীর কাজির দেউড়ি মোড়ে বিএনপির অঙ্গ সংগঠন যুবদল, ছাত্রদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের আয়োজনে তারুণ্যের সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে যোগদান করেন ছাত্রদল কর্মী নাদিয়া নুসরাত। সেখান থেকে মিরসরাইয়ে ফেরার পর রাত ৯টার দিকে ইছাখালী শাহাজী বাজার এলাকা থেকে ছাত্রলীগের একদল নেতাকর্মী তাকে সিএনজি অটোরিকশা করে তুলে নিয়ে যান। প্রায় ৩-৪ ঘণ্টা তার ওপর নির্যাতন চালানো হয়। মধ্যরাতে নুসরাতকে জোরারগঞ্জ থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে নির্যাতনকারী ছাত্রলীগের লোকজন। একজন নারীর সঙ্গে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের এমন আচরণের পরও পুলিশ তাদের বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। বরং নাদিয়া নুসরাতকে গত বছরের একটি গায়েবি মামলায় আসামি করে আদালতে পাঠিয়েছে। অথচ ওই মামলায় তার নাম ছিল না।’

তবে মিরসরাই উপজেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক মিথুন শর্মা বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘বিএনপির নগরীর প্রোগ্রাম থেকে ফেরার পথে ছাত্রদলের ওই নারী কর্মীকে কে বা কারা আটকায়। পরে তাকে পুলিশের হাতে সোপর্দ করা হয় বলে আমি শুনেছি। তবে ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার ৬ নম্বর ইছাখালী ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডে।’ 

৬ নম্বর ইছাখালী ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক রিয়াদ হোসেন বাদশা বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘ছাত্রদলের নারী কর্মী কিংবা কোনও নারীকেই আমরা হেনস্তা করিনি। এ ধরনের কোনও ঘটনা আমার এলাকায় ঘটেনি। এ বিষয়ে আমি অবগত নই।’

চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, ‘বুধবার তারুণ্যের সমাবেশ থেকে নিজ বাড়ি মিরসরাইয়ে ফেরার পথে ছাত্রদল নেত্রী নাদিয়া নুসরাতকে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা শারীরিকভাবে হেনস্তা করে উল্টো পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছে। পুলিশ তাকে গত বছরের ডিসেম্বর মাসে দায়ের করা মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে প্রেরণ করে। তাকে মিথ্যা-গায়েবি মামলায় ফাঁসানো হয়েছে। আমরা এ ন্যাক্কারজনক ঘটনার নিন্দা জানাই। পাশাপাশি ছাত্রদল নেত্রীকে নির্যাতনে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি জানাচ্ছি।’

চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক গোলাম আকবর খোন্দকার বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘তারুণ্যের সমাবেশ থেকে ফেরার পথে ছাত্রদলের নারী কর্মী নাদিয়া নুসরাতকে অপহরণ করেছে কিছু ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীরা। এরপর তাকে শারীরিক হেনস্তা করা হয়। এ ঘটনায় মেয়েটির পরিবার অপহরণ মামলা করতে চেয়েছিল। অথচ উল্টো নিরীহ মেয়েটিকে গত বছরের গায়েবি মামলায় আসামি করে পুলিশ আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠিয়েছে। এটি অত্যন্ত জঘন্য একটি ঘটনা। এ ঘটনার প্রতিবাদে কাল রবিবার দুপুর ১২টায় নগরীর দলীয় কার্যালয় নাসিমন ভবনে সংবাদ সম্মেলন ডেকেছি। এরপর পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।’

এ প্রসঙ্গে মিরসরাই থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদ হোসেন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘২০২২ সালে দায়ের করা একটি মামলায় নাদিয়া নুসরাতের জড়িত থাকার প্রমাণ পেয়েছে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মামুন। এ কারণে তাকে এ মামলায় আটক দেখিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়। আদালত তাকে কারাগারে পাঠায়। এখানে অন্যকোনও বিষয় নেই।’