আজ রাতেই থানা ছাড়ছেন ওসি হাছান, কর্তৃপক্ষ বলছে ‘বদলি’

চট্টগ্রামের আনোয়ারা থানার ওসি মির্জা মোহাম্মদ হাছানকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২২ জুন) জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয়ের এক অফিস আদেশে তাকে প্রত্যাহার করে জেলা পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়।

জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (বিশেষ শাখা) আবু তৈয়ব মো. আরিফ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আনোয়ারা থানার ওসিকে প্রত্যাহার নয়, নিয়মিত বদলি করা হয়েছে। সেখানে নতুন ওসি পদায়ন পেয়েছেন।’

এদিকে অভিযোগ উঠেছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. তারেক চৌধুরীকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর অভিযোগ ওঠার পর তাকে প্রত্যাহার করা হয়।

ওসি মির্জা মোহাম্মদ হাছান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমার বদলির আদেশ এসেছে। শুক্রবার (২৩ জুন) রাতেই আমি নতুন ওসিকে দায়িত্ব বুঝিয়ে দেবো। আমি এসেছি অনেক দিন হয়েছে। নিয়মিত বদলির অংশ হিসেবে আমার স্থলে অন্যজনকে পদায়ন করা হয়েছে। পুলিশের চাকরিতে এটা নিয়মিত বিষয়।’

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. তারেক চৌধুরী বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার হাইলধর ইউনিয়নের খাসখামা এলাকায়। গত ২৭ মে রাত ৮টার দিকে আমার গ্রামের বাড়িতে সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটে। এতে ঘরবাড়ি ভাঙচুর করে নগদ টাকা, স্বর্ণালংকার লুট করে নিয়ে যায়। এ সময় বাড়ির নারী ও শিশুসহ চার জন আহত হয়। এ ঘটনায় আমার চাচি বাদী হয়ে হামলায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আনোয়ারা থানায় মামলা করেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘অপর দিকে হামলাকারীদের পক্ষ থেকে আমিসহ পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে একটি মিথ্যা মামলা করা হয়। মামলায় বলা হয়, আমি নাকি নিজেই হত্যার উদ্দেশ্যে তাদের ওপর হামলা করেছি। অথচ ঘটনার যে সময় দেখানো হয়েছে তখন আমি আনোয়ারায়ও ছিলাম না। ওই দিন চট্টগ্রাম শহরের বাসায় ছিলাম। মিথ্যা মামলাটি ছিল দণ্ডবিধি ৩০৭, ৩২৫ ও ৩২৬ ধারার মতো জামিন অযোগ্য গুরুতর অপরাধের। আনোয়ারা থানা পুলিশ কোনও তদন্ত না করে আমাদের বিরুদ্ধে উল্টো এমন জঘন্য মিথ্যা মামলা নেয়। বিষয়টি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতিকে জানাই। সমিতি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং পুলিশের আইজিসহ সংশ্লিষ্টদের জানায়। এর পরিপ্রেক্ষিতে ওসিকে প্রত্যাহার করা হয়েছে বলে জানতে পেরেছি।’