তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, ‘আজকে পত্রিকায় দেখলাম, অ্যামনেস্টি ইান্টারন্যাশনাল একটা বিবৃতি দিয়েছে। আমাদের শান্তিরক্ষী বাহিনীতে যারা র্যাবে কাজ করবে কিংবা মানবাধিকার লঙ্ঘনের সঙ্গে যুক্ত থাকবে তাদেরকে যেন স্ক্রিনিং করা হয় এবং শান্তিরক্ষী বাহিনীতে না নেওয়া হয়। আমরা অ্যামনেস্টিকে চিনি, তারেক রহমানের বেয়াইন আইরিন খান সংস্থাটির জেনারেল সেক্রেটারি ছিলেন। এখনও তিনি সেখানে যুক্ত আছেন। তিনি তারেক রহমানের বউয়ের চাচাতো বোন। এই অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল যুদ্ধাপরাধীদের যখন বিচার শুরু হলো, তখন তা বন্ধের জন্য বিবৃতি দিয়েছিল। ২০১৩, ১৪ ও ১৫ সালে যখন বিএনপি-জামায়াত মানুষ পুড়িয়ে হত্যা করছিল তখন সেটার বিরুদ্ধে বিবৃতি দেয়নি। আরেকটা সংগঠন আছে- হিউম্যান রাইটস ওয়াচ। তারাও মাঝেমধ্যে বিবৃতি দেয়।’
তিনি বলেন, ‘অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল ও হিউম্যান রাইটস ওয়াচের বিবৃতি কীভাবে, কোথায় ড্রাফট হয়, আর কিসের বিনিময়ে আসে সেটা আমরা জানি। যারা যুদ্ধাপরাধীদের রক্ষার জন্য বিবৃতি দেয়, ফিলিস্তিনিতে পাখি শিকারের মতো যেভাবে মানুষ মারা হয় তখন ইসরাইলের বিপক্ষে কোনও বিবৃতি দেয় না, আমাদের বিষয় নিয়ে বিবৃতি দেওয়ার নৈতিক কোনও অধিকার তাদের নেই। আমাদের দেশের কিছু পত্রপত্রিকা সেগুলোকে বড় করে ছাপায়। এই বিবৃতির কোনও মূল্য নেই। সুতরাং এগুলোতে বিভ্রান্ত হওয়ার দরকার নেই।’
শনিবার (২৪ জুন) বিকালে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের বঙ্গবন্ধু হলে দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর উপলক্ষে উত্তর জেলা আওয়ামী লীগ আয়োজিত সভায় তিনি এ কথা বলেন।
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী বলেন, ‘দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে। সেই কারণে আজকে বিএনপি-জামায়াতের পক্ষ থেকে দেশের বিরুদ্ধে লবিস্ট নিয়োগ করা হয়েছে। সেই লবিস্টের পেছনে মিলিয়ন বিলিয়ন ডলার খরচ করে কয়েকটা বিবৃতি আর কিছু কিছু কংগ্রেসম্যান কিংবা ইউরোপিয়ান পার্লামেন্ট মেম্বারের চিঠি ক্রয় করা হয় দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে।’
আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাছান মাহমুদ বলেন, ‘ইউরোপিয়ান পার্লামেন্টের মেম্বার হচ্ছে ৭০৫ জন। এর মধ্যে মাত্র পাঁচ জন বাংলাদেশের বিষয়ে ফরেন আ্যফেয়ার্স কমিটির চেয়ারের কাছে চিঠি দিয়েছে। যেটির কোনও মূল্য নেই। অথচ আমাদের দেশকেও চিঠি দেয়নি তারা। এটা নিয়ে কী যে মাতামাতি, পত্রিকায় কত সংবাদ! এতে পুলকিত মির্জা ফখরুল দেখি দুই ইঞ্চি লাফ দেয়।’
তিনি বলেন, ‘আপনাদের মনে আছে, ২০০২ সালে যখন বিএনপি ক্ষমতায়, তখন তাদের বিরুদ্ধে ইউরোপিয়ান পার্লামেন্ট সর্বসম্মতিক্রমে রেজুলেশন পাস করেছিল- বাংলাদেশে মানবাধিকার লঙ্ঘন হচ্ছে এবং আওয়ামী লীগসহ বিরোধী রাজনৈতিক দলের ওপর দমন-নিপীড়ন হচ্ছে। তখন ৭০০-এর বেশি পার্লামেন্ট মেম্বার ছিল। এখন ৭০৫ জনের মধ্যে মাত্র পাঁচ জন একটা চিঠি দিয়েছে। এগুলোতে ওনাদের কী লেগেছে জানি না, সম্ভবত কাতুকুতু লেগেছে।’
মন্ত্রী বলেন, ‘নির্বাচন সমাগত, এটি আমাদের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। এই নির্বাচন হচ্ছে দেশের সার্বভৌমত্ব ও ভূমি রক্ষার নির্বাচন। দেশ কী পাকিস্তান হবে, নাকি দেশ শেখ হাসিনার নেতৃত্বে উন্নয়ন অগ্রযাত্রার অভিযাত্রায় আরও দ্রুত বেগে এগিয়ে চলবে- সেটির ফয়সালার নির্বাচন। এই দেশে কোনও তাবেদারি সরকার বসবে, নাকি যারা দেশের সার্বভৌমত্ব বিকিয়ে দেবে তারা বসবে, নাকি শেখ হাসিনার মতো স্বাধীনচেতা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সরকার থাকবে সেটি ফয়সালার নির্বাচন।’
তিনি আরও বলেন, ‘দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত বিএনপি-জামায়াত। সুতরাং আগামী নির্বাচন সম্পর্কে আমাদেরকে সজাগ থাকতে হবে। দল আজকে সাড়ে ১৪ বছর ধরে ক্ষমতায়। আগের চিত্র আর আজকের চিত্র মানুষের সামনে তুলে ধরুন, সেই উন্নয়নের চিত্রগুলোই ফেসবুকসহ সাধারণ মানুষের সামনে তুলে ধরতে হবে। শুধু নিজের ছবি তুলে ফেসবুকে দেবেন সেই কর্মী আমাদের প্রয়োজন নেই। যে সমস্ত কর্মী উদ্যত আচরণ করে তারা দলের জন্য বোঝা, তাদের দায় দায়িত্ব দল নেবে না।’
উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এম এ সালামের সভাপতিত্বে সভায় আরও বক্তব্য রাখেন- উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শেখ আতাউর রহমান, সহ-সভাপতি অধ্যাপক মঈনুদ্দীন, এ টি এম পেয়ারুল ইসলাম, আবুল কালাম আজাদ, আফতাব উদ্দিন চৌধুরী, সাংগঠনিক সম্পাদিকা খাদিজাতুল আনোয়ার সনি এমপি, নাজিম উদ্দিন মুহুরী, এস এম রাশেদুল ইসলাম, দিলোয়ারা ইউসুফ, মো. সেলিম উদ্দিন, মাহাবুবুর রহমান রুহেল প্রমুখ।