খাগড়াছড়ি পৌর শহরের প্রধান প্রধান সড়কের সব ফুটপাত এখন অবৈধ দখলদারদের নিয়ন্ত্রণে। ফুটপাত দখল করে ফার্নিচার, রড, সিমেন্ট, টিনসহ বিভিন্ন পণ্যের ব্যবসা করছে দখলদাররা। কোনও কোনও সড়কের ওপর বসছে বাজার। এতে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে পথচারীদের। সৌন্দর্যও নষ্ট হচ্ছে পর্যটন শহর খাগড়াছড়ির। এতে শহরের বাসিন্দাদের মতো ক্ষুব্ধ পর্যটকরাও।
খাগড়াছড়ি জেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি সুদর্শন দত্ত বলেন, খাগড়াছড়ি শহরের নারিকেল বাগান সড়ক, মিলনপুর সড়ক, আদালত সড়ক, শহীদ কাদের সড়ক, কলেজ সড়ক, পানখাইয়া পাড়া সড়ক, মহিলা কলেজ সড়ক, জেলা পরিষদ সড়কসহ প্রায় ৩০টি সড়কের সড়ক সংলগ্ন ফুটপাত এখন ব্যবসায়ীদের দখলে। সড়কের পুরো ফুটপাত দখল করে তারা ব্যবসা পেতে বসে। এসব জায়গায় সড়কের ওপর বিভিন্ন পণ্যসামগ্রী রেখে চলছে বেচাকেনা। মাঝে মধ্যে বাজারের মধ্যে ট্রাক রেখে খালাস করা হচ্ছে মালামাল।
একই অবস্থা প্রায় সব প্রধান সড়কের দুইপাশে। অসংখ্য ট্রাক, মিনিট্রাক, পিকআপ, চাদের গাড়ি, জিপ ও সিএনজিসহ বিভিন্ন গাড়িকে পার্কিং করে দিনের পর দিন দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। এতে সড়কে সৃষ্টি হচ্ছে দীর্ঘ যানজটের। ফুটপাতে হাঁটতে পারছেন না পথচারীরা। বিভিন্ন সময় ঘটছে দুর্ঘটনা।
মিলনপুর এলাকার বাসিন্দা ও হোটেল ব্যাবসায়ী এস অনন্ত বিকাশ ত্রিপুরা বলেন, মিলনপুর সড়কে পুরো ফুটপাত ফার্নিচার ব্যবসায়ীদের দখলে। ফুটপাতের ওপর চলে ফার্নিচার ঘষামাজা। ফুটপাত দখলে সব চেয়ে বেশি সমস্যায় পড়ছে স্কুলগামী কোমলমতি শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকরা। এসব সড়কে চলাচলকারী শিক্ষার্থীরাও সময়মতো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাওয়া-আসা করছে পারছে না। অনেক সময় তারা দুর্ঘটনায় পড়ছে।
ঢাকা থেকে খাগড়াছড়ি বেড়াতে আসা পর্যটক আহমদ ফারহান ইমন বলেন, পাহাড়ি ছোট্ট শহর খাগড়াছড়ি অত্যন্ত সুন্দর। বেশিরভাগ হোটেল শহরের দু’পাশে অবস্থিত। ফুটপাতগুলো দখলমুক্ত থাকলে পর্যটকেরা ঘুরে ঘুরে শহর দেখতে পারতো। পাহাড়-নদী-প্রকৃতি দেখার পাশাপাশি শহর দেখতে পর্যটকদের ইচ্ছে থাকলেও ফুটপাত ব্যবসায়ীদের দখলে থাকায় তা হচ্ছে না। এই বিষয়ে পৌর কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।
খাগড়াছড়ির কমলছড়ির কৃষক কমল চাকমা বলেন, ফুটপাত দখলের থাকার কারণে বিভিন্ন এলাকার কৃষকসহ পথচারীহরা সীমাহীন দুর্ভোগের শিকার হতে হচ্ছে। পাহাড়ের মানুষ বিভিন্ন কৃষিপণ্য মাথায় করে বাজারে আসেন। কিন্তু ফুটপাত দখলে থাকার কারণে তাদের হাঁটতে হয় সড়কে নেমে। এতে তারা দুঘর্টনার শিকার হচ্ছেন।
খাগড়াছড়ি পৌরসভার ইঞ্জিনিয়ার মো. জামাল হোসেন বলেন, পৌরসভার নিয়ন্ত্রণে ৮৫ কিলোমিটার সড়ক আছে। প্রধান সড়কগুলোর পাশে প্রায় ৫ ফুট চওড়া ফুটপাতের পাশাপাশি প্রত্যেকটি আবাসিক এলাকায় ১০ ফুট রাস্তা এবং ৩ থেকে ৪ ফুট ফুটপাত করা হয়েছে। পথচারীদের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে প্রায় প্রত্যেক সড়কের পাশে ফুটপাত নির্মাণ করা হয়েছে। ফুটপাত দখল করে ব্যবসা করায় পথচারীদের যেমন ভোগান্তি হয়, তেমনি আমাদেরও কষ্ট হয়। প্রায় ফুটপাত দখলমুক্ত করা হয়। আবার ব্যাবসায়ীরা দখল করে। দখলদারদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান তিনি।
খাগড়াছড়ি পৌরসভার মেয়র নির্মলেন্দু চৌধুরী বলেন, শহরবাসীসহ সব ব্যবসায়ীকে সচেতন হতে হবে। ফুটপাত করার লক্ষ্য, উদ্দেশ্য ও ব্যবহার সম্পর্কে জানতে হবে। পথচারীদের দুর্ভোগ সম্পর্কে অনুধাবন করতে হবে। শহরের ফুটপাত মুক্ত করার জন্য তারা দ্রুত কাজ শুরু করবেন। তিনি আরও জানান, এছাড়াও পরবর্তীতে ব্যবসায়ীদের ট্রেড লাইসেন্স দেওয়ার সময় শর্ত জুড়ে দেওয়া হবে। শর্ত ভঙ্গ করলে ট্রেড লাইসেন্স বাতিলসহ আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।