আগামী ৩০ জুলাই চট্টগ্রাম-১০ (ডবলমুরিং, পাহাড়তলী ও হালিশহর) আসনের উপনির্বাচন। আওয়ামী লীগ মনোনীত মহিউদ্দিন বাচ্চুসহ মোট পাঁচ প্রার্থী নির্বাচনে লড়ছেন। তবে ভোটের মাঠে নৌকার প্রার্থী ছাড়া বাকি চার জন খুব একটা সক্রিয় নন। তবে নির্বাচনে জয়ের বিষয়ে সব প্রার্থীই আশাবাদী বলে জানিয়েছেন।
এদিকে, স্থানীয় ভোটারদের মাঝে তেমন আগ্রহ চোখে পড়েনি। এমনকি নির্বাচনে আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন কে পাচ্ছেন সেটি নিয়ে যতটুকু আগ্রহ দেখা গেছে, মূল ভোট নিয়ে সে পরিমাণ আগ্রহও নেই।
নৌকার প্রার্থী ব্যতীত বাকি চার প্রার্থী হলেন- স্বতন্ত্র প্রার্থী মনজুরুল ইসলাম ভূঁইয়া (রকেট), জাতীয় পার্টির মো. শামসুল আলম (লাঙ্গল), তৃণমূল বিএনপির দীপক কুমার পালিত (সোনালী আঁশ) ও গণমুক্তি জোটের রশিদ মিয়া (ছড়ি)।
পার্টির প্রার্থী মো. শামসুল আলম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘মানুষ যদি ভোট কেন্দ্রে যায় এবং কোন বাধাহীনভাবে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারে তাহলে আমি নির্বাচনে বিপুল ভোটে জয়লাভ করবো। এ বিষয়ে আমি শতভাগ আশাবাদী। তবে ভোটের পরিবেশ ঠিক রাখার জন্য নির্বাচনের দুদিন আগে থেকে যাতে সেনাবাহিনী নামানো হয় ইসির কাছে এ দাবি জানিয়েছি।’
তিনি দাবি করেন, ‘সরাইপাড়া একটি স্কুলের ভোটকেন্দ্রে শনিবার প্রবেশ করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু ওই স্কুল কেন্দ্রের পাহারাদার আমাকে ভেতরে প্রবেশ করতে দেননি। বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে রিটার্নিং কর্মকর্তা ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থাকে মৌখিকভাবে আমি জানিয়েছি। এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনে লিখিত অভিযোগ দেবো। যাতে কেন্দ্রটি বাতিল করা হয়।’
ছড়ি প্রতীক নিয়ে এ উপনির্বাচনে অংশ নেওয়া রশিদ মিয়ার রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোট (গণমুক্তি জোট)। তার গ্রামের বাড়ি সুনামগঞ্জের দিরাই পৌরসভায়। তার বাবা মৃত আব্দুল করিম। এই নির্বাচনে লড়তে তিনি চট্টগ্রামে এসেছেন। তার দলের চট্টগ্রামে কোনও অফিস নেই। উঠেছেন নগরীর স্টেশন রোডের একটি আবাসিক হোটেলে। কর্মী-সমর্থক না থাকলেও রশিদ মিয়াও জয়ের বিষয়ে আশাবাদী।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রশিদ মিয়া এর আগেও সুনামগঞ্জের দিরাই পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন। ২০২০ সালের ২৮ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত ওই পৌরসভা নির্বাচনে তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মোবাইল প্রতীকে করে ১৩৫ ভোট পেয়েছিলেন।
তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘চট্টগ্রামের মানুষ অনেক আন্তরিক। আমাকে খুব সহজে আপন করে নিয়েছেন। আমি আওয়ামী লীগ প্রার্থীর মতো এত বেশি পোস্টার-লিফলেট লাগাতে না পারলেও মানুষের দ্বারে দ্বারে যাওয়ার চেষ্টা করছি। ভোটাররা আমার কথা শুনছেন। নির্বাচনের পরিবেশ নিয়ে আমার কোনও অভিযোগ নেই। যদি সুষ্ঠু নির্বাচন হয় আশা করছি আমি অনেক ভোটে বিজয়ী হবো।’
সোনালী আঁশ প্রতীকের প্রার্থী দীপক কুমার পালিত বলেন, ‘আমি জাতীয় স্বাধীনতা পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছি। আমার দল রেজিস্ট্রেশন পাওয়ার অপেক্ষায় আছে। রেজিস্ট্রেশন না পাওয়ায় আমি তৃণমূল বিএনপি থেকে নির্বাচনে লড়ছি।’
তিনি বলেন, ‘আমার কর্মী-সমর্থকদের প্রচার-প্রচারণায় কৌশলে বাধা দেওয়া হচ্ছে। আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। যে কারণে আমি এক ধরনের নিঃসঙ্গ হয়ে পড়েছি। আজ যাকে প্রচারণায় পাশে পাচ্ছি, কাল তাকে পাচ্ছি না। এরপরও সাহস নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছি। সুষ্ঠু নির্বাচন হলে আমি ৬০ শতাংশ ভোট বেশি পেয়ে জয়লাভ করবো। মানুষের কাছে গেলে আমাকে বুকে টেনে নিচ্ছে। তবে মানুষকে ভোট কেন্দ্রে আনাটাই হবে বড় চ্যালেঞ্জ। যদি সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ থাকে তাহলে ভোটার কেন্দ্রে আসবে।’
স্বতন্ত্র প্রার্থী মনজুরুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, ‘আমি ডোর টু ডোর ভোটারদের দ্বারে দ্বারে যাচ্ছি। তবে ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জেনেছি অধিকাংশরই ভোট নিয়ে আগ্রহ নেই। যে কারণে ভোটারদের কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হবে বড় চ্যালেঞ্জ যদি সুষ্ঠু নির্বাচন হয় তাহলে আশা করি জয়লাভ করবো। অনেক আওয়ামী লীগ নেতাই আমার নিকট আত্মীয়। যদি নিবাচন সুষ্ঠু হয় তাহলে আমি জয়লাভ করবো।’
এদিকে, আওয়ামী লীগ প্রার্থী মহিউদ্দিন বাচ্চুর পোস্টার, ব্যানারে চেয়ে গেছে নির্বাচনি এলাকা। প্রতিদিনই তার পক্ষে প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছেন আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগসহ অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা। তিনিও জয়ের বিষয়ে আশাবাদী।
এই নির্বাচনের রিটার্নিং ও চট্টগ্রাম আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা মুহাম্মদ হাসানুজ্জামান বলেন, ‘এ আসনের উপনির্বাচনে ছয় জন প্রার্থী মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন। এর মধ্যে ছয় জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। এর মধ্যে একজনের মনোনয়নপত্র বাতিল হলেও বাকি পাঁচ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘এ আসনে মোট ভোটার চার লাখ ৮৮ হাজার ৬৩৮ জন। এর মধ্যে পুরুষ দুই লাখ ৪৮ হাজার ৯৩৮ ও নারী দুই লাখ ৩৯ হাজার ৬৭৭ জন। এ ছাড়াও ২৩ জন হিজড়া। ১৫৬টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে এক হাজার ২০১টি ভোটকক্ষে ভোটগ্রহণ হবে। নির্বাচন হবে ইভিএমের মাধ্যমে।’
উল্লেখ্য, সংসদ সদস্য ডা. আফছারুল আমীনের মৃত্যুতে এ আসনটি শূন্য ঘোষণা করে গত ৮ জুন তফসিল ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন। সে অনুযায়ী আগামী ৩০ জুলাই এখানে উপনির্বাচন। সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত একটানা ইভিএমে ভোটগ্রহণ চলবে। গত ২ জুন ঢাকার স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি।