এসিডে তানিয়া রহমানের গলা, বামহাতসহ মুখের এক তৃতীয়াংশ ঝলসে গেছে। বুধবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। তানিয়াকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
তানিয়া রহমান ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের কাজীপাড়া সৈয়দ বাড়ির মৃত সালাউদ্দিনের মেয়ে। দক্ষিণ মৌড়াইল এলাকায় স্বামীর বাসায় এক মেয়ে ও এক ছেলেকে নিয়ে থাকেন তিনি। স্বামীর সঙ্গে তার দীর্ঘদিন ধরে দাম্পত্য কলহ চলছিল বলে জানা গেছে।
সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগে তানিয়ার জা এলিনা রহমান জানান, ঘটনার সময় তানিয়া রান্নার কাজে ব্যস্ত ছিলেন। এসময় রান্নাঘরের জানালা দিয়ে কেউ একজন তাকে এসিড ছুঁড়ে পালিয়ে যায়। পরে তার চিৎকারে তিনিসহ অন্য প্রতিবেশীরা এগিয়ে আসেন। এরপর দ্রুত তাকে হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়।
তানিয়ার মামা বাবুল মিয়া জানান, নয় বছর আগে নজরুলের সঙ্গে তার ভাগনির বিয়ে হয়। সম্প্রতি কয়েক বছর ধরে নজরুল মানসিক বিকারগ্রস্ত হয়ে তানিয়াকে জ্বালাতন করতো। এ নিয়ে দুজনের মধ্যে ঝগড়া বিবাদ লেগেই থাকতো। গত চার/পাঁচদিন আগে নজরুলের এসব কর্মকাণ্ডের ব্যাপারে স্থানীয়ভাবে সালিশ বৈঠক হয়।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগে কর্মরত চিকিৎসক ফায়েজুর রহমান জানান, কেমিক্যাল বার্নের কারণে তানিয়া রহমানের গলা, বাম হাতসহ মুখের ৩২ থেকে ৩৫ শতাংশ (এক তৃতীয়াংশ) ঝলসে গেছে। তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
বিষয়টি নিশ্চিত করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাঈনুর রহমান জানান, খবর পেয়ে পুলিশের একটি দল তাৎক্ষণিকভাবে অভিযুক্ত নজরুল ইসলামকে আটক করে।
/এসএম/