অপহরণের নাটক সাজিয়ে শিশুকে মাদ্রাসায় নিয়ে ধর্ষণের পর হত্যা

কক্সবাজারের টেকনাফে তৃতীয় শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের পর নৃশংসভাবে হত্যা করেছে। হত্যার পর মধ্যরাতে লাশটি ফেলে দেয় মাদ্রাসার ড্রেনে। পরে অপহরণের নাটক সাজানোর জন্য ওই শিশুর পরিবারকে ফোন দিয়ে মুক্তিপণ দাবি করেছিল। 

টেকনাফের আল জামিয়াতুল ইসলামিয়া দারুসুন্নাহ মাদ্রাসায় শিশুটির সঙ্গে বর্বরোচিত এই ঘটনাটি ঘটে। এই ঘটনায় ওই মাদ্রাসার ভাইস প্রিন্সিপাল মুফতি আলী আহমেদের ছেলে হাফেজ মো. এরফানকে শুক্রবার (২৮ জুলাই) সন্ধ্যায় আটক করেছে র‍্যাব-১৫। পরে তার স্বীকারোক্তি মতে মাদ্রাসার ড্রেন থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়। আটক এরফান ওই মাদ্রাসার ছাত্র ছিল।

শুক্রবার রাত ১০টায় টেকনাফের ওই মাদ্রাসায় এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানিয়েছেন র‍্যাব-১৫ কক্সবাজারের ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক মেজর সৈয়দ সাদিকুল হক।

এর আগে, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে বাড়ির সামনে রাস্তা থেকে তাকে অপহরণের অভিযোগ ওঠে। সে টেকনাফের হ্নীলা ইউনিয়নের বাসিন্দা ও ওই মাদ্রাসার তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী। এরপর মুক্তিপণ চেয়ে পরিবারের কাছ থেকে পাঁচ লাখ টাকা দাবি করেছিল। 

সংবাদ সম্মেলনে আটকের বরাত দিয়ে মেজর সৈয়দ সাদিকুল ইসলাম বলেন, ‘মাদ্রাসা বন্ধ থাকার সুবাধে এরফান ওই শিশুকে ফুসলিয়ে মাদ্রাসায় নিয়ে যায়। পরে সেখানে কক্ষের ভেতরে ধর্ষণের পর হত্যা করে। এরপর এই ঘটনা ভিন্নখাতে নেওয়ার জন্য পাঁচ লাখ টাকা মুক্তিপণ চেয়ে অপহরণের নাটক সাজিয়েছিল।’

র‍্যাব বলছে, এখন পর্যন্ত এরফানের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী সে একাই ঘটনাটি ঘটিয়েছে। তবে অন্য কেউ জড়িত আছে কি না সেটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

এ বিষয়ে টেকনাফ মডেল থানার ওসি মোহাম্মদ জোবাইর সৈয়দ জানান, অপহৃত মাদ্রাসার শিক্ষার্থী লাশ উদ্ধারের পর ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

নিখোঁজ হওয়ার পর গতকাল তার মা বলেছিলেন, বৃহস্পতিবার আমার মেয়ে বাড়িতে ফেরার পথে অজ্ঞাতরা তাকে অপহরণ করে নিয়ে যায়। পরে আমার মোবাইলে কল করে মুক্তিপণ হিসেবে পাঁচ লাখ টাকা দাবি করে।