কক্সবাজারের টেকনাফের পাহাড়ি এলাকায় কৃষক বাবার সামনে অপহরণ করে নিয়ে যাওয়ার সময় অপহরণকারীকে কুপিয়ে নিজ সন্তানদের রক্ষা করেছেন বাবা শাহ আলম। পরে স্থানীয়দের মারধরে এক রোহিঙ্গা অপহরণকারী নিহত হয়েছেন। এ সময় আরও একজন আহত হয়েছেন। আহত ব্যক্তি কক্সবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
সোমবার সন্ধ্যায় টেকনাফ উপজেলার হোয়াইক্যং ইউনিয়নের মিনাবাজার ঘোনা নামক এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।
নিহত রোহিঙ্গার পরিচয় নিয়ে ধোঁয়াশা সৃষ্টি হয়েছে। প্রথমে নিহত অপহরণকারী উখিয়া উপজেলার কুতুপালং শিবিরের ১ নম্বর ক্যাম্পের বাসিন্দা আজিমুল্লাহ এবং আহতের নাম মোহাম্মদ হাশেম বলে পরিচয় দেওয়া হয়। তবে আজ মঙ্গলবার বিকাল থেকে নিহত ব্যক্তি শীর্ষ রোহিঙ্গা ‘ডাকাত সর্দার’ আবদুল হাকিম ওরফে হাকিম ডাকাত বলে প্রচার হয়। আহত ব্যক্তি হাকিমের ভাই বশির উল্লাহ বলে জানা গেছে। তবে ২০২০ সালে বশির উল্লাহর গুলিবিদ্ধ মরদেহ উদ্ধার করেছিল পুলিশ।
টেকনাফ থানার ওসি মোহাম্মদ জোবাইর ছৈয়দ জানান, নিহত অপহরণকারীর পরিচয় নিশ্চিত হতে কাজ করছে পুলিশ।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, সোমবার সন্ধ্যায় স্থানীয় শাহ আলমের দুই ছেলে আবছার উদ্দিন ও খাইরুল আমিন পাহাড় থেকে গৃহপালিত গরু নিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন। এসময় আবছারকে অপহরণকারীর বেঁধে ফেলে। এসময় ছোট ভাই খাইরুল চিৎকার করলে তাদের পেছনে থাকা বাবা শাহ আলম এসে দুই রোহিঙ্গা অপহরণকারীকে ধাওয়া করে ধরে ফেলে। এসময় তার সঙ্গে স্থানীয় লোকজনও জড়ো হয়। একপর্যায়ে দুই অপহরণকারীকে ধরে মারধর করে এলাকাবাসী। পরে পুলিশ এসে তাদের উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক একজনকে মৃত বলে জানান।
টেকনাফ থানার ওসি আরও বলেন, নিহতের লাশ ময়নাতদন্তের পর সদর হাসপাতাল মর্গে রাখা হয়েছে। কেউ এ পর্যন্ত মরদেহের দাবি নিয়ে পুলিশের কাছে আসেনি।
সম্প্রতি টেকনাফের পাহাড়ি এলাকায় অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায় ও গুমের ঘটনা ঘটছে। গত সাত মাসে সেখানে অন্তত ৭০টি অপহরণ হয়েছে।