চিকিৎসকদের বাইরে রোগী দেখতে বাধা, তত্ত্বাবধায়ককে লাঞ্ছিতের ঘটনায় তদন্ত শুরু

ব্রাহ্মণবাড়িয়া ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়কের সঙ্গে আবাসিক চিকিৎসকদের বিরোধের ঘটনায় তদন্ত শুরু করেছে প্রতিনিধি দল। মঙ্গলবার (১ আগস্ট) সকালে  চট্টগ্রামের স্বাস্থ্য অধিদফতরের বিভাগীয় পরিচালক ডা. মহিউদ্দিনের নেতৃত্বে তিন সদস্যের প্রতিনিধি দল এই তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেছেন।

এদিকে চিকিৎসকদের এই বিরোধের ঘটনায় দফায় দফায় বৈঠকের কারণে দ্বিতীয় দিনের মতো অন্তত দুই ঘণ্টা চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হন রোগীরা। এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন রোগীসহ তাদের স্বজনেরা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট সদর হাসপাতালের দুই আবাসিক চিকিৎসক রানা নূরুস শামস ও ফাইজুর রহমান ফয়েজের বিরুদ্ধে সরকারি সেবা বন্ধ রেখে প্রাইভেট প্র্যাকটিসের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। এ অবস্থায় সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন না করায় চলতি মাস থেকে অভিযুক্ত দুই চিকিৎসকের বেতন বন্ধ রাখার সুপারিশ করেন হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে সোমবার সকালে তত্ত্বাবধায়কের কক্ষে গিয়ে তাকে লাঞ্ছিত করেন অভিযুক্তরা।

এ সময় কৌশলে হাসপাতালের সিসি ক্যামেরা বন্ধ করে রাখেন তারা। এদিকে, হাসপাতালের চক্ষু বিভাগের চিকিৎসক ওবায়দুল্লাহর দাবি অনুযায়ী সপ্তাহে তিন দিন রোগী না দেখার আবেদনে সাড়া না দেওয়ায় একজোট হয়ে লাঞ্ছিত করেন তত্ত্বাবধায়ককে। এ ঘটনার পর মঙ্গলবার সকালে চট্টগ্রাম স্বাস্থ্য অধিদফতরের বিভাগীয় পরিচালক ডা. মহিউদ্দিনের নেতৃত্বে উচ্চ পর্যায়ের তিন সদস্যের প্রতিনিধিদল ঘটনার তদন্ত শুরু করেছেন।

তারা হাসপাতালের চিকিৎসকদের সঙ্গে বৈঠক করেন। আগামী সাত দিনের মধ্যে স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক বরাবর তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেবেন।

হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে এসে ভোগান্তির শিকার সদর উপজেলা সুহিলপুরের আসমা বেগম বলেন, হাসপাতালে ডাক্তার দেখানোর জন্য টিকিট নিয়ে দরজার সামনে এসে দেখি ডাক্তার নেই। অনেক সময় অপেক্ষা করেও দেখাতে পারিনি। ডাক্তাররা নাকি কিসের মিটিং করতেছে। আমরা রোগীরা অপেক্ষা করছি ডাক্তার কখন আসবে আমরা জানি না।