‘বিএনপি বুঝে গেছে শেখ হাসিনাকে সরানো তাদের পক্ষে সম্ভব নয়’

তথ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, ‘বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের পেছনে স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি, বিদেশি ষড়যন্ত্র ও বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক বিরোধী পক্ষ জড়িত ছিল। সেই কারণে হত্যাকাণ্ডের পর তার রাজনৈতিক বিরোধী পক্ষ উল্লাস প্রকাশ করেছিল এবং তারা হত্যাকারীদের সঙ্গে হাত মিলিয়েছিল। বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করার যুক্তি হিসেবে খুনিরা বলেছিল, তিনি এত জনপ্রিয় মানুষ ছিলেন, মানুষকে এত উজ্জীবিত করতে পারেন, তাকে হত্যা করা ছাড়া উপায় ছিল না।’

বিএনপির সঙ্গে এখন আর বিদেশি কোনও শক্তি নেই উল্লেখ করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘তারা মহাসমাবেশের ডাক দিয়েছিল, অর্থাৎ আন্দোলনের বেলুন ফুলিয়েছিল। পরদিন ঢাকার প্রবেশমুখ অবরোধ করেছিল, এরপর দেখা গেলো আন্দোলনের যে বেলুন ফুলেছিল, তা ফুটে গেছে। বিএনপিও বুঝে গেছে, শেখ হাসিনাকে সরানো তাদের পক্ষে সম্ভব নয়, সেজন্য দেখেন না বেলুন ফুলানোর পর ধীরে ধীরে বাতাস কমে যাচ্ছে। এখন আর আন্দোলনের বেলুন ফুলাতে পারছে না তারা।’

বৃহস্পতিবার (১৭ আগস্ট) সন্ধ্যায় চট্টগ্রামের এলজিইডি মিলনায়তনে জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে উত্তর জেলা আওয়ামী লীগ আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

আন্দোলনের বেলুন না ফোলার কারণে এখন লিফলেট বিতরণ আর হাঁটা কর্মসূচি দিয়ে যাচ্ছে বিএনপি উল্লেখ করে হাছান মাহমুদ বলেন, ‘কয়দিন হাঁটা কর্মসূচি, কয়দিন বসা কর্মসূচি, আবার কয়দিন দৌড়ানো কর্মসূচি দিয়ে কর্মীদের চাঙা রাখার চেষ্টা করছে বিএনপি। তাদের কর্মীরাও জেনে গেছে, বিদেশিদের পদলেহন করে কোনও লাভ হয় নাই। বিদেশিরাও তাদের তত্ত্বাবধায়ক সরকার, তথাকথিত নিরপেক্ষ সরকার, এগুলোর প্রতি কোনও সমর্থন জানায়নি। সেজন্য বিএনপি আন্দোলনের বেলুন আর ফুলাতে পারছে না। একটু বাতাস ঢুকে, আবার বের হয়ে যায়, এই হচ্ছে বিএনপির দশা।’

তারেক রহমান বিএনপিকে লাঠিয়াল বাহিনী হিসেবে ব্যবহার করতে চায় উল্লেখ করে ড. হাছান মাহমুদ বলেন, ‘দলের নেতাদের কোনও নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে দিতে চান না তিনি (তারেক রহমান)। আগামী নির্বাচনের পর বুঝতে পারবে, এই লাঠিয়াল বাহিনী ছোট হয়ে গেছে। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের নীতি হচ্ছে, যতদিন তিনি ইলেকশন করতে পারবেন না, ততদিন বিএনপির কেউ ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বার পদেও নির্বাচন করতে পারবেন না। বিএনপি এখন আবার ষড়যন্ত্রের পথ বেছে নিয়েছে। তারা বুঝতে পেরেছে, নির্বাচনে গেলে জয়ের সম্ভাবনা নাই, এজন্য নির্বাচন বানচাল করার পথ বেছে নিয়েছে।’ 

তারেক রহমানের লাঠিয়াল হিসেবে ব্যবহৃত বিএনপি নেতাদের কাছে প্রশ্ন রেখে হাছান মাহমুদ বলেন, ‘ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আপনাদের ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান-মেম্বার হতে দেন না, সিটি করপোরেশনের মেয়র-কাউন্সিলর নির্বাচন করতে দেন না, সংসদ নির্বাচন করতে দেন না, এমপি নির্বাচিত হওয়ার পর শপথ গ্রহণ করতে দেন নাই মির্জা ফখরুল সাহেবকে। আবার নির্বাচিতদের পদত্যাগ করতে বাধ্য করেছেন। আপনারা কি তারেক রহমানের লাঠিয়াল বাহিনী হিসেবে ব্যবহৃত হবেন? আগামী নির্বাচনের পর বুঝতে পারবেন, এই লাঠিয়াল বাহিনী ছোট হয়ে গেছে।’

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাছান মাহমুদ আরও বলেন, ‘আগামী নির্বাচনে বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব বুঝতে পারবে, তারা নির্বাচন বর্জন করলেও নেতাদের অনেকে বর্জন করবেন না। নির্বাচনে জনগণের অংশগ্রহণই হচ্ছে মুখ্য, যদি মানুষ ব্যাপকভাবে অংশগ্রহণ করে সেখানে কোন দল অংশগ্রহণ করলো, সেটি মুখ্য নয়। সিটি করপোরেশন নির্বাচন বিএনপি বর্জন করেছিল, তাদের কোনও নেতাকে ইলেকশন করতে দেয় নাই, এরপরও অনেকে করেছে এবং ৫০ শতাংশের বেশি ভোট পড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে ৩০-৪০ শতাংশ ভোট কাস্ট হয়। আমাদের এখানে নির্বাচন বিরোধিতা এবং এত অপপ্রচারের পরও ৫০ শতাংশের বেশি ভোট পড়েছে। আগামী নির্বাচনেও জনগণ অংশগ্রহণ করছে কিনা, সেটি হচ্ছে মুখ্য, সেখানে বিএনপি নেতারা কিংবা বিএনপি অংশগ্রহণ করলো কিনা, সেটি মুখ্য নয়। কেউ আসুক কিংবা নাই আসুক জনগণের অংশগ্রহণে সুষ্ঠু নির্বাচন হবে এবং জননেত্রী শেখ হাসিনা পরপর চারবার প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হবেন।’

আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান এম এ সালাম। যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক দেবাশীষ পালিতের সঞ্চালনায় সভায় আরও বক্তব্য রাখেন উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শেখ আতাউর রহমান, চট্টগ্রাম জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান এটিএম পেয়ারুল ইসলাম, সহসভাপতি ও রাঙ্গুনিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান স্বজন কুমার তালুকদার, অধ্যাপক মঈনুদ্দিন, আবুল কালাম আজাদ এবং উত্তর জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম প্রমুখ।