ট্রলারে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণ, গুরুতর দগ্ধ ১০ জনকে চট্টগ্রাম মেডিক্যালে ভর্তি

কক্সবাজারে মাছ ধরার একটি ট্রলারে গ্যাসের সিলিন্ডার বিস্ফোরণে ১২ জেলে দগ্ধ হয়েছেন। এর মধ্যে গুরুতর অবস্থায় ১০ জনকে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

শুক্রবার (০১ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টার দিকে শহরের বাঁকখালী নদীর নুনিয়াছটার ৬ নম্বর ঘাট এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। দুপুরে তাদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন চিকিৎসক।

চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তিকৃত জেলেরা হলেন আইয়ুব আলী (৫৫), দীল মোহাম্মদ (৩৬), রফিকুল ইসলাম (২২), মনির হোসেন (২৬), শফিকুল ইসলাম (২৬), আরমান আলী (২০), রহিম উল্লাহ (৪২), রহিমুল্লাহ (৩০), শাহিন আলম (৩৫) এবং ওসমান গণি (২০)। দগ্ধরা মোহাম্মদ সেলিমের মালিকানাধীন ট্রলারের জেলে। তারা কক্সবাজার পৌর শহরের ১ নম্বর ওয়ার্ডের কুতুবদিয়া পাড়া ও সমিতি পাড়ার বাসিন্দা।

চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, দীল মোহাম্মদ ও রহিম উল্লাহর শরীরের ৯০ শতাংশ, আরমানের ৭০ শতাংশ, শাহিন ও ওসমানের ৬০ শতাংশ এবং আইয়ুব আলীর ৬৫ শতাংশ পুড়ে গেছে। বাকিদের শরীরের ৩০-৪০ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে।

চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির এসআই নুরুল আলম আশিক বলেন, ‘আহত ১০ জনকে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটে ভর্তি করা হয়েছে। ভর্তি হওয়া সবার শরীরের কমবেশি দগ্ধ হয়েছে। এর মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর।’

দগ্ধ আইয়ুব আলীর ছেলে মো. মহিবুল্লাহ বলেন, ‘আবার বাবার অবস্থা খুবই খারাপ। তার পুরো শরীরে ব্যান্ডেজ লাগানো হয়েছে। এখানের চিকিৎসক-নার্সদের ঠিকমতো পরামর্শ পাচ্ছি না।’

চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শামীম আহসান বলেন, ‘দগ্ধদের সর্বোচ্চ সেবা দিচ্ছেন চিকিৎসক-নার্সরা। এর মধ্যে অনেকের শরীরের বেশিরভাগ পুড়ে গেছে।’

কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) মোহাম্মদ আশিকুর রহমান বলেন, ‌‘দগ্ধ ১২ জেলের মধ্যে ১০ জনকে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। দুই জনকে এখানে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। ওই দুই জনের শরীরের ৩০ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে।’

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বঙ্গোপসাগর থেকে ইলিশ ধরে ট্রলারের জেলেরা বাঁকখালী নদীর ফিসারিঘাটে আসেন। সকাল ১০টার দিকে ট্রলারটি নদীর ফিসারিঘাটের ৬ নম্বর ঘাটে পৌঁছায়। এরপর সাগর থেকে আহরিত মাছ খালাস করা হচ্ছিল। পাশে চলছিল গ্যাসের সিলিন্ডারে রান্না। হঠাৎ বিকট শব্দে সিলিন্ডারটি বিস্ফোরিত হয়। এতে ট্রলারের ১২ জেলে আহত হন।