চট্টগ্রামের কালুরঘাট সেতু সংস্কারের জন্য গত ১ আগস্ট থেকে এই সেতু দিয়ে বন্ধ রয়েছে যানবাহন ও রেল চলাচল। তিন মাসের মধ্যে সংস্কার কাজ শেষ করে উন্মুক্ত করে দেওয়ার কথা রয়েছে। এ সময়ে সেতুর নিচ দিয়ে চলাচল করছে ফেরি। এ ফেরি পরিচালনার জন্য ঘাট ইজারা দেওয়ার জন্য সাতবার টেন্ডার আহ্বান করেছে সড়ক ও জনপদ বিভাগ (সওজ)। তবে এখনও মিলেনি কাঙ্ক্ষিত ইজারাদার।
প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, এই সেতু সংস্কার করতে তিন মাস লাগবে। কিন্তু সওজ ঘাটটি তিন বছরের জন্য ইজারা দিচ্ছে। অথচ সেতু চালু হলে ঘাটের প্রয়োজনীয়তা কমে আসবে। তাই বিষয়টিকে অনেকেই রহস্য হিসেবে দেখছেন।
তবে টেন্ডার প্রক্রিয়া অংশ নেওয়া ইজারাদার প্রতিষ্ঠানগুলোর দাবি, সওজ কর্মকর্তারা পছন্দের ঠিকাদার খুঁজছেন। যাতে মিলেমিশে অর্থের লুটপাট করতে পারেন। এ কারণে টেন্ডারে সর্বোচ্চ দরদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোকে কাজ দিতে নানা বাহানা করছেন। সপ্তমবারে এসে শীর্ষ দরদাতাকে বাদ দিয়ে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ দরদাতাকে কাজ দেওয়ার পাঁয়তারা করছে সওজ।
এদিকে, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এ কে এন্টারপ্রাইজের মালিক মো. আবুল কালাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘সর্বশেষ টেন্ডারে আমার প্রতিষ্ঠান দুই কোটি ২৫ লাখ টাকা দর দিয়েছিল। আমার প্রতিষ্ঠান সর্বোচ্চ দরদাতা হয়েছে। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ দরদাতা হয়েছে দুই কোটি ১৪ লাখ টাকা এবং তৃতীয় সর্বোচ্চ দরদাতা ছিল এক কোটি ৭৫ লাখ টাকা। অথচ আমাকে কাজ না দিয়ে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ দরদাতাকে কার্যাদেশ দেওয়ার পাঁয়তারা করছে সড়ক ও জনপদ বিভাগ। ইতোমধ্যে সওজ কর্মকর্তাদের অপতৎপরতা লক্ষ্য করতে পেরে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছি।’
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মাহফুজ অ্যান্ড ব্রাদার্সের মালিক মো. মাহফুজুল হক বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘ফেব্রুয়ারি থেকে ফেরি চলাচলের টেন্ডার আহ্বান শুরু করেছে সড়ক ও জনপদ বিভাগ। প্রথমবার থেকে আমার প্রতিষ্ঠান টেন্ডারে অংশগ্রহণ করে। প্রতিবারই আমার প্রতিষ্ঠান সর্বোচ্চ দরদাতা নির্বাচিত হয়। এরপরও আমার প্রতিষ্ঠানকে ফেরি পরিচালনার দায়িত্ব না দিয়ে সপ্তমবার টেন্ডার আহ্বান করা হয়। অথচ সপ্তম ধাপে সর্বোচ্চ দরদাতা প্রতিষ্ঠানকে বাদ দিয়ে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ দরদাতা প্রতিষ্ঠানকে কাজ পাইয়ে দেওয়ার অপতৎপরতা হচ্ছে।’
সড়ক ও জনপদ বিভাগ সূত্র জানিয়েছে, তিন বছরের জন্য কর্ণফুলী নদীর ফেরিঘাট ইজারা দেওয়ার জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। ইতোমধ্যে সাতবার এ টেন্ডার আহ্বান করা হয়।
রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের প্রধান প্রকৌশলী মো. আবু জাফর মিঞা বলেন, ‘১ আগস্ট থেকে সংস্কারের জন্য কালুরঘাট রেলওয়ে সেতু বন্ধ রাখা হয়েছে। আগামী ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত সেতুটির সংস্কার কাজের জন্য সব ধরনের যানবাহন ও ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকবে। এরপর কাজ শেষ হলে সেতুটি আগের মতো যানবাহন ও রেল চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে।’
এদিকে, স্থানীয় লোকজনের প্রশ্ন তিন মাসের জন্য বন্ধ হওয়া কর্ণফুলী নদীর নীচে তিন বছরের জন্য ফেরি চলাচলের ইজারা দেওয়া রহস্যজনক।
এ প্রসঙ্গে বোয়ালখালী উপজেলার বাসিন্দা এমরান হোসেন মিয়া বলেন, ‘কালুরঘাট ব্রিজ সংস্কারের জন্য তিন মাস লাগার কথা। যদি বেশি লাগে আরও একমাস সময় বাড়তে পারে। তবে তিন বছরের জন্য এ টেন্ডার আহ্বান করাও রহস্যজনক। ইতোমধ্যে একমাস চলে গেছে। কালুরঘাট সেতু সচল হলে সেক্ষেত্রে ফেরির কোনও গুরুত্ব থাকবে না। ওই ফেরি অকেজো হয়ে যাবে।’
সড়ক ও জনপদ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী পিন্টু চাকমা বলেন, ‘কাঙ্ক্ষিত দরদাতা না পাওয়ার কারণে সাতবার টেন্ডার আহ্বান করা হয়। সর্বশেষ টেন্ডারে সর্বোচ্চ দরদাতাকে নয়; দ্বিতীয় সর্বোচ্চ দরদাতাকে ইজারা দেওয়ার জন্য সুপারিশ করেছি আমরা। কেননা সর্বোচ্চ দরদাতা টেন্ডারের শর্ত মেনে জামানতের পে-অর্ডার দেননি। এ কারণে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ দরদাতার বিষয় উল্লেখ করে মন্ত্রণালয়ে সুপারিশ পাঠানো হয়। মন্ত্রণালয় যেভাবে নির্দেশনা দেবেন আমরা সেভাবে কাজ করবো।’