জানা গেছে, গত ২৫ ফেব্রুয়ারি ছিল মনোনয়নপত্র বাছাইয়ের শেষ দিন। বাছাইয়ে অনেকের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়ে গেছে। কিন্তু এর মধ্যে বাছাইয়ে টিকে যাওয়া প্রার্থীরা নেমে পড়েছে প্রচারণার মাঠে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চকরিয়া পৌরসভায় মেয়র পদে চারজন মনোনয়নপত্র দাখিল করলেও পৌরসভার প্রথম নির্বাচিত চেয়ারম্যান আনোয়ারুল হাকিম দুলাল মিয়া ও জাতীয় পার্টির প্রার্থী জসিম উদ্দিনের মনোনয়নপত্র ঋণ খেলাপীর দায়ে বাতিল হয়েছে। আওয়ামী লীগের স্বতন্ত্র প্রার্থী ফজলুল করিম সাঈদী শেষ মুহূর্তে মনোনয়ন প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। এখন প্রতিদ্বন্দ্বিতায় করছেন মাত্র দুই প্রার্থী। তারা হলেন, আওয়ামী লীগের আলমগীর চৌধুরী ও বিএনপি প্রার্থী বর্তমান মেয়র নূরুল ইসলাম হায়দার। ফলে দুই প্রার্থীই সিরিয়াস হয়ে উঠেছেন।
আলমগীর চৌধুরীর মনোনয়ন নিশ্চিত হওয়ার পর তিনি এক মুহূর্তও বসে থাকেননি। তিনি চকরিয়ায় বিশাল শোডাউন করেছেন।এই জন্য তার বিরুদ্ধে আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছে। আলমগীর চৌধুরী ঢাকা ফেরার পরই ফজলুল করিম সাঈদী প্রার্থীতা প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়ে, সরাসরি আলমগীর চৌধুরীর প্রচারণায় অংশ নেন। যার ফলে আলমগীর চৌধুরীর প্রচারণার শুরুতেই জমে উঠেছে।
অন্যদিকে,বিএনপির প্রার্থী বতর্মান মেয়র নূরুল ইসলাম হায়দায় মনোনয়নপত্র বাছাইয়ের পর থেকে তার নির্বাচনী টিম নিয়ে মাঠে নেমে পড়েছেন। তিনিও এরইমধ্যে পৌরসভার অনেক এলাকায় গণসংযোগ করেছেন। ঘুরছেন ভোটারদের দ্বারে দ্বারে। তবে স্থানীয় ভোটারদের অভিমত, প্রচারণায় আলমগীর চৌধুরী থেকে অনেকটা পিছিয়ে রয়েছেন মেয়র হায়দার।
অপরদিকে, দ্বীপ উপজেলা মহেশখালী পৌরসভায় আওয়ামী লীগের প্রার্থী বর্তমান মেয়র মকছুদ মিয়া নির্বাচনী প্রচারণা চলছে জোরেশোরে। ২২ ফেব্রুয়ারি বিশাল বহর নিয়ে মনোনয়নপত্র জমা দানের মাধ্যমে তিনি নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করেন। তিনি তার বর্তমান মেয়াদের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের ফিরিস্তি তুলে ধরে ভোটারদের আকৃষ্ট করছেন। মকছুদ মিয়ার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে নির্বাচনী প্রচারণা চালাচ্ছেন সাবেক মেয়র সরওয়ার আজম। তিনিও মরিয়া হয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছেন ভোটারদের দ্বারে দ্বারে। অন্যদিকে বিএনপির প্রার্থী মহিউদ্দীন বাশি এখনো তেমন প্রচারণা চালাতে পারেননি। এ ছাড়া মেয়র প্রার্থী হিসেবে মহেশখালী পৌরসভায় প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন সরওয়ার আজমের ভাই অ্যাডভোকেট হামিদুল হক ও মেয়র মকছুদ মিয়ার স্ত্রী সাবরিনা। কিন্তু মূলত প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে মকছুদ মিয়া আর আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী সরওয়ার আজমের মধ্যে। কিন্তু অন্যরা ‘ডামি’ প্রার্থী হওয়ায় তারা প্রচারণা নেই বলে জানিয়েছেন স্থানীয়দের।
চকরিয়া ও মহেশখালী পৌরসভায় মেয়র প্রার্থীদের পাশাপাশি কাউন্সিলর প্রার্থীরাও সমানতালে প্রচারণা শুরু করেছেন বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। এই দুই পৌরসভার একদিন আগেই ২৪ ফেব্রুয়ারি সম্পন্ন হয়েছে মহেশখালী, কুতুবদিয়া ও টেকনাফের ১৯ ইউনিয়নের মনোনয়নপত্র বাছাই। মনোনয়ন বাছাইয়ে টিকে থাকা চেয়ারম্যান এবং সদস্য ও সংরক্ষিত মহিলা সদস্যরা নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করেছে।এরমধ্যে রয়েছে মহেশখালী সাত ইউনিয়ন, টেকনাফের ছয় ইউনিয়ন ও কুতুবদিয়ার ছয় ইউনিয়ন। এসব ইউনিয়নের সব কটিতে আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জাতীয় পার্টির একক প্রার্থীরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। একই সঙ্গে একেকটি ইউনিয়নে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে তিন থেকে পাঁচজনের বেশি স্বতন্ত্র প্রার্থী।
এর মধ্যে তিন উপজেলার ১৯ ইউনিয়নের ১৩ ইউনিয়নের রয়েছে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী। এর মধ্যে কুতুবদিয়ার চার ইউনিয়ন, মহেশখালীতে তিন ইউনিয়ন ও টেকনাফের ছয়টি ইউনিয়নেই বিদ্রোহী প্রার্থীর বিরুদ্ধে লড়তে হবে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ প্রার্থীদের।
সূত্র মতে, সব ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির চেয়ারম্যান প্রার্থীরা প্রচারণা শুরু করে দিয়েছে। একই সঙ্গে অনেক ‘হেভিওয়েট’ স্বতন্ত্র প্রার্থী জমকালো নির্বাচনী প্রচারণা চালাচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে প্রচারণায় এগিয়ে রয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থীরাও। প্রচারণা শুরু করেছেন জাতীয় পার্টির প্রার্থীও।
কক্সবাজার জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মিছবাহ আহমেদ জানান, গতকাল পৌরসভার সদস্যদের মনোনয়নপত্র বাছাইয়ের মধ্য দিয়ে কক্সবাজারের দুই পৌরসভা ও ১৯ ইউনিয়নের প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র বাছাই সম্পন্ন হয়েছে। এতে নানা জটিলতার কারণে মেয়র, চেয়ারম্যানসহ অনেকের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। আগামী ৪ মার্চ প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার ও ৫ মার্চ প্রার্থীদের মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে বলে জানান তিনি। ২০ মার্চ পৌরসভা ও ২২ মার্চ ইউনিয়নের ভোট অনুষ্ঠিত হবে।
/জেবি/এসএম/