ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল-আশুগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী উকিল আব্দুস সাত্তারের দ্বিতীয় জানাজা সম্পন্ন হয়েছে। রবিবার (১ অক্টোবর) বাদ জোহর সরাইল অন্নদা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে এই জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।
এতে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আল মামুন সরকার, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ আসনের সংসদ সদস্য বি এম ফরহাদ হোসেন সংগ্রাম, সংরক্ষিত নারী আসন (৩১২ সরাইল-আশুগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক উম্মে ফাতেমা নাজমা বেগম শিউলী আজাদ, জাতীয় পার্টির সাবেক কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য জিয়াউল হক মৃধা, জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহাবুবুল বারী চৌধুরী মন্টু, বেসরকারি শিক্ষক কর্মচারী শিক্ষক কল্যাণ ট্রাস্টের সদস্য সচিব শাহজাহান আলম সাজু, সরাইল উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান রফিক উদ্দিন ঠাকুরসহ বিভিন্ন শ্রেণিপেশার সাধারণ মানুষ উপস্থিত ছিলেন। তবে বিএনপির পদে থাকা কোনও নেতাকে জানাজায় দেখা যায়নি।
এ সময় উপস্থিত নেতৃবৃন্দ উকিল আব্দুস সাত্তার বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনের স্মৃতিচারণ করে তার বিদেহী আত্মার প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন। জানাজা শুরুর আগে মরহুমের একমাত্র ছেলে ছেলে মাইনুল হাসান তুষার উপস্থিত সবার কাছে তার বাবার জন্য দোয়া চান।
বাদ মাগরিব তার নিজগ্রাম অরুয়াইল ইউনিয়নের পরমানন্দপুর গ্রামে তৃতীয় জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হবে।
উল্লেখ্য, শনিবার (৩০ সেপ্টেম্বর) ভোর ৩টা ২ মিনিটে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তিনি দীর্ঘ দিন ধরে কিডনিজনিত রোগে ভুগছিলেন। ওনার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে গত এক সপ্তাহ আগে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানেই ওনার চিকিৎসা চলছিল। এরই মাঝে শনিবার ভোর ৩টার ৫মিনিটে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।।
উকিল আব্দুস সাত্তার ১৯৭৯ সালে তৎকালীন কুমিল্লা-১ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। পরে ১৯৯১ ও ১৯৯৬ সালের ১৫ই ফেব্রুয়ারি ও জুনের নির্বাচনে বিএনপির মনোনয়ন নিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০০১ সালের নির্বাচনে তৎকালীন ৪ দলীয় জোট সরকার থেকে টেকনোক্রেট মন্ত্রী হিসেবে আবদুস সাত্তার আইন, মৎস্য ও ভূমি মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বও পালন করেন। তবে ২০০৮ সালের নির্বাচনের পরে রাজনৈতিক কার্যক্রম থেকে তিনি নিষ্ক্রিয় ছিলেন। ২০১৮ সালে অনুষ্ঠিত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি আবারও ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে বিএনপির মনোনীত সংসদ সদস্য হিসেবে জয়লাভ করেন।
চলতি বছরের ২ জানুয়ারি (২০২৩ সালে) তাকে বিএনপি থেকে বহিষ্কার করা হয়। পরে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে জয়লাভ করেন।
আব্দুল সাত্তার ১৯৩৯ সালের ১৬ জানুয়ারি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার অরুয়াইল ইউনিয়নের পরমানন্দপুর গ্রামের আব্দুল হামিদ ভূঞা ও রহিমা খাতুনের পরিবারে জন্ম গ্রহণ করেন। তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়া আদালতে আইনজীবী হিসেবে নিয়োজিত ছিলেন। দীর্ঘদিন ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা বিএনপির দীর্ঘদিন সভাপতি পদে ছিলেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮৪ বছর। তার মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে।