কক্সবাজার-১

বিএনপি-জামায়াতের দুর্গে শরিক প্রার্থী নয়, দলীয় কাউকে চায় আ.লীগ

কক্সবাজার-১ (চকরিয়া-পেকুয়া) আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেতে এক ডজন প্রার্থী ঢাকায় দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন। সংগ্রহ করেছেন মনোনয়নপত্রও।

২০১৪ সালের নির্বাচনে কক্সবাজার-১ (চকরিয়া ও পেকুয়া) আসনটি আওয়ামী লীগ জোটগত কারণে জাতীয় পার্টিকে (জাপা) ছেড়ে দেয়। এবারও আসনটি জোটের শরিকরা ভাগ বসাতে চায়। এবার আলোচনায় এসেছেন আনোয়ার হোসেন মঞ্জুর নেতৃত্বাধীন জাতীয় পার্টির (জেপি) কেন্দ্রীয় প্রেসিডিয়াম সদস্য সাবেক জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও সংসদ সদস্য এ এইচ সালাহউদ্দিন মাহমুদ।

তবে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা বলছেন, চকরিয়া ও পেকুয়ায় জেপির কোনও সাংগঠনিক ভিত্তি নেই। এরশাদের আমল ১৯৮৬ ও ৮৮ সালে মঞ্জু এখানে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। ১৯৯০ সালের পর থেকে তিনি ভোটের মাঠে নেই। এতে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা তাকে সহজে মেনে নেবেন না।

২০১৮ সালে এই আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন নিয়ে ৪৫ বছর পর জাফর আলম সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। গত পাঁচ বছরে তার বিরুদ্ধে এলাকায় জমি দখল, দলীয় নেতাদের নির্যাতন, চিংড়ির ঘের দখলসহ নানা অভিযোগ ওঠে। দলের একটি বড় অংশ তার বিরুদ্ধে অবস্থান করছেন।

একসময় বিএনপি-জামায়াতে ইসলামীর দুর্গ হিসেবে পরিচিত আসনটি জেলার রাজনীতিতে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এই আসনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী সালাহ উদ্দিন আহমদের ব্যাপক প্রভাব রয়েছে। ১৯৯৬ সাল থেকে এখানে সালাহউদ্দিন ও তার স্ত্রী টানা তিনবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। আওয়ামী লীগ নেতারা মনে করেন, বিএনপির দুর্গ ভাঙতে আবারও এ আসনে জোটের নয়, দলের প্রার্থীকে মনোনয়ন দেওয়া উচিত।

১৯৯৬ থেকে ২০০৮ সালের তিনটি নির্বাচনে এ আসনে জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সালাহউদ্দিন আহমদ মনোনয়ন পেলেও একবার জিততে পারেননি। তিনি এবারও মনোনয়ন চেয়েছেন। এ আসনে নতুন মুখ সাবেক জেলা জজ আমিনুল হক। তিনি বেশ কিছু দিন ধরে মাঠে কাজ করছেন। নৌকা চেয়ে তিনিও মনোনয়নপত্র নিয়েছেন। মনোনয়নের দৌড়ে তিনিও বেশ আলোচনায় আছেন।

এ ছাড়া সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগ নেতা রেজাউল করিম, চকরিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান ফজলুল করিম সাঈদী, জেলা আওয়ামী লীগ নেতা এ টি এম জিয়াউদ্দিন চৌধুরী, রাশেদুল ইসলাম ও মোহাম্মদ আশরাফুল ইসলাম সজীব দলীয় মনোনয়ন চেয়ে ফরম নিয়েছেন।

জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ফরিদুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, সব আসনেই একাধিক মনোনয়নপ্রত্যাশী রয়েছেন। দলের মনোনয়ন বোর্ড যাকে বাছাই করছেন তার পক্ষেই কাজ করবো। সবার আমলনামা প্রধানমন্ত্রীর কাছে আছে। তিনিই বিবেচনা করবেন।