চট্টগ্রামে ভোটের মাঠে কোণঠাসা চার দলের প্রধানরা

চট্টগ্রামে ভোটের মাঠে কোণঠাসা চার রাজনৈতিক দলের প্রধানরা। তিনটি আসন থেকে এ চারজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এ চারটি রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের সঙ্গে দেনদরবার করেও একটি আসনও বাগাতে পারেনি। ফলে ভোটের মাঠে নিজেদের অবস্থান জানান দিতে লড়ছেন দলের প্রধানরা।

চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি) আসন থেকে লড়ছেন বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টির (বিএসপি) চেয়ারম্যান শাহজাদা সৈয়দ সাইফুদ্দীন আহমদ মাইজভান্ডারী। একই আসনে লড়ছেন তারই আপন চাচা বাংলাদেশ তরিকত ফেডারেশনের চেয়ারম্যান বর্তমান সংসদ সদস্য সৈয়দ নজিবুল বশর মাইজভান্ডারী। অপরদিকে চট্টগ্রাম-৫ (হাটহাজারী) আসন থেকে নির্বাচন করছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (চাকসু) সাবেক ভিপি নাজিম উদ্দিন। তিনি সদ্য প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক দল ‘প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক ফোরাম’-এর চেয়ারম্যান। অপরদিকে চট্টগ্রাম-১২ (পটিয়া) আসনে বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের মহাসচিব এম এ মতিন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি) আসনে বর্তমান সংসদ সদস্য তরিকত ফেডারেশনের চেয়ারম্যান সৈয়দ নজিবুল বশর মাইজভান্ডারী ২০০৮ এবং ২০১৪ সালে নৌকা প্রতীক নিয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এবার তরিকত ফেডারেশনকে দলে ভেড়ায়নি আওয়ামী লীগ। এ আসনে আওয়ামী লীগ এবার দলীয় লোক খাদিজাতুল আনোয়ারকে প্রার্থী করেছে। এবার নৌকা হারিয়ে ভোটের মাঠে অনেকটাই কোণঠাসা হয়ে পড়েছেন নজিবুল বশর মাইজভান্ডারী। তিনি এবার তরিকত ফেডারেশনের দলীয় প্রতীক ‘ফুলের মালা’ নিয়ে নির্বাচনি প্রচারণা চালাচ্ছেন।

নৌকা না পাওয়া প্রসঙ্গে সৈয়দ নজিবুল বশর মাইজভান্ডারী সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমার প্রতি অন্যায়-অবিচার করা হয়েছে। আমার কোনও চাওয়া-পাওয়া নেই। এত বছর ধরে এক সঙ্গে ছিলাম, নৌকার পক্ষে ছিলাম। এখন দলীয় প্রতীক নিয়েই নির্বাচনে লড়ছি।’

এদিকে, একই আসনে ‘একতারা’ প্রতীক নিয়ে লড়ছেন তারই ভাতিজা বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টির চেয়ারম্যান সৈয়দ সাইফুদ্দীন আহমদ মাইজভান্ডারী। তিনিও আওয়ামী লীগের সঙ্গে জোটে ভিড়ে আসন বাগাতে চেয়ে ব্যর্থ হয়েছেন। শেষ পর্যন্ত নিজের দলীয় প্রতীক নিয়ে লড়ছেন সাইফুদ্দিন। তিনি বলেন, ‘আমি একতারা প্রতীক নিয়ে নির্বাচনি মাঠে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছি। এলাকাবাসী যাকে ইচ্ছা ভোট দেবেন। আমার পোস্টারেও লেখা আছে, আমার ভোট আমি দেবো, যাকে খুশি তাকে দেবো।’

এ আসনে আওয়ামী লীগ প্রার্থীসহ মোট ৮ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। প্রার্থী হিসেবে মাঠে আছে ‘তরমুজ’ প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী আওয়ামী লীগ নেতা উপজেলা চেয়ারম্যানের পদ থেকে পদত্যাগ করা হোসাইন মো. আবু তৈয়ব। তবে এ আসনে দু’দলের প্রধানরা থাকলেও এখানে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে আওয়ামী লীগ প্রার্থীর সঙ্গে আওয়ামী লীগের স্বতন্ত্র প্রার্থী আবু তৈয়বের। এমনটাই মনে করছেন এলাকার ভোটাররা।

চট্টগ্রাম-৫ (হাটহাজারী) আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ‘প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক ফোরাম’-এর চেয়ারম্যান নাজিম উদ্দিন। তার রাজনৈতিক দল নিবন্ধিত না হওয়ায় তৃণমূল বিএনপি থেকে ‘সোনালী আঁশ’ প্রতীকে নির্বাচন করছেন। এ আসনটি আওয়ামী লীগ এবার জাতীয় পার্টির প্রার্থী ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদকে ছেড়ে দিয়েছে। এছাড়াও স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে আছেন আওয়ামী লীগ নেতা মুহাম্মদ শাহজাহান। এ আসনে আওয়ামী লীগের জোটের প্রার্থী ছাড়াও শক্তিশালী স্বতন্ত্র প্রার্থীর বিপরীতে অনেকটাই কোণঠাসা তৃণমূল বিএনপির প্রার্থী সাবেক বিএনপি নেতা নাজিম উদ্দিন। তবে নাজিম উদ্দিন নির্বাচনে জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী।

চট্টগ্রাম-১২ (পটিয়া) আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের মহাসচিব এম এ মতিন। তার দল আওয়ামী লীগের সঙ্গে দলে ভিড়ে বাগাতে চেয়েছিলেন জোটগত আসন। এম এ মতিন দেখাও করেছিলেন প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে। এরপরও বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টকে জোটে ভেড়ায়নি আওয়ামী লীগ। দলীয় প্রতীক ‘মোমবাতি’ নিয়ে নির্বাচন করছেন এম এ মতিন। তিনি বলেন, ‘স্বাধীনতার পর থেকে এই পটিয়া বৈষম্যের শিকার। গ্রামের মানুষের জান-মালের শতভাগ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, কিশোর গ্যাং বন্ধ করা, যুব সমাজকে মাদকমুক্ত করা, ইভটিজিং বন্ধ করা তথা সাধারণ মানুষের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করাই হবে আমার প্রথম কাজ।’

পটিয়া আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে আছেন দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সদ্য উপজেলা চেয়ারম্যানের পদ থেকে পদত্যাগ করা করা মোতাহেরুল ইসলাম চৌধুরী। স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মাঠে আছেন বর্তমান আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য ও জাতীয় সংসদের হুইপ সামশুল হক চৌধুরী। আওয়ামী লীগ এবং শক্তিশালী স্বতন্ত্র প্রার্থীর মাঝখানে ইসলামী ফ্রন্টের এ প্রার্থী কতখানি সুবিধা করতে পারেন তা এখন দেখার বিষয়।