শোকজের পরও সুবিধাভোগীদের জব্দকৃত কার্ড এখনও তিন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ফেরত দেননি বলে অভিযোগ করেছেন কুমিল্লা-৬ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী আঞ্জুম সুলতানা সীমা। বৃহস্পতিবার (০৪ জানুয়ারি) দুপুরে সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন ঈগল প্রতীকের এই প্রার্থী।
সুবিধাভোগীদের ভাতার কার্ড জব্দ করে রাখার অভিযোগে তিন ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যানকে শোকজ করেছিল নির্বাচনি অনুসন্ধান কমিটি। গত সোমবার (১ জানুয়ারি) কুমিল্লা-৬ আসনের নির্বাচনি অনুসন্ধান কমিটির চেয়ারম্যান যুগ্ম জেলা জজ মো. সিরাজ উদ্দিন ইকবাল এই শোকজ করেন। এই তিন চেয়ারম্যান হলেন আমড়াতলী ইউনিয়নের মোজাম্মেল হক, পাঁচথুবীর হাসান রাফি রাজু এবং জগন্নাথপুরের মামুনুর রশিদ মামুন।
স্বতন্ত্র প্রার্থী আঞ্জুম সুলতানা সীমা বলেন, ‘আমি ওই তিন ইউনিয়নের কেন্দ্রগুলো নিয়ে শঙ্কিত। কারণ এসব ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ভাতার কার্ড রেখে জোর করে নৌকায় ভোট নিতে চাচ্ছেন। বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভাতাভোগীদের হুমকি দিচ্ছেন। আমি অভিযোগ করায় শোকজ করেছিল নির্বাচনি অনুসন্ধান কমিটি। কিন্তু শোকজের পরও তারা ভাতার কার্ড ফেরত দেননি। এখনও ভোটারদের কেন্দ্রে না আসার জন্য হুমকি দিয়ে যাচ্ছেন। নৌকার প্রার্থী জোর করে জয়ী হতে চান। তাই এমন কাজ করে যাচ্ছেন।’
এ ব্যাপারে কুমিল্লা-৬ আসনের নৌকার প্রার্থী আ ক ম বাহাউদ্দিন বাহারের নির্বাচনের প্রধান সমন্বয়কারী ও মহানগর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আতিক উল্লাহ খোকন বলেন, ‘যতগুলো অভিযোগ ঈগল প্রতীকের প্রার্থী সীমা করছেন, সেগুলো ভিত্তিহীন। এসবের কোনও প্রমাণ নেই।’
জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা খন্দকার মু. মুশফিকুর রহমান বলেন, ‘যখনই কোনও প্রার্থী অভিযোগ করছেন, আমরা ব্যবস্থা নিচ্ছি। তবে ভাতার কার্ডের বিষয়ে নির্বাচনি অনুসন্ধান কমিটি ভালো বলতে পারবে।’
স্বতন্ত্র প্রার্থীর বলপ্রয়োগের অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘সুষ্ঠু নির্বাচনে বাধা দেওয়ার সুযোগ কারও নেই। মাঠে পর্যাপ্ত ম্যাজিস্ট্রেট, সেনাবাহিনী, র্যাব, পুলিশ ও নির্বাচন পর্যবেক্ষক সংস্থা কাজ করছে।’
এর আগে ১ জানুয়ারি কুমিল্লা-৬ আসনের নির্বাচনি অনুসন্ধান কমিটির চেয়ারম্যান যুগ্ম জেলা জজ মো. সিরাজ উদ্দিন ইকবাল স্বাক্ষরিত পৃথক তিনটি চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, কুমিল্লা-৬ সদর আসনের ঈগল প্রতীকের প্রার্থী আঞ্জুম সুলতানা সীমা অভিযোগ করেন, আপনারা তিন ইউপি চেয়ারম্যান বিভিন্ন ভাতার কার্ড আটকে রেখে নৌকায় ভোট দেওয়ার হুমকি দিয়েছেন। নৌকায় ভোট দেওয়ার পর কার্ড ফেরত দেবেন বলে জানিয়েছেন। যা নির্বাচনের আচরণবিধি লঙ্ঘন। তাই আপনাদের কারণ দর্শানোর নির্দেশ দেওয়া হলো।