চিকিৎসক দম্পতির বাসা থেকে গৃহপরিচারিকার ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার, পরিবারের দাবি হত্যা

ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের মৌলভীপাড়ার একটি বাসা থেকে তামান্না আক্তার (১৩) নামের এক গৃহপরিচারিকার ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১৬ জানুয়ারি) এই ঘটনায় বাসার মালিক চিকিৎসক দম্পতি আনিসুল হক ও ইসরাত আহমেদের বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ এনেছে তামান্নার পরিবার।

জানা গেছে, বাসায় এসে তামান্নাকে ফাঁস লাগানো অবস্থায় দেখেন ড. ইসরাত আহমেদ। তারপর দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। তামান্না কেন আত্মহত্যা করেছে তার কারণ কেউ জানে না।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক মির্জা মো. সাইফ বলেন, মেয়েটিকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়েছে। ময়নাতদন্তের পর তার মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।

এ ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়ে তামান্নার স্বজনরা বলেন, চিকিৎসক দম্পতি আনিসুল হক ও ইসরাত আহমেদের বাসায় কাজ করতো তামান্না। ইসরাতের বাবা বাবুলের অনুরোধে তামান্নাকে বাসায় রাখা হয়েছিল। তারা বলেছিল, তামান্নাকে পড়াশোনা করাবে। কিন্তু তা না করিয়ে কাজ করাতো সঙ্গে অমানবিক নির্যাতনও করাতো।

মেয়ের নির্যাতনের কথা উল্লেখ করে তামান্নার বাবা সুমন মিয়া ও মা মুন্নি আক্তার জানান, নির্যাতনের কথা শুনেও সেই বাসায় মেয়েকে রাখতে হয়েছে। কারণ আমরা বাবুল মিয়ার বাসায় ভাড়া থাকতাম। সব জেনে শুনেও সহ্য করেছি।

জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চেয়ে সুমন বলেন, তামান্নাকে নির্যাতন করে হত্যা করেছে চিকিৎসক দম্পতি। এদিকে আনিসুল হক সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, তামান্নাকে নির্যাতন করা হয়নি। মেয়েটিকে নিজেদের সন্তানের মতো দেখা হতো।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সুমন বনিক বলেন, ঘটনাটি তদন্ত করা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের পর ঘটনার প্রকৃত কারণ জানা যাবে। এ ব্যাপারে অভিযোগ পেলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।