নিত্যপণ্যের সরবরাহ বন্ধ করে বাজারে সংকট সৃষ্টির চেষ্টা করলে আমদানিকারক যতই শক্তিশালী হোক সেই মিলের গেট ও সংশ্লিষ্ট দোকান বন্ধ করে দেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ার দিয়েছেন বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী আহসানুল ইসলাম টিটু।
তিনি বলেছেন, ‘কোনও মিল যদি সরবরাহ বন্ধ করে, তার গেট বন্ধ হয়ে যাবে। সরবরাহে যদি কেউ বাধা সৃষ্টি করে পরিষ্কারভাবে বলতে চাই, আমদানিকারক যতই শক্তিশালী হোক, ওই দোকান বন্ধ হয়ে যাবে।’
বৃহস্পতিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) দেশের ভোগ্যপণ্যের অন্যতম বড় পাইকারি বাজার চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জের ব্যবসায়ীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী। খাতুনগঞ্জ ট্রেড অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশনের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত সভায় প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা ও ব্যবসায়ীরা উপস্থিত ছিলেন।
খাতুনগঞ্জের পুরোনো ঐতিহ্য আছে জানিয়ে বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘এখানকার ব্যবসায়ীরা শত শত বছর ধরে সুনামের সঙ্গে সারাদেশে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সরবরাহ করছেন। আমি চাই, খাতুনগঞ্জের ব্যবসায়ীরা সেই ঐতিহ্য ধরে রাখুন। একটা খাতুনগঞ্জ গড়ে উঠতে শত শত বছর লেগেছে। কিন্তু ধ্বংস করতে সাত দিনও লাগবে না। কাজেই ব্যবসায়ীদের বলবো, স্বচ্ছতার সঙ্গে ব্যবসা করতে হবে। পণ্যের সরবরাহ ঠিক রাখতে হবে।’
পুলিশ কিংবা ভোক্তা অধিকার দিয়ে বাজার নিয়ন্ত্রণ করা কখনও সম্ভব নয় জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, ‘পণ্য সরবরাহ ঠিক না থাকলে দাম বাড়বে, এটাই বাজারের ধর্ম। প্রয়োজন অনুযায়ী পণ্য সরবরাহ ও পণ্যের যৌক্তিক মূল্য নির্ধারণের মাধ্যমে বাজার নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। কৃষি মন্ত্রণালয়, খাদ্য মন্ত্রণালয়, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় একসঙ্গে বসে বাজার সম্পর্কিত তথ্য উন্মুক্ত করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। অপপ্রচার রোধে বড় হাতিয়ার হচ্ছে যৌক্তিক মূল্যতালিকা প্রচার। যেসব নিত্যপণ্য আছে, সেগুলোর মূল্য নির্ধারণ করার ক্ষমতা সরকারের আছে। যেসব নিত্যপ্রয়োজনীয় ভোগ্যপণ্য আছে, ট্যারিফ কমিশনের মাধ্যমে সেগুলোর মূল্য নির্ধারণ করে আগামী সপ্তাহের মধ্যে আমরা জানিয়ে দেবো।’
বাজারে প্রতিযোগিতা থাকবে, প্রতিযোগিতার মাধ্যমেই দ্রব্যমূল্য নির্ধারণ হবে উল্লেখ প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘প্রতিযোগিতা না থাকলে বাজারে পণ্যের ন্যায্যমূল্য পাওয়া যায় না। টিসিবি প্রয়োজনে নিজে আমদানি করবে, আমদানি করে বাজারে সরবরাহ ঠিক রাখবে। এসেনশিয়াল কমোডিটি নিয়ে সরকার কারও কাছে জিম্মি হতে চায় না, কাউকে জিম্মি করতে দেবেও না। সাপ্লাই চেইন নিয়ন্ত্রণ করেন আমদানিকারক এবং মিল মালিকরা। আপনাদের দায়িত্ব হলো কার কার কারণে সাপ্লাই চেইনে সমস্যা হচ্ছে, সে খবর বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে জানানো। কিন্তু আপনারা সেটা করেন না। মূল্য তালিকা প্রদর্শন করেন না। পণ্যের সঠিক মূল্য তালিকা প্রদর্শন করলে ভোক্তা অধিদফতর আপনাদের হয়রানি করবে না। কাজেই সবাই সচেতন হন।’
বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এফবিসিসিআই) সভাপতি মাহবুবুল আলমের সভাপতিত্বে সভায় উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক আবুল বাসার মোহাম্মদ ফখরুজ্জামান, জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর চট্টগ্রামের উপপরিচালক মোহাম্মদ ফয়েজ উল্লাহ ও খাতুনগঞ্জ ট্রেড অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক ছগির আহমেদ।