খাদিজা মনি ওরফে মিতুকে দুর্বৃত্তরা শনিবার অপহরণ করে মুক্তিপণ দাবি করে দেড় লাখ টাকা। অপহরণের তৃতীয় দিন সোমবার সন্ধ্যায় হতভাগ্য শিশুটির গলাকাটা মৃতদেহ আবিষ্কার করে পুলিশ। কসবা পৌর এলাকার ইমামপাড়ার একটি বাড়ির পাঁচতলার ফ্ল্যাটের টয়লেটের ছাদ থেকে শিশুটির মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়।
হত্যার ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে মিতুর চাচা মাসুক মিয়াকে(২০) গ্রেফতার করে পুলিশ। মিতুর প্রবাসী বাবা আল আমিন মিয়ার কাছে দেড় লাখ টাকা চেয়ে না পেয়ে প্রতিশোধ নিতে ভাতিজি মিতুকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করেন বলে জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশের কাছে স্বীকার করেছেন মাসুক। মাসুকের মামাতো ভাই ও মিতুর বাবা আল আমিন মিয়া দীর্ঘদিন যাবত সৌদি আরবে চাকরিরত আছেন।
স্থানীয় সূত্র জানান, মেয়ে খাদিজা মনি ওরফে মিতু এবং দুই বছরের ছেলে আবদুল্লাহকে নিয়ে কসবা পৌর শহরের শীতলপাড়ায় একটি ভাড়া বাড়িতে থাকতেন আল-আমিন মিয়ার স্ত্রী রুনা আক্তার। মিতু স্থানীয় কসবা ইমাম প্রি-ক্যাডেট স্কুলের প্রথম শ্রেণীর ছাত্রী। একইসঙ্গে স্থানীয় একটি মহিলা মাদ্রাসায় সকালে আরবি পড়তে যেত মিতু।
কসবা থানা সূত্র জানান, মিতু শনিবার সকাল সাড়ে সাতটার দিকে একই ভবনে থাকা তার সহপাঠীকে নিয়ে মাদ্রাসায় যাওয়ার পথে এক যুবক তাকে অপহরণ করে। পরে সকাল আটটার দিকে রুনা আক্তারের মোবাইল ফোনে মেয়েকে অপহরণের কথা জানিয়ে দেড় লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। এ ঘটনায় মিতুর মা রুনা আক্তার শনিবার দুপুরে কসবা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। পুলিশ শনিবার রাতে ও রবিবার সকালে অপহরণে জড়িত সন্দেহে কসবার লতুয়ামুড়া গ্রামের মাসুক মিয়া (২০), খাইরুল ইসলাম (১৯) ও কিবরিয়া (১৮) নামে তিনজনকে আটক করে। সোমবার মিতুর মৃতদেহ উদ্ধারের পর পাঁচতলা ভবনটির বাসিন্দা তামিম নামে এক রাজমিস্ত্রীকেও আটক করে পুলিশ।
মৃতদেহ উদ্ধারের খবর পেয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান ঘটনাস্থলে ছুটে যান। তিনি বলেন, ঘটনাটি মর্মান্তিক। যারা এটি ঘটিয়েছে তারা কেউ যেন আইনের ফাঁকফোকর গলে রক্ষা না পায় পুলিশ সে ব্যবস্থা নেবে।
/এইচকে/