পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, ‘সংসদ নির্বাচনের পর অদৃশ্য শক্তির ওপর নির্ভর শুরু করেছে বিএনপি। তারা এখন তাবিজ ও দোয়ার দিকে ঝুঁকে পড়েছে।’
রবিবার (১২ মে) বিকাল ৫টার দিকে কক্সবাজারে শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার কার্যালয়ের সামনে প্রেস ব্রিফিংয়ে এ কথা বলেন তিনি। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির দ্বিতীয় সভা উপলক্ষে কক্সবাজারে আসেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
চতুর্থবারের মতো প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হয়ে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে পরিচ্ছন্নভাবে এগিয়ে যাচ্ছে দেশ উল্লেখ করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘শেখ হাসিনার জয়কে সাধুবাদ জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রসহ বন্ধুপ্রতীম সব রাষ্ট্র। তারা সরকারের সঙ্গে চলমান সম্পর্ক আরও দৃঢ় করতে চায়। বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে চমৎকার, এই সম্পর্কে আরও উচ্চতায় নিয়ে যেতে বাংলাদেশে আসছেন যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডোনাল্ড লু। এই সফরে তাদের সঙ্গে সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করার চেষ্টা থাকবে আমাদের।’
উপজেলা নির্বাচন নিয়ে সাংবাদিকদের করা এক প্রশ্নের জবাবে আওয়ামী লীগের এই যুগ্ম সাধারণ বলেন, ‘কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের পরাজয় বলে দেয় নির্বাচন কতটা সুষ্ঠু হয়েছে। শেখ হাসিনার সরকার দেশে অবাধ নিরপেক্ষ নির্বাচনে বিশ্বাসী। যার ধারাবাহিকতা অব্যাহত আছে।’
মিয়ানমারে দীর্ঘদিন ধরে সংঘাত চলছে, রোহিঙ্গাদের ফেরত নেওয়ার বিষয়ে সেই সংঘাতকে অজুহাত হিসেবে দেখিয়ে আসছে তারা উল্লেখ করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘রাখাইনে চলমান সংঘাতকে ইস্যু করে বাংলাদেশে আশ্রিত রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনে দীর্ঘসূত্রতার ইঙ্গিত দিয়ে আসছে তারা। তবে আমাদের প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখতে দেশটির সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ রয়েছে নিয়মিত। রোহিঙ্গাদের কারণে আমাদের সবদিকেই সমস্যা হচ্ছে। তবে উখিয়া-টেকনাফের ৩৩টি আশ্রয়কেন্দ্র সীমান্ত থেকে দূরে হওয়ায় রাখাইনের সংঘাতের প্রভাব এখানে পড়ছে না। এরপরও অন্য দেশের বোঝা আমরা দীর্ঘদিন মাথায় নিয়ে থাকতে পারি না। বিজিপির যে ১৩৮ সদস্য বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছেন; তাদের ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।’
স্থানীয় সূত্র জানায়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির দ্বিতীয় সভা উপলক্ষে কক্সবাজারে অবস্থান করছেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্যরা। সভায় বসার আগে রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করেছেন স্থায়ী কমিটির সভাপতি ড. এ কে আব্দুল মোমেন, নাহিম রাজ্জাক, নুরুল ইসলাম নাহিদ, হাবিবুর রহমান ও জাতীয় সংসদের হুইপ সাইমুম সারওয়ার কমল এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা।
বিকাল ৫টায় শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার কার্যালয়ের সেমিনার কক্ষে আরআরআরসির প্রতিনিধি, রোহিঙ্গা শরণার্থী ক্যাম্পে কর্মরত জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধি, এনজিও, আইএনজিওর প্রতিনিধি, জেলা প্রশাসকের প্রতিনিধি, নিরাপত্তা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতিনিধিদের সঙ্গে যৌথ সভায় মিলিত হন।
সভার পর একই সেমিনার কক্ষে দ্বাদশ জাতীয় সংসদের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির দ্বিতীয় সভা শেষে কমিটির সদস্যরা রাতে সড়কপথে চট্টগ্রামে রওনা দেবেন।