আট দিন ধরে বিদ্যুৎহীন ১৩ হাজার গ্রাহক

চট্টগ্রামের মীরসরাইয়ে গত আট দিন ধরে প্রায় ১৩ হাজার গ্রাহক বিদ্যুৎবিহীন অবস্থায় আছেন। কালবৈশাখী ঝড়ে গাছপালা ভেঙে উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে যাওয়ার পাশাপাশি খুঁটি ভেঙে পড়েছে। চট্টগ্রাম পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-৩ এর অধীনে থাকা প্রায় ১৩ হাজার গ্রাহকের বাড়িতে বিদ্যুৎ না থাকায় অন্ধকারাচ্ছন্ন অবস্থায় ভোগান্তিতে পড়েছেন।

সোমবার (১৩ মে) সন্ধ্যা পর্যন্ত উপজেলার অনেক এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়নি। পুরো উপজেলায় বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হতে আরও ২-৩ দিন লাগতে পারে বলে জানিয়েছেন পল্লী বিদ্যুতের কর্মকর্তারা। বিদ্যুৎ না থাকায় ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান, পোল্ট্রি ও গরুর খামার, বাসা বাড়িতে মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।

জানা গেছে, গত সোমবার (৬ মে) দুপুরে হঠাৎ শুরু হওয়া কালবৈশাখী ঝড় প্রায় দেড় ঘণ্টা তাণ্ডব চালিয়েছে। প্রচণ্ড ঝোড়ো হাওয়ায় উপজেলার ১৬ ইউনিয়ন ও দুই পৌরসভার বিভিন্ন জায়গায় গাছ পড়ে ট্রান্সফরমার নষ্ট হয়েছে ১৭৫টি। ১৫৪০ স্পটে তার ছিঁড়েছে, ক্রসআর্ম ভেঙেছে ১৫৯টি। মীরসরাই পৌরসদর, বারইয়ারহাট পৌরসভাসহ মহাসড়কের পার্শ্ববর্তী বড় কয়েকটি বাজারে বিদ্যুৎ দেওয়া হলেও পুরো উপজেলায় বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হয়নি।

পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির লোকবল সংকটের কারণে বিভিন্ন স্থানে গাছ পড়ে ছিঁড়ে যাওয়া তার লাগানো, খুঁটি ও ট্রান্সফরমার পরিবর্তনে বেশি সময় লাগছে বলে জানা গেছে। বিদ্যুৎ না থাকায় ফ্রিজে থাকা মাছ, মাংসসহ যাবতীয় পণ্যসামগ্রী নষ্ট হয়ে গেছে। এ ছাড়া বাসা বাড়িতে মোটর দিয়ে পানি উত্তোলন করতে না পারায় ভোগান্তিতে রয়েছেন সর্বসাধারণ। বিদ্যুৎ না থাকায় পোল্ট্রি ও গরুর খামারেও উৎপাদন ব্যাহতের শঙ্কা দেখা দিয়েছে। প্রত্যন্ত অঞ্চলে বিদ্যুৎ না থাকায় গ্রাম্য হাট বাজারের দোকান ও বিপণীবিতানগগুলো সন্ধ্যার আগে বন্ধ করে ফেলতে বাধ্য হচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে উঠছেন ব্যবসায়ীরা।

বিদ্যুৎ না থাকায় পুরো উপজেলায় কদর বেড়েছে মোমবাতির। পাঁচ টাকার মোমবাতি ১০ এবং ১০ টাকারটি বিক্রি হচ্ছে ২০ টাকায়। সংকট দেখিয়ে নেওয়া হচ্ছে বাড়তি দাম।

উপজেলার ওচমানপুর ইউনিয়নের মরগাং এলাকার বাসিন্দা রাহাত মোর্শেদ বলেন, ‘বিদ্যুৎ না থাকায় ফ্রিজে রাখা মাছ-মাংসসহ সব ধরনের জিনিস নষ্ট হয়ে গেছে। গত আট দিন পুরো গ্রামবাসী বিদ্যুৎবিহীন অবস্থায় আছে।’

কলেজ শিক্ষার্থী প্রণয় চৌধুরী বলেন, ‘কালবৈশাখী ঝড়ে বিদ্যুতের তারের ওপর পড়ে থাকা গাছপালা আমাদের এলাকার সাধারণ মানুষ নিজ উদ্যোগে কেটে দিয়েছেন। তারপরও আট দিন ধরে আমরা বিদ্যুৎবিহীন অবস্থায় আছি।’

কাটাছড়া ইউনিয়নের বাড়িয়াখালী এলাকার বাসিন্দা আকবর হোসেন বলেন, ‘গত সোমবার দুপুরে দমকা হাওয়ায় আমার এলাকায় দুটি বৈদ্যুতিক তার ছিঁড়ে গেছে। যা মেরামত করা অল্প কিছু সময়ের ব্যাপার। কিন্তু অজানা কারণে আট দিন হলেও মেরামতের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। টানা আট দিন বিদ্যুৎ না থাকায় অনেকটা দুর্বিষহ জীবন পার হচ্ছে এই এলাকার তিন গ্রামের শতাধিক পরিবারের। বিদ্যুৎ না থাকায় স্কুল-কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের পড়ালেখায় অনেক কষ্ট হচ্ছে।’

চট্টগ্রাম পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-৩ এর মীরসরাই জোনাল অফিসের ডিজিএম আদনান আহমেদ বলেন, ‘কালবৈশাখী ঝড়ে আমার অফিসের আওতাধীন ৭৫টি খুঁটি ভেঙেছে, ৩৫০ স্পটে তার ছিঁড়েছে এবং ২০টি টান্সফরমার নষ্ট হয়েছে। আমাদের এখনও ৩ হাজার গ্রাহক বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন অবস্থায় আছে। লক্ষ্মীপুর ও হাটহাজারী অফিস থেকেও অতিরিক্ত লোক আনা হয়েছে কাজ করার জন্য। বিদ্যুৎ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে আরও ২-৩ সময় লাগবে।’

বারইয়ারহাট জোনাল অফিসের জিডিএম মো. হেদায়েত উল্লাহ বলেন, ‘কালবৈশাখী ঝড়ে আমাদের ৬৫টি খুঁটি ভেঙেছে, ১১০০ স্পটে তার ছিঁড়েছে, ১৫০টি ট্রান্সফরমার নষ্ট হয়েছে, ক্রসআর্ম ভেঙেছে ১৫০টি। অফিসের আট জন লেবারসহ লাইনম্যানরা মেরামতের জন্য সাধ্যমতো কাজ করে যাচ্ছে। এখনও ১০ হাজার গ্রাহক বিদ্যুৎবিহীন অবস্থায় আছে। সব লাইন মেরামত করতে আরও ২-৩ দিন লেগে যেতে পারে।’

সীতাকুণ্ড জোনাল অফিসের ডিজিএম পঙ্কজ চৌধুরী বলেন, ‘সীতাকুণ্ড অফিসের অধীনে থাকা মীরসরাইয়ের ওয়াহেদপুর ইউনিয়ন ও সাহেরখালী ইউনিয়নে ঘূর্ণিঝড়ে পাঁচটি খুঁটি, পাঁচটি ট্রান্সফরমার, ৯টি ক্রসআর্ম ভেঙেছে, ৯০টি স্পটে তার ছিঁড়েছে। রবিবার (১২ মে) বিকালে আমাদের সব গ্রাহকের বিদ্যুৎ সঞ্চালন স্বাভাবিক হয়ে যায়।’