চট্টগ্রামের রাউজানে সুলাল চৌধুরী (৫৫) নামে এক কবিরাজকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় চার আসামিকে মৃত্যুদণ্ড এবং একজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। বুধবার (৩ জুলাই) চট্টগ্রাম তৃতীয় অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ এইচ এম শফিকুল ইসলাম এ রায় প্রদান করেন। চট্টগ্রাম জেলা পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) ইফতেখার সাইমুল চৌধুরী এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত চার আসামি হলেন মিঠু চৌধুরী, সুমন চৌধুরী, দেলোয়ার হোসেন ও এরশাদ। আদালত এদের প্রত্যেককে মৃত্যুদণ্ড এবং ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করেন। অপর আসামি সুদীপ চৌধুরী প্রকাশ সঞ্জীব চৌধুরীকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করেন।
পিপি ইফতেখার সাইমুল চৌধুরী বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘২০১৬ সালের ২৫ জুলাই রাতে রাউজান উপজেলার নোয়াজিশপুর এলাকায় কবিরাজ সুলাল চৌধুরী হত্যা মামলায় আদালত চার আসামিকে মৃত্যুদণ্ড, একজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং একজনকে খালাস দিয়েছেন। রায় ঘোষণার সময় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি দেলোয়ার হোসেন এবং যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি সুদীপ চৌধুরী প্রকাশ সঞ্জীব চৌধুরী আদালতে উপস্থিত ছিলেন। তাদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে। পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন আদালত।’
মামলার এজাহারে বলা হয়, সুলাল চৌধুরী পেশায় একজন কবিরাজ। তার ফটিকছড়ির আজাদীবাজার যুগিরহাট চাউল বাজারে ‘অভয়া ঔষধালয়’ নামে একটি ওষুধের দোকান ছিল। ওই দোকান থেকে প্রতিদিন রাত ৯টার দিকে বাড়ি ফিরতেন তিনি। ঘটনার দিন ২০১৬ সালের ২৫ জুলাই রাত ৯টার দিকে রিকশা নিয়ে বাড়ি ফেরার সময় রাউজান থানাধীন মোয়াজিশপুর চিকদাইর সড়কের ব্রিজের পাশে পৌঁছালে আসামিরা সুলাল চৌধুরীর গলা, মাথা ও পিঠে ধারালো অস্ত্র দিয়ে উপর্যুপরি কুপিয়ে হত্যা করে লাশ ব্রিজের রাস্তার উত্তর পাশের ডোবায় ফেলে দেয়। ঘটনার দুই বছর আগে থেকে মো. ইলিয়াছ ইলু নামে এক ব্যক্তির রিকশায় করে প্রতিদিন রাতে বাড়ি ফিরতেন কবিরাজ সুলাল চৌধুরী। এ ঘটনায় নিহতের ছেলে সৌরভ চৌধুরী বাদী হয়ে রিকশাচালক মো. ইলিয়াছ ইলুকে একমাত্র আসামি করে রাউজান থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলাটির তদন্ত শেষে ২০১৬ সালের ২৭ ডিসেম্বর আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন তৎকালীন সিআইডির পরিদর্শক মো. হাবিবুর রহমান। অভিযোগপত্রে ৬ জনকে আসামি করা হয়।
অভিযোগপত্রে বলা হয়, আসামি মিঠু চৌধুরীর সঙ্গে বাড়ির জমি নিয়ে বিরোধ ছিল সুলাল চৌধুরীর। এ বিরোধের জের ধরে বাকি আসামিদের সঙ্গে নিয়ে পরিকল্পিতভাবে খুন করা হয় সুলাল চৌধুরীকে।
আদালত এ মামলায় ২০ জন সাক্ষীর মধ্যে ১৫ জনের সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে এ রায় প্রদান করেন।