চট্টগ্রামে এস আলম এর একটি ফ্যাক্টরি থেকে একাধিক বিলাসবহুল গাড়ি রাতের আঁধারে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এসব গাড়ি সরাতে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আবু সুফিয়ান ও যুগ্ম আহ্বায়ক এনামুল হক এনামসহ দলটির কয়েকজন নেতার বিরুদ্ধে সহায়তার অভিযোগ উঠেছে। তবে তারা এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
বৃহস্পতিবার (২৯ আগস্ট) রাতে চট্টগ্রাম নগরীর মইজ্জার টেক এলাকায় অবস্থিত এস আলমের ফ্যাক্টরি থেকে বিলাসবহুল গাড়িগুলো নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার অভিযোগ ওঠে। এ সংক্রান্ত একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক ভাইরাল হয়েছে।
ভিডিও চিত্রে দেখা গেছে— রাতের আঁধারে চট্টগ্রাম নগরীর কর্ণফুলী থানাধীন মইজ্জারটেক এলাকায় এস আলম গ্রুপের মালিকানাধীন একটি ওয়্যারহাউসের ভেতর থেকে বিলাসবহুল দামি গাড়িগুলো একের পর এক সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। সরিয়ে নেওয়া গাড়িগুলোর মধ্যে রয়েছে- বিএমডব্লিউ, মার্সিডিজ ও অডি ব্যান্ডের গাড়িও। এসব গাড়ি কোথায় সরিয়ে নেওয়া হয়েছে এ সম্পর্কে কোনও তথ্য পাওয়া যায়নি।
গাড়ি সরিয়ে নিতে সহায়তার প্রসঙ্গে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আবু সুফিয়ান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, এস আলমের গাড়ি সরানোতে আমি ছিলাম না। কেউ যদি বলে থাকেন তা মিথ্যা অপপ্রচার ছাড়া আর কিছুই নয়।
তিনি আরও বলেন, দক্ষিণ জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক এনামুল হকের আত্মীয় মীর গ্রুপের কাগজ কারখানায় কয়েকজন লোক বিএনপির নাম ভাঙিয়ে চাঁদা আদায়ে এসেছিল। এমন অভিযোগ পেয়ে আমি সেখানে গিয়ে বিষয়টি সুরাহা করেছি। এস আলমের কোনও কারখানায় আমি যায়নি।
কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শীর অভিযোগ, গাড়িগুলো সরাতে তদারকি করেন দক্ষিণ জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক এনামুল হক।
এস আলম গ্রুপের কর্ণধার সাইফুল আলম মাসুদের মেয়ের শ্বশুর মীর গ্রুপের কর্ণধার আবদুস সালাম বিএনপি নেতা এনামুল হকের মামাতো ভাই।
এ প্রসঙ্গে এনামুল হক বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, এস আলমের ফ্যাক্টরি থেকে গাড়ি সরানোর বিষয়ে আমি অবগত নই। এর সঙ্গে আমাকে জড়িয়ে একটি মহল অপপ্রচার চালাচ্ছে। আমি এস আলমের ফ্যাক্টরির আশপাশেও ছিলাম না।
প্রসঙ্গত, সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর এক ব্রিফিংয়ে বলেন, এস আলমের সম্পদ যাতে কেউ না কেনেন, দেশের স্বার্থে অন্য কেউ যাতে এই সম্পদে হাত না দেয়। বিপুল অঙ্কের ঋণ রয়েছে এস আলম গ্রুপের নামে।