খাগড়াছড়িতে মামুন হত্যার ঘটনায় মামলা, আসামি আ.লীগের পলাতক ৩ জন নেতা

খাগড়াছড়ি সদরের বাসিন্দা মো. মামুনকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় মামলা করেছেন তার স্ত্রী মুক্তা আক্তার।মামলার এজাহারে আওয়ামী লীগের পলাতক তিন নেতাকে ঘটনার নির্দেশদাতা হিসেবে এজাহারনামীয় আসামি করা হয়েছে। ১৯ সেপ্টেম্বর বাদী হয়ে খাগড়াছড়ি মডেল থানায় এ মামলা করেন মুক্তা। 

এই তিন জন হলেন- খাগড়াছড়ি পৌরসভার সাবেক মেয়র আওয়ামী লীগ নেতা রফিকুল আলম, তার ভাই জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সদর উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান দিদারুল আলম এবং জেলা আওয়ামী লীগের নেতা মো. শাকিল। গত ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর থেকে পলাতক তারা। মামলায় অজ্ঞাতনামা ১০-১২ জন উপজাতি ও বাঙালিকে আসামি করা হয়।

মামলার এজাহারে বাদী উল্লেখ করেছেন, সাবেক মেয়র রফিকুল আলম, তার ভাই দিদারুল আলমের সঙ্গে পূর্বশত্রুতার কারণে তাদের নির্দেশে শাকিলসহ অজ্ঞাতনামা ১০-১২ জন উপজাতি এবং বাঙালি গত বুধবার রাতে তার স্বামী মামুনকে তুলে নিয়ে পিটিয়ে হত্যা করেছে।

গত বুধবার খাগড়াছড়ি সদরে মোটরসাইকেল চুরিকে কেন্দ্র করে মামুনকে (৩০) পিটিয়ে হত্যা করা হয়। পরদিন বৃহস্পতিবার বিকালে এ হত্যার প্রতিবাদে দীঘিনালায় বাঙালিরা বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। বাঙালিদের অভিযোগ, মিছিলটি বোয়ালখালী বাজার অতিক্রম করার সময় পাহাড়িরা বাধা দিলে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। একপর্যায়ে লারমা স্কয়ারে বিভিন্ন দোকান ও বাড়িঘরে আগুন দেওয়া হয়।

দীঘিনালা উপজেলায় সংঘর্ষের জেরে খাগড়াছড়ি জেলা সদর, পানছড়ি ও আশপাশের এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। বৃহস্পতিবার রাতে খাগড়াছড়ি জেলা সদরে গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষ ও গুলির ঘটনায় তিন জন নিহত হন। আহত হন অন্তত ১৫ জন। নিহতরা হলেন জুনান চাকমা (২০), ধনঞ্জয় চাকমা (৫০) ও রুবেল ত্রিপুরা (৩০)। 

এটিকে কেন্দ্র করে গত শুক্রবার রাঙামাটিতেও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পাহাড়ি ও বাঙালিদের সংঘর্ষে নিহত হন অনিক কুমার চাকমা। তিনি কর্ণফুলী ডিগ্রি কলেজের স্নাতকের শিক্ষার্থী। আহত হন অন্তত ৫৫ জন।

পলাতক আওয়ামী লীগ নেতাদের আসামি করার বিষয়ে জানতে চাইলে মুক্তা আক্তার বলেন, ‘আমার স্বামীকে হত্যার পেছনে বাঙালি ও পাহাড়ি দোনোটাই আছে। পাহাড়িদের চিনি নাই, তাই নাম দিই নাই। মামলায় আমি তো বলি নাই আওয়ামী লীগের পলাতক নেতারা মেরেছে। তবে সন্দেহ হয় তারা জড়িত। আপনি পুলিশের কাছে খোঁজ নেন। এদের নামে মামলা আছে কিনা।’

এ ব্যাপারে খাগড়াছড়ি সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবদুল বাতেন মৃধা বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘মো. শাকিল, রফিকুল আলম ও দিদারুল আলমের নাম উল্লেখ করে মামলা হয়েছে।’

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ফুটেজে দেখা যাচ্ছে, কয়েকজন পাহাড়ি যুবক হাঁত-পা বেঁধে মামুনকে নির্যাতন করছে, তাহলে পলাতক আওয়ামী লীগের নেতারা কীভাবে আসামি হলেন এমন প্রশ্নের জবাবে ওসি বলেন, ‘এজাহার দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি এখনও তদন্তাধীন। তদন্তে সত্যতা পাওয়া আসামিদের আইনের আওতায় আনা হবে। অন্যদের কোনও ধরনের হয়রানি করা হবে না।’