মীরসরাইয়ে চাঁদার দাবিতে সাবেক মেম্বারের ওপর হামলার অভিযোগ

মীরসরাইয়ে চাঁদা না পেয়ে খালেদা আক্তার (৬৫) নামে সাবেক এক মেম্বারের ওপর হামলার অভিযোগ পাওয়া গেছে। বুধবার (২৫ সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলার ওসমানপুর ইউনিয়নের মরগাং গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। 

খালেদা আক্তার ওই গ্রামের মৃত মো. এছাকের স্ত্রী। তিনি ওসমানপুর ইউনিয়নের সাবেক সংরক্ষিত ওয়ার্ডের সদস্য ও তার স্বামী মৃত মো. এছাক একই ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য ছিলেন। হামলায় জড়িতদের শাস্তির দাবিতে ওই দিন দুপুরে সেনাবাহিনীর মীরসরাই ক্যাম্পে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগী।

লিখিত অভিযোগে খালেদা আক্তার উল্লেখ করেন, বুধবার সকালে আমাদের একই বাড়ির মৃত মো. ইসমাঈল মেম্বারের ছেলে মো. নুরুল আবছার ও পাশের বাড়ির মৃত জালাল আহমদের ছেলে মো. জিয়া উদ্দিন আহমদ ফরহাদ আমার কাছে ৯ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তারা আমাকে মারধর করে। সেইসঙ্গে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দিয়ে যান। 

লিখিত অভিযোগে তিনি আরও উল্লেখ করেন, ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর ৭ আগস্ট বিকালেও দেশি অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে নুরুল আবছার ও মো. জিয়া উদ্দিন আমার কাছে ৯ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। চাঁদার টাকা না দিলে আমাদের পরিবারের সবাইকে মেরে লাশ গুম করার পাশাপাশি আমাদের মৎস্য প্রকল্পের মাছ লুট ও দখলের হুমকি দেন তারা। পাশাপাশি বিভিন্ন নম্বর থেকে ফোন দিয়ে আমাকে হুমকি দিয়ে যাচ্ছে।

খালেদা ছেলে ইলিয়াছ মাসুক বলেন, নুরুল আবছার সম্পর্কে আমার জেঠাতো ভাই। সম্পত্তি বণ্টন নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আমাদের সঙ্গে বিরোধ করে চলে আসছে তাদের। নুরুল আবছার ও জিয়া উদ্দিনসহ আরও কয়েকজন আমাদের বাড়িতে গিয়ে মা ও ছোট ভাইকে মারধর করে এবং ৯ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। পরবর্তীতে মাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে চট্টগ্রাম শহরের একটি হাসপাতালে ভর্তি করিয়েছি। অপরাধীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি জানাচ্ছি আমরা।

চাঁদা দাবি ও মারধরের বিষয়ে মো. নুরুল আবছার বলেন, ‘খালেদা আক্তারের পরিবার দীর্ঘ ১৭ বছর আমাদের ওপর নির্যাতন করে আসছে। পারিবারিক সম্পত্তির ভাগ দিয়ে জবর দখল করে রেখেছেন। আমি চাঁদা দাবি করেছি মর্মে গত ১০ আগস্ট তারা আমাদের বিরুদ্ধে সেনাবাহিনীর কাছে মিথ্যা অভিযোগ দিয়েছিল। বুধবার সকালে আমার চাচি খালেদা আক্তারের কাছে অভিযোগের বিষয়ে জিজ্ঞেস করতে গেলে তারা আমার ওপর হামলা চালান। এ ঘটনায় আমিও সেনাবাহিনীর মীরসরাই ক্যাম্পে অভিযোগ দিয়েছি।’