গরুর হাট নিয়ে আ.লীগ-বিএনপি সংঘর্ষ, ৬ জনকে পিটিয়ে জখম

লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে গরুর হাটের নিয়ন্ত্রণ নিতে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির দুটি গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা রশিদ মোল্লা গ্রুপ এবং সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান ও বিএনপি নেতা হারুনুর রশিদ হাওলাদার গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষে ছয় জন গুরুতর আহত হয়েছেন। এ নিয়ে ওই এলাকায় ক্ষোভ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে।

জানা গেছে, শুক্র ও শনিবার বিভিন্ন সময়ে দক্ষিণ চরবংশী ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের ৬ জনকে পিটিয়ে মারাত্মক আহত করেন বিএনপি নেতা হারুনুর রশিদ হাওলাদারের পক্ষের লোকজন। আহতরা হলেন- মোঃ হুমায়ুন (৩৫), রুহুল আমিন (৪২), আলমগীর হোসেন (৩৭), দুলাল সৈয়াল (৪৮), বেলাল হোসেন (৪২) ও আলমগীর মোল্লাকে (৩৮)।

শনিবার (৫ অক্টোবর) দুপুরে মোল্লারহাট বাজারের গরুর হাট দখল নিয়ে বেড়িবাঁধের ওপর দুই পক্ষের লোকজন সশস্ত্র অবস্থান নেয়। খবর পেয়ে সেনাবাহিনীর সহযোগিতায় এসিল্যান্ড ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করেন। পরে এসিল্যান্ড গরুর হাটে নিজে দাঁড়িয়ে থেকে সার্ভেয়ারসহ কর্মচারীদের দিয়ে খাস কালেকশন করেন।

রায়পুর উপজেলা সরকারি কমিশনার (ভূমি) শাহেদ আরমান বলেন, ‘মোল্লারহাট বাজারের গরুর হাট দখল ও মারামারি খবর পেয়ে সেনাবাহিনী পাঠিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রন করা হয়। সমস্যা সমাধান না হওয়া পর্যন্ত গরুর হাটের খাস কালেকশন ভূমি অফিসের কর্মকর্তাদের দিয়ে তুলে সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হবে।’

মোল্লারহাট বাজারের ব্যবসায়ী, চরকাছিয়া গ্রামবাসী ও কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী জানান, বিগত ৩০ বছর ধরে দক্ষিণ চরবংশী ইউনিয়ন পরিষদের সামনে মোল্লারহাট বাজার গরুর হাট আওয়ামী লীগ নেতা সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আবদুর রশিদ মোল্লা নিজেদের দাবি করে দখলে রেখে খাজনা আদায় করছেন। গত ৫ আগস্ট বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর রায়পুরের মোল্লারহাট বাজারে গরুর হাটটি স্থান পরিবর্তন করে বিএনপি নেতা সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান হারুনুর রশিদ হাওলাদার জমিতে নিয়ে ইউনিয়নের ছাত্র-জনতার মাধ্যমে খাস কালেকশন করে সরকারি কোষাগারে টাকা জমা দেওয়ার দায়িত্ব দেয় উপজেলা প্রশাসন।

গত শনিবার (২৮ সেপ্টেম্বর) রশিদ মোল্লা তার লোকজন নিয়ে ইউনিয়ন পরিষদের সামনে গরুর হাটটি পুনরায় এনে খাজনা আদায় করেন। গতকাল শনিবার আবারও গরুর হাট একই স্থানে বসানোর প্রস্তুতি নেওয়ার সংবাদে শুক্রবার বিকালে ও শনিবার বিভিন্ন সময়ে রশিদ মোল্লার পক্ষের ৬ জনকে পিটিয়ে গুরুতর জখম করেন হারুনুর রশিদের লোকজন।

এ ঘটনায় দক্ষিণ চরবংশী ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা আবদুর রশিদ মোল্লা এবং  সাবেক চেয়ারম্যান বিএনপি নেতা হারুনুর রশিদ হাওলাদার উভয়ই পরস্পরবিরোধী বক্তব্য দিয়েছেন।

রায়পুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইমরান খান বলেন, ‘মোল্লারহাটের গরুর হাট নিয়ে উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। সমস্যা সমাধান না হওয়া পর্যন্ত গরুর হাটের খাস কালেকশন ভুমি অফিসের কর্মকর্তাদের দিয়ে তুলে সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হবে।’