সাহেবরা বাংলাদেশে পরিবার বেগমপাড়ায়, এরা নাকি দেশপ্রেমিক: জামায়াত আমির

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘জনগণের হাজার হাজার লাখ লাখ কোটি টাকা ফ্যাসিস্ট দল ও তাদের দোসররা মিলে লুটপাট করেছে। সেই টাকা বাংলাদেশের রাখার সৎসাহস নেই বলে বিদেশের মাটিতে পাচার করেছে। সাহেবরা বাংলাদেশে আর তাদের পরিবার বেগমপাড়ায়, এরা নাকি দেশপ্রেমিক।’

মঙ্গলবার (১৫ অক্টোবর) দুপুরে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আব্দুল কুদ্দুস মাখন মুক্তমঞ্চ ময়দানে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত কর্মী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

শেখ হাসিনার ও শেখ রেহানার ছেলেদের দিকে ইঙ্গিত করে জামায়াতের আমির বলেন, ‘নিজেদের ছেলের জন্য বাংলাদেশে একটি মেয়েও খুঁজে পান না, তারা আবার চেতনার দোহাই দেন। নিজের মেয়ের জন্য বাংলাদেশের একটি ছেলেও তাদের পছন্দ হয় না, তারা দেশপ্রেমের দোহাই দিতেন। তাদের ওই চেতনা বাংলাদেশের মানুষ পছন্দ করেন নাই। দীর্ঘ সাড়ে ১৫ বছর জাতির ওপর তারা তাণ্ডব চালিয়েছেন। এমন কোনও মানুষ নেই, তারা কয়জন ছাড়া, যারা নির্যাতিত নিষ্পেষিত হয়নি।’

তিনি বলেন, ‘আমরা নিজের হাতে আইন তুলে নেবো না। কিন্তু আমাদের দেশপ্রেমিক নাগরিক আলেম-ওলামা যাদের হত্যা করা হয়েছে, এ হত্যাকারীদের আমরা বিচার চাই। মক্কা বিজয় দিনে নবী (সা.) ধর্মের বিরোধিতাকারী সবাইকে ক্ষমা করে দিয়েছিলেন। কিন্তু যারা মানুষ হত্যা করেছিল, তাদের তিনি ক্ষমা করেন নাই। ১০ জনের নাম উল্লেখ করে বলেছিলেন, হত্যাকাণ্ডের রায় হচ্ছে একমাত্র মৃত্যুদণ্ড। সুতরাং এদের যেখানেই পাওয়া যাবে সেখানে হত্যা করতে হবে। যারা হত্যাকারী তাদের শাস্তি পেতেই হবে। সাড়ে ১৫ বছর বিভিন্ন পর্যায়ে যাদের হত্যা করা হয়েছে, ২০২৪ সালে জুলাই-আগস্ট মাসে যে গণহত্যা করা হয়েছে, সে হত্যাকারী, হত্যার নির্দেশদাতা, পরিকল্পনাকারী, বাস্তবায়নকারী সবগুলোকে বিচার আওতায় অবশ্যই আনতে হবে।’

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমরা এমন একটা দেশ চাই, যেটি অন্য কোনও দেশের শক্তি কিংবা অধীনতা মেনে নেবে না। পৃথিবীর অন্য দশটি দেশ যেমন মাথা উঁচু করে বিশ্বের বুকে দাঁড়ায়, বাংলাদেশ ইনশাআল্লাহ তার শির উঁচু করে দাঁড়াবে। বিদেশে আমাদের বন্ধু থাকবে কিন্তু আমরা কোনও প্রভু মেনে নেবো না। কেউ আমাদের ওপর প্রভুত্ব করতে এলে জনগণ তাকে তার সঠিক জবাব সময়মতো দেবে।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের ১০ দফার কথা বলা হয়েছে, না আমাদের ৪১ দফা। সমস্ত শ্রেণি-পেশা, ধর্ম-বর্ণ সবার অধিকারের প্রতি সম্মান রেখে আমাদের ৪১ দফা রচিত হয়েছে। প্রাথমিকভাবে আমরা ১০ দফা এনেছি অন্তর্বর্তী সরকারের জন্য। আমরা সব দফা যদি তাদের ঘাড়ে উঠিয়ে দিই তাহলে পরবর্তী নির্বাচিত সরকার এসে কী করবে? আমরা বেশ কিছু দফা নির্বাচিত সরকারের জন্য রাখতে চাই।’

সরকারি আশ্রয়ণ প্রকল্পের কথা তুলে ধরে ডা.শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমাদের দেশে কিছু দিন আগে সরকারি আশ্রয়ণ তৈরি হয়েছে। অনেক জায়গায় তৈরি করার আগে মাটিতে লুটিয়ে পড়েছে। এটি ছিল জনগণের চোখে ধুলা দেওয়ার শামিল।’

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা জামায়াতে ইসলামের আমির মোহাম্মদ গোলাম ফারুকের সভাপতিত্বে সভায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জামায়েত ইসলামের কুমিল্লা মহানগরীর আমির কাজী দ্বীন মোহাম্মদ, কুমিল্লা নোয়াখালী অঞ্চলের টিম সদস্য মোহাম্মদ আব্দুস সাত্তার, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার সাবেক আমির গোলাম সারোয়ার, কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্যসহ জেলা পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।