নোয়াখালীতে আওয়ামী লীগপন্থি আইনজীবীদের রাজনীতি নিষিদ্ধের দাবি

আদালত প্রাঙ্গণে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী ও আইনজীবীরা বিভিন্ন স্লোগান দেওয়ায় এর প্রতিবাদে নোয়াখালী চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন। এ সময় আওয়ামী লীগপন্থি আইনজীবীদের রাজনীতি নিষিদ্ধের দাবি জানান তারা।

‘নোয়াখালীর সর্বস্তরের সাধারণ ছাত্র-জনতা’ ব্যানারে মঙ্গলবার (২২ অক্টোবর) বেলা ১১টায় এ সমাবেশ করা হয়। এতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক, জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম ও ছাত্রদলের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

সমাবেশে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নোয়াখালীর সমন্বয়ক আরিফুল ইসলাম বলেন, ‘ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা পালিয়ে গেলেও তার দোসররা রয়ে গেছে। তারা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির ষড়যন্ত্র করছে। শহীদদের রক্তের দাগ না শুকাতেই তারা আদালত প্রাঙ্গণে আওয়ামী লীগের স্লোগান দিচ্ছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে তাদের রাজনীতি নিষিদ্ধ ঘোষণা করতে হবে।’

আরেক সমন্বয়ক বনি ইয়ামিন বলেন, ‘ফ্যাসিস্টের দোসররা এত বড় সাহস পেলো কীভাবে? প্রশাসনের ভেতর ঘাপটি মেরে বসে থাকা দোসররা তাদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দিচ্ছে। যতই ষড়যন্ত্র করুক, তারা আর বাংলার মাটিতে মাথা তুলে দাঁড়াতে পারবে না। ফ্যাসিস্টরা যদি আবারও মাথা তুলে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে, তবে ছাত্র-জনতা রুখে দেবে। যেকোনো মূল্যে তাদের প্রতিহত করা হবে।’

সমাবেশে জেলার আইনজীবী রবিউল হাসান পলাশ বলেন, ‘আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য একরামুল করিম চৌধুরীকে সোমবার আদালতে তোলা হয়েছিল। আমরা কেউ তা জানতাম না। সেখানে আওয়ামী লীগপন্থি আইনজীবীরা বিচারকের সামনে হট্টগোল করেছেন। এই দুঃসাহস তারা কোথায় পেলেন? আওয়ামী লীগের কোনও আইনজীবী আদালতে রাজনীতি করতে পারবেন না। তাদের রাজনীতি নিষিদ্ধ করতে হবে।’

আদালত সূত্রে জানা যায়, নোয়াখালী-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য একরামুল করিম চৌধুরীকে সোমবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে নোয়াখালীর চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে তোলা হয়। ট্রাকশ্রমিক মো. খোকন হত্যা মামলার শুনানির জন্য তাকে আদালতে হাজির করা হয়। ওই সময় আদালত প্রাঙ্গণে আওয়ামী লীগের অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী জড়ো হন। শুনানি শেষে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন বিচারক। এর প্রতিবাদে আওয়ামী লীগপন্থি আইনজীবীরা বিচারকের সামনে হট্টগোল করেন। আদালত প্রাঙ্গণে ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগান দেন তারা। 

এরপর আদালত থেকে একরামুলকে কারাগারে নেওয়ার সময় নেতাকর্মীরা মুক্তির দাবিতে আদালত প্রাঙ্গণে নানা স্লোগান দিতে থাকেন। ওই সময় নেতাকর্মীরা, ‘একরাম ভাই ভয় নাই, রাজ পথে ছাড়ি নাই’, ‘শেখ হাসিনা ভয় নাই, রাজ পথ ছাড়ি নাই’, ‘জাতির পিতা শেখ মুজিব, লও লও লও সালাম’ বলে স্লোগান দেন। এর প্রতিবাদে মঙ্গলবার বেলা ১১টায় বিক্ষোভ সমাবেশের ডাক দেয় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন।