ফেনীতে ছাত্র-জনতার আন্দোলনে টমটমচালক জাফর আহাম্মদ হত্যা মামলায় ফেনী-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য রহিম উল্লাহর পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। বুধবার দুপুরে অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বেগম শামসাদ বেগমের আদালত এ রিমান্ড মঞ্জুর করেন। মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবী মেজবাহ উদ্দিন ভূঁইয়া আদালতের আদেশের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, হত্যা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও ফেনী মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) নাজমুল হাসান আসামি রহিম উল্লাহর সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে আবেদন করেন। শুনানি শেষে পাঁচ দিন রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন বিচারক।
ঢাকার ধানমন্ডি এলাকায় নিজ বাসা থেকে ১২ অক্টোবর রহিম উল্লাহকে আটক করে র্যাব। পরদিন টমটমচালক জাফর আহাম্মদ হত্যা মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে ফেনী সদর আমলি আদালতে হাজির করা হলে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন বিচারক।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, গত ৩ আগস্ট শহরের ট্রাংক রোডে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনে অংশ নেন টমটমচালক জাফর আহাম্মদ। আন্দোলনে তার অংশগ্রহণের বেশ কিছু ছবি ফেসবুকসহ বিভিন্ন অনলাইনে প্রকাশ হয়। ওই দিন শর্শদি ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান জানে আলম ভূঁইয়াসহ ১০-১১ জন আসামি জাফরের বাড়িতে গিয়ে হত্যার হুমকি দেন। ভয়ে স্ত্রী আছিয়া স্বামীকে সেদিন বাসায় আসতে নিষেধ করেন। জাফরও স্ত্রীর কথামতো সেদিন আর বাসায় ফেরেননি। পরদিন দুপুরে জাফরকে ফেনী শহরের পুরোনো জেল রোডের জেলা কারাগারের সামনে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে ও পিটিয়ে আহত করা হয়। খবর পেয়ে রক্তাক্ত অবস্থায় রাস্তা থেকে উদ্ধার করে ফেনী জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
এ ঘটনায় ৫ সেপ্টেম্বর নিহত জাফরের স্ত্রী আছিয়া বেগম বাদী হয়ে ২০৫ জনের নাম উল্লেখসহ ১০০-১০৫ জনকে অজ্ঞাতপরিচয় আসামি করে ফেনী মডেল থানায় মামলা করেন। মামলায় জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য ও ফেনী-৩ আসনের সদ্য সাবেক সংসদ সদস্য মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী ও ফেনী-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নিজাম উদ্দিন হাজারীসহ আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের আসামি করা হয়।
রহিম উল্লাহ ২১ বছর সৌদি আরবের জেদ্দা আওয়ামী লীগের সভাপতি ছিলেন। ২০১৪ সালে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে ফেনী-৩ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। গত ৭ জানুয়ারি দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট কারচুপি, এজেন্টদের বের করে দেওয়া ও ভোটকেন্দ্রে নানা অনিয়মের অভিযোগ এনে ফলাফল ঘোষণার আগমুহূর্তে ভোট বর্জনের ঘোষণা দেন তিনি।