নাফ নদে মাছ শিকার, শাহপরীর করিডর খুলে দিতে মানববন্ধন

বিগত আওয়ামী লীগ সরকার কক্সবাজারের টেকনাফ সীমান্তে মাদক-রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশের অজুহাতে নাফ নদে মাছ শিকারের পাশাপাশি বন্ধ করে দেয় শাহপরীর দ্বীপের করিডর। এতে লাখো মানুষের দুর্দিন যাচ্ছে। এ ছাড়া বৈধপথ বন্ধ রাখায়, সীমান্তে বেড়েছে অবৈধ চোরাচালান।

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পতন হওয়ায় তার সরকারের দেওয়া নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে বুধবার (৩০ অক্টোবর) বিকালে টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপ নাফ নদের পাড়ে মানববন্ধন করেছেন সীমান্তের বসবাসকারীরা। এতে জেলেদের পাশাপাশি শ্রমিক ও পশু ব্যবসায়ীরা অংশ নেন।

মানববন্ধনে অংশ নেওয়া স্থানীয় ব্যবসায়ী মো. আব্দুল্লাহ বলেন, ‘ফ্যাসিবাদ সরকারের সাবেক এমপিরা সীমান্তে চোরাচালান অব্যাহত রাখতে নাফ নদে মাছ শিকার-করিডরসহ সকল বৈধপথ বন্ধ করে দিয়েছিল। যাতে তার সরকারের দুর্নীতিবাজ সাবেক এমপিরা অবৈধ চোরাচালান করতে পারে। কিন্তু সেই অবৈধ সরকারের পতন হলেও তার দেওয়া অবৈধ নিষেধাজ্ঞা এখনও প্রত্যাহার হয়নি, যা খুবই দুঃখজনক। তাই আমরা বর্তমান সরকারের প্রধান উপদেষ্টার কাছে দাবি জানাই, লাখো মানুষের জীবিকার পথ নাফ নদে মাছ শিকার ও শাহপরীর দ্বীপ করিডোর খুলে দেওয়া হোক।’

টেকনাফ শাহপরীর দ্বীপ করিডরের আমদানিকারক সমিতির সভাপতি মো.কাশেম বলেন, ‘প্রায় চার বছর ধরে মিয়ানমার থেকে গবাদিপশু গরু-মহিষ আমদানির করিডর বন্ধ রয়েছে। মাদকের তকমা দিয়ে এই বৈধ ব্যবসা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এই অঞ্চলের মানুষ অভাব অনটনে দিন পার করছে, লক্ষাধিক মানুষ এই জীবিকার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। সবাই এখন বেকার, অতি শিগগির এই করিডর খুলে দিয়ে সাধারণ মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টির দাবি জানাচ্ছি।’

জেলে নুর আমিন বলেন, ‘মৎস্য আহরণ করে জীবিকা নির্বাহের একমাত্র পথ নাফ নদে মাছ ধরা বন্ধ ৭ বছর। ভালোমতো খেতে পারি না। ছেলেদের পড়ালেখার খরচ জোগাতে হিমশিম খাচ্ছি। এভাবে আর কতদিন না খেয়ে বাঁচবো! আমাদের পেট ও পরিবারের দিকে তাকিয়ে দ্রুত নাফ নদে মাছ ধরা নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করুন।’

এদিকে, ২০১৭ সালে নাফ নদে মাছ শিকার এবং ২০২০ সালে শাহপরীর দ্বীপ করিডর বন্ধ করে দেয় আওয়ামী লীগ সরকার।