বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, ‘বিগত দিনগুলোতে আমরা রাজপথে রক্ত দিয়েছি, জেলে গিয়েছি, অনেক নেতাকর্মী হারিয়েছি, জীবনে অনেক কিছুই হারিয়েছি। কিন্তু একটা জায়গায় ভালো কাজ করেছি। বিএনপি নেতাকর্মীরা জ্বলে-পুড়ে খাঁটি সোনায় পরিণত হয়েছে। এজন্য বিএনপিকে ভাঙতে পারেনি। আমরা আজ অনেক শক্তিশালী। বিএনপিকে যারা যখন থামাতে গিয়েছে, তখনই তারা ধ্বংস হয়ে গেছে। বিএনপি কোথায় আর যারা ধ্বংস করতে চেয়েছিল তারা আজ কোথায়?’
শনিবার (১৬ নভেম্বর) বিকালে চট্টগ্রাম নগরের ষোলশহরের বিপ্লব উদ্যানে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিতব্য যুবদলের দিনব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে সমাবেশে এসব কথা বলেন তিনি।
যুবদলের সভাপতি আব্দুল মোনায়েম মুন্নার সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম নয়নের পরিচালনায় সমাবেশে বিশেষ অতিথি ছিলেন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবের রহমান শামীম, সাংগঠনিক সম্পাদক ও সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন, কেন্দ্রীয় বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন ও মহানগর বিএনপির সদস্যসচিব নাজিমুর রহমান।
সমাবেশের আগে বিপ্লব উদ্যানে রং তুলিতে আঁকা স্বাধীনতার ঘোষণা চিত্র প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন মাহবুবের রহমান শামীম ও মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন।
আমির খসরু বলেন, ‘আবারো বলছি, বিএনপিকে থামানোর চেষ্টা করবেন না। দেশের গণতন্ত্রের মাধ্যমে জনগণ তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করে তাদের সরকার, তাদের সংসদ দেখতে চাই। এটা বাধাগ্রস্ত করার কোনও সুযোগ নেই। বিএনপি এজন্য বিগত দিনে অনেক ত্যাগ শিকার করেছে, প্রয়োজনে আবার ত্যাগ শিকার করতে আমরা রাজি আছি।’
দেশের রাজনীতি কেমন হবে তার সিদ্ধান্ত জনগণ দেবে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘দেশের গণতন্ত্র কেউ কেড়ে নিতে পারবে না। কেউ বলে দিতে পারে না আগামী দিনের বাংলাদেশের রাজনীতি কী হবে। এ সিদ্ধান্ত দেবে বাংলাদেশের জনগণ। এই সিদ্ধান্ত অন্য কেউ দেওয়ার কোনও সুযোগ নেই।’
জনগণের সিদ্ধান্ত অন্য কেউ দেওয়ার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘জনগণের সিদ্ধান্ত অনেকে অনেকবার দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। স্বাধীনতার পর শেখ মুজিবুর রহমান সাহেবও চেষ্টা করেছিলেন, তিনি কি সফল হয়েছেন? এরপর এরশাদ চেষ্টা করেছিল, শেখ হাসিনা চেয়েছিল, তারা কি পেরেছে? তাই সেদিকে না গিয়ে জনগণের সিদ্ধান্ত তাদের দিতে দেন।’