ছেলের বিয়ের অনুষ্ঠান থেকে গ্রেফতার আওয়ামী লীগ নেতা কারাগারে

ছেলের বিয়ের অনুষ্ঠান থেকে গ্রেফতার চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক শিল্প ও বাণিজ্যবিষয়ক সম্পাদক ফখরুল আনোয়ার চৌধুরীকে (৫৮) কারাগারে পাঠানো হয়েছে। 

নগরের কোতোয়ালি থানায় দায়ের হওয়া একটি হত্যাচেষ্টা মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখিয়ে রবিবার (২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে আদালতে সোপর্দ করা হয়। একইসঙ্গে জিজ্ঞেসাবাদের জন্য ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করে পুলিশ। আদালতে আজ রিমান্ড শুনানি হয়নি। তবে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেওয়া হয়। চট্টগ্রামের ৬ষ্ঠ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কাজী শরিফুল ইসলাম শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।

চট্টগ্রাম মহানগর দায়রা জজ আদালতের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) মফিজুল হক ভূঁইয়া বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘কোতোয়ালি থানার একটি মামলায় আওয়ামী লীগ নেতা ফখরুল আনোয়ারকে আদালতে হাজির করে পুলিশ। আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।’ 

আদালত ও মামলা সূত্রে জানা গেছে, গত ৪ আগস্ট বেলা সাড়ে ১১টার দিকে নগরের নিউমার্কেট মোড়ে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন করছিলেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামী শিক্ষা বিভাগের চতুর্থ বর্ষের ছাত্র মো. তাফহীমুল ইসলাম। এ সময় তাদের ওপর আগ্নেয়াস্ত্র, ককটেল, কিরিচ, হকিস্টিক নিয়ে হামলা করা হয়। এতে তাফহীমুলের ডান হাতের কবজিতে গুলি লাগে। যা হাতের এক পাশে ঢুকে অন্য পাশ দিয়ে বের হয়ে যায়। তাকে উদ্ধার করে সহপাঠীরা নগরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যান। এরপর চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করা হয়। ওই ঘটনায় ২৩ সেপ্টেম্বর ওই ছাত্র বাদী হয়ে ৭৩৫ জনের নাম উল্লেখ করে এক হাজার ২০০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে হত্যাচেষ্টা মামলা করেন। ওই মামলার ১০ নম্বর আসামি ফখরুল আনোয়ার চৌধুরী।

গতকাল শনিবার রাতে নগরের টাইগারপাসের নেভি কনভেনশন সেন্টার থেকে ফখরুল আনোয়ারকে গ্রেফতার করা হয়। তিনি আওয়ামী লীগ সরকারের সংসদ সদস্য খাদিজাতুল আনোয়ারের চাচা।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ওই কনভেনশন সেন্টারে ফখরুল আনোয়ারের ছেলের বিয়ের অনুষ্ঠান ছিল। কনে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র মোহাম্মদ মনজুর আলমের নাতনি। বিয়েতে চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির দুই সাবেক সংসদ সদস্য সৈয়দ নজিবুল বশর মাইজভান্ডারী ও খাদিজাতুল আনোয়ারের উপস্থিত থাকার খবর ছড়িয়ে পড়ে। এ খবর শুনে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের একদল কর্মী কনভেনশন সেন্টারে হাজির হন। কনভেনশন সেন্টার ঘেরাও করে তখন তারা ‘আবু সাঈদ মুগ্ধ, শেষ হয়নি যুদ্ধ’, ‘আমার ভাই কবরে, খুনি কেন বাইরে’ স্লোগান দিতে থাকেন। এ রকম একটা ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় সেখান থেকে বরের বাবা ফখরুল আনোয়ারকে গ্রেফতার করা হয়।