কেন্দ্র দখল করে ব্যালটে সিল, ব্যালট ছিনতাই, হামলা-সংঘর্ষ ও ককটেল বিস্ফোরণের মধ্যে দিয়ে রবিবার ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এসব অনিয়মের কারণে বিএনপি মনোনীত মেয়র প্রার্থী ও বিভিন্ন ওয়ার্ড কাউন্সিলর প্রার্থীরা নির্বাচন বর্জন করেছে।
সকাল ৮টার দিকে ভোটগ্রহণ শুরুর আধ ঘণ্টা পর একদল দুর্বৃত্ত শহরের পুনিয়াউট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোট কেন্দ্রে ককটেল হামলা চালিয়ে ব্যালট পেপারসহ ভোট গ্রহণের সরঞ্জাম লুটে করে নিয়েছে।এর ফলে ওই কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ সাময়িক বন্ধ থাকে। দুই ঘণ্টা পর আবার ভোটগ্রহণ শুরু হয়।
ওই কেন্দ্রের প্রিসাইডিং অফিসার মঞ্জুর হোসেন চৌধুরী জানান, ভোটগ্রহণের কিছুক্ষণ পরই কয়েকজন স্বশস্ত্র যুবক জোরপূর্বক কেন্দ্রে ঢুকে কিছু ব্যালট পেপার ও ১৬টি ভোটার সিল,আটটি অফিসিয়াল প্যাড ও আটটি স্ট্যাম্প প্যাড লুট করে নিয়ে গেছে।
বেলা ১১টার দিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি মহিলা কলেজ কেন্দ্রে গিয়ে জাল ভোটের মহোৎসব দেখা যায়। জেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. মমিন মিয়ার নেতৃত্বে তার সমর্থকরা সকাল থেকেই এই ভোট কেন্দ্রটি নিজের দখলে নিয়েছেন। তারা কেন্দ্রের ভেতরে প্রকাশ্যে মেয়র ও কাউন্সিলর পদে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থীদের প্রতীকে সিল মারছেন। এ সময় অন্য মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীদের অ্যাজেন্টদের কেন্দ্র থেকে বের করে দেওয়া হয়।
দুপুর ১২টার দিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজ সংলগ্ন কলেজ পাড়া এলাকায় অর্ধশতাধিক ককটেল বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। এতে কেউ হতাহত না হলেও সরকারি কলেজ ভোট কেন্দ্রে কিছুক্ষণ ভোটগ্রহণ বন্ধ ছিল। পরে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
জানা যায়, কলেজ সংলগ্ন জেলা বিএনপির সভাপতি ও মেয়র প্রার্থী হাফিজুর রহমান মোল্লা কচি তার নিজ বাসভবনে সংবাদ সম্মেলন করে নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন। সংবাদ সম্মেলন শেষে তার সমর্থকরা একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করে সরকারি কলেজের সামনে আসা মাত্রই কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটে। এর পরপরই কলেজের সামনে দুর্বৃত্তরা অন্তত অর্ধশত ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায়।
এছাড়া শহরের চার নম্বর ওয়ার্ডে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারি চার কাউন্সিলর প্রার্থী কেন্দ্র দখল ও অ্যাজেন্টদের কেন্দ্র থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ এনে নির্বাচন বর্জন করেছেন। দুপুরে ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেসক্লাবের সামনে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ শেষে নির্বাচন বর্জনকারী চার প্রার্থী হলেন- অজিত কুমার দাস (পানির বোতল), আহসান উল্লাহ হাসান (টিউব লাইট), কিংকর ঘোষ (পাঞ্জাবি), মইনুল ইসলাম টুটুল (টিউব লাইট)।
সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি মনোনীত মেয়র প্রার্থী হাফিজুর রহমান মোল্লা কচি বলেন,৪৮টি কেন্দ্রের মধ্যে ৪৩টি কেন্দ্রই সরকার দলীয় প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকরা দখল করেছেন। তারা এসব কেন্দ্র থেকে বিএনপির অ্যাজন্টদের বের করে দিয়ে ব্যালট বইয়ে আগে থেকেই নৌকা প্রতীকে সীল মেরে রাখেন বলে অভিযোগ করা হয়।
উল্লেখ্য, ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরসভায় মোট এক লাখ আট হাজার ১৯৯ জন ভোটার রয়েছেন। নির্বাচনে মেয়র পদে ৫ জন, সাধারণ কাউন্সিলর পদে ৬০ জন এবং সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর পদে ১১ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।