বৈষম্যবিরোধী ছাত্র প্রতিনিধি নামে অপহরণের পর মুক্তিপণ আদায়, গ্রেফতার ৪

চট্টগ্রামে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র প্রতিনিধি নাম দিয়ে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা আবেদিন আল মামুনসহ তার গাড়ি চালককে অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগে চার জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

গ্রেফতাররা হলেন- উত্তর কাট্টলীর জয়নাল আবেদিনের ছেলে নাজমুল আবেদিন (২৩), সিটি গেট এলাকার মাইনুল আমিন পারভেজের ছেলে নইমুল আমিন ইমন (২২), সিডিএ ১ নম্বর এলাকার বাসিন্দা আরাফাত হোসেন ফহিম (২২) ও রিসতি বিন ইউসুফ (২৩)। বৃহস্পতিবার (৬ মার্চ) রাতে নগরের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করে পুলিশ।

শুক্রবার (৭ মার্চ) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানিয়েছে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) জনসংযোগ শাখা।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে কর্নেলহাট সিডিএ আবাসিকের প্রভাতি এলাকার বাসা থেকে সিইপিজেড-এ অবস্থিত প্যাসিফিক জিনস কারখানার অ্যাসিস্ট্যান্ট জেনারেল ম্যানেজার আবেদিন আল মামুনকে অপহরণ করা হয়। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র প্রতিনিধির পরিচয়ে মুক্তিপণ আদায়ের উদ্দেশ্যে তাকে তার নোহা গাড়িযোগে পতেঙ্গা সাগরপাড় এলাকা, পাহাড়তলীর কর্নেল হাট জোন্স রোড ও আকবর শাহ থানার বিভিন্ন এলাকায় ঘোরাফেরা করে। এ সময় অপহরণ হওয়া আবেদিন আল মামুনের সঙ্গে জিম্মি অবস্থায় ছিল তার গাড়িচালক জুয়েলও। পরে আবেদীন আল মামুনের স্ত্রী ফাতেমা আক্তারের কাছে ২০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে অপহরণকারীরা। ৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ নগদে আদায় করা হয়, বাকি ১৫ লাখ টাকার চেক লিখে নেওয়া হয়।

ইতোমধ্যে অপহরণের খবর ছড়িয়ে পড়লে নগর পুলিশ পুরো শহরে তল্লাশি অভিযান শুরু করে। একপর্যায়ে ফয়’স লেক চক্ষু হাসপাতালের সামনে আবেদিন আল মামুন ও তার গাড়িচালককে রেখে চলে যায় অপহরণকারীরা। এর আগে নগরের পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকত, পাহাড়তলী কর্নেল হাট ও আকবর শাহ এলাকায় অপহৃতদের ঘোরানো হয়।

এ প্রসঙ্গে আকবর শাহ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কামরুজ্জামান বলেন, ‘অপহরণের অভিযোগে পৃথক পৃথক এলাকা থেকে চার জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতার নইমুল আমিন ইমনের বাসা থেকে মুক্তিপণ হিসেবে নেওয়া পাঁচ লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে।’