চট্টগ্রাম, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও গাইবান্ধায় পানিতে ডুবে ছয় শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায় পুকুরের পানিতে ডুবে দুই যমজ ভাইয়ের মৃত্যু হয়। শনিবার (২৪ মে) বেলা ২টার দিকে উপজেলার বড়হাতিয়া ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের হরিদার ঘোনা পল্লনের পাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
মৃত শিশুরা হলো- ওই এলাকার বাসিন্দা আজিজুল হক মাঝির চার বছর বয়সী ছেলে আবির হোসেন ও আদিল হোসেন। স্থানীয় ইউপি সদস্য মামুনুর রশীদ চৌধুরী তাদের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
স্বজনদের বরাত দিয়ে তিনি বলেন, ‘খেলাধুলার সময় আবির ও আদিল হঠাৎ বাড়ির পাশের পুকুরের পানিতে পড়ে যায়। কিছুক্ষণ পর তাদের দেখতে না পেয়ে স্বজনরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একপর্যায়ে পুকুরে লাশ ভাসতে দেখে উদ্ধার করে উপজেলার একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
লোহাগাড়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) রবিউল আলম খাঁন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘পানিতে ডুবে দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে পরিবারের কোনও অভিযোগ না থাকায় লাশ দাফনের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।’
এদিকে, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে পুকুরের পানিতে ডুবে দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। শনিবার (২৪ মে) দুপুরে উপজেলার কুণ্ডা ইউনিয়নের কুণ্ডা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ওই এলাকায় শোকের ছায়া নেমেছে।
মৃত শিশুরা হলো- কুণ্ডা গ্রামের মো. মাফিকুল মিয়ার মেয়ে তাসকিয়া আক্তার (৫) ও উপজেলার চাতলপাড় ইউনিয়নের ধানতলিয়া গ্রামের দেলোয়ার হোসেনের মেয়ে তারা নূর (৪)। ওই দুই শিশু সম্পর্কে মামাতো ফুফাতো বোন। তারা নূর কুণ্ডা এলাকায় খালার বাড়িতে বেড়াতে গিয়েছিল।
মৃত দুই শিশু হলো- তাসকিয়া আক্তার (৫)। সে কুন্ডা ইউনিয়নের মো. মাফিকুল মিয়ার মেয়ে। অপর শিশু হলেন, তারানূর (৪)। সে উপজেলার চাতলপাড় ইউনিয়নের ধানতলিয়ার গ্রামের দেলোয়ারের মেয়ে। তারা নূর কুণ্ডা এলাকায় খালার বাড়িতে বেড়াতে গিয়েছিল।
দুই শিশুর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, শনিবার বেলা ১১টার দিকে বাড়ির পাশে পুকুর পাড়ে খেলছিল দুই শিশু। তাসকিয়ার মা পুকুরের ঘাটে গৃহস্থালি কাজ করছিলেন। কিছুক্ষণ পর দুজনকে দেখতে না পেয়ে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। আশপাশে না পেয়ে পরে স্থানীয় মসজিদের মাইকে নিখোঁজের বিষয়টি জানানো হয়। দুপুর ১২টার দিকে প্রতিবেশী এক ব্যক্তি পুকুরে দুই শিশুর লাশ ভাসতে দেখেন। এরপর তাদের নাসিরনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিক্যাল কর্মকর্তা চিকিৎসক সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘বর্ষাকালে এ ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা বাড়ে। এজন্য শিশুদের প্রতি অভিভাবকদের নজরদারি বাড়নো প্রয়োজন।’
নাসিরনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. খাইরুল আলম বলেন, ‘কোনও অভিযোগ না থাকায় শিশুদের লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা হবে।’
অপরদিকে, গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে বাড়ির পাশের ডোবার পানিতে ডুবে দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। কলাগাছের ভেলায় চড়ে খেলা করার সময় ডুবে তাদের মৃত্যু হয়। দুই শিশুর নাম হলো- আবিদ মিয়া (৬) ও লাবিব (৭)।
শনিবার (২৪ মে) দুপুরে পলাশবাড়ী পৌর শহরের বৈরি হরিণমারি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। আবিদ মিয়া ওই গ্রামের শফিকুল ইসলামের ও লাবিব একই গ্রামের আব্দুল আজিজের ছেলে।
পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দুপুরে বাড়ির পাশে বৃষ্টির পানিতে জমে থাকা ডোবায় কলাগাছের ভেলায় চড়ে খেলা করছিল দুই শিশু। একপর্যায়ে তারা ভেলা থেকে পড়ে ডুবে যায়। খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে বেলা আড়াইটার দিকে শিশু দুটির ভাসমান লাশ উদ্ধার করেন স্বজনরা।
পলাশবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জুলফিকার আলী ভুট্টু বলেন, ‘খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়। দুই শিশু পরিবারের অজান্তে বাড়ির পাশে কলাগাছের ভেলায় খেলা করার সময় পানিতে ডুবে মারা যায়। এমন মৃত্যুর কবল থেকে রক্ষায় অভিভাবকদের সচেতন হতে হবে।’