কর্ণফুলীতে চোরাই তেলের ব্যবসার আধিপত্য নিয়ে বিএনপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষ

চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদী সংলগ্ন ঘাট ও চোরাই তেলের ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিএনপির দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে কয়েকজন আহত হন। তাদেরকে স্থানীয় হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

বুধবার (২৮ মে) কর্ণফুলী উপজেলার জুলধা ইউনিয়নের ডাঙ্গারচর ৯ নম্বর বিওসি ঘাট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পরে ঘটনাস্থলে গিয়ে সেনাবাহিনীর একটি টিম পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

ঘটনাস্থল থেকে উপজেলার জুলধা ইউনিয়ন ৩ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি বাহারসহ চার জনকে আটক করে। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলে সন্ধ্যায় আটক ব্যক্তিদের কাছ থেকে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয় বলে জানা গেছে।

স্থানীয়রা জানান, গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতা হারানোর পর কর্ণফুলী নদীর ঘাট নির্ভর ‘পিলাই তেল’ পাচারচক্রের দখল নিয়ে বিএনপির অভ্যন্তরে দ্বন্দ্ব চরমে ওঠে।

জানা গেছে, জুলধা এলাকায় কর্ণফুলী নদীকেন্দ্রিক ‘পিলাই তেল’ (চোরাই তেল) ব্যবসায় একসময় একক আধিপত্য ছিল আওয়ামী লীগের আব্দুল শুক্কুর ওরফে ‘তেল শুক্কুর’-এর দখলে। গত বছরের আগস্টে দেশে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর এ ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীর মধ্যে দ্বন্দ্ব শুরু হয়। প্রাথমিকভাবে দুই পক্ষের মধ্যে ১৫ দিন করে ভাগাভাগির বিষয়ে সমঝোতা হয়। পরে একটি পক্ষ সেখানে একক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করলে অপর পক্ষ বাধা দেয়। ফলে ঘাটের নিয়ন্ত্রণ, তেল ওঠানোর সিরিয়াল ও লভ্যাংশ ভাগাভাগি নিয়ে দ্বন্দ্ব বাড়তে থাকে। এরই জেরে বুধবার সকাল থেকে দুই পক্ষ ঘাটে অবস্থান নিয়ে সংঘর্ষে জড়ায়।

ঘটনার বিষয়ে সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি।

তবে কর্ণফুলী থানার ওসি মুহাম্মদ শরীফ জানান, জুলধাতে দুই পক্ষের সংঘর্ষের ঘটনায় সেনাবাহিনী ঘটনাস্থল থেকে কয়েকজনকে আটক করেছিল। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে পরবর্তী সময়ে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়। এ বিষয়ে থানায় কোনও মামলা বা অভিযোগ হয়নি।

স্থানীয় বাসিন্দা নুরুল আমিন জানান, কর্ণফুলী নদীতে নোঙর করা জাহাজে থাকা তেল কম দামে কিনে নেয় একটি চক্র। এসব তেল পরে বেশি দামে বিক্রি করা হয়। মূলত জাহাজের কর্মকর্তারা মালিকের অজান্তেই এসব তেল বিক্রি করে দেয় কারবারিদের কাছে। দীর্ঘ দিন ধরে এ ব্যবসা করে আসছে যখন যে সরকার ক্ষমতায় থাকে সে দলের লোকজন। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর এ ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ নেয় বিএনপির নেতাকর্মীরা।