প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজনন ক্ষেত্র হালদা নদী থেকে সংগ্রহ করা ডিম আগামী মঙ্গলবার (৩ জুন) থেকে রেণু পোনা হিসেবে বিক্রি শুরু হবে। এবার প্রথম ধাপে প্রায় ১৪ হাজার কেজি ডিম সংগ্রহ হয়েছে। নদীর পাড়ের প্রায় ৫৫০ জন ডিম সংগ্রহকারী ২৫০টি নৌকা নিয়ে এসব ডিম সংগ্রহ করে। গত বছর প্রতিকেজি হালদা নদীর রেণু পোনা দুই লাখ টাকা থেকে ৫০ হাজার টাকায় বিক্রি করা হয়।
বর্তমানে এসব ডিম নদীর পাড়ে স্থাপিত সরকারি ও বেসরকারি হ্যাচারি এবং ট্র্যাডিশনাল মাটির কুয়াগুলোতে ডিম সংগ্রহকারীরা ডিমের পরিস্ফুটনে ব্যস্ত সময় অতিবাহিত করছেন।
শনিবার (৩১ মে) বিশিষ্ট হালদা নদী গবেষক ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রাণিবিদ্যা বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মনজুরুল কিবরিয়া এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘বৃহস্পতিবার (২৯ মে) রাত ২টা থেকে বহুল প্রতীক্ষিত হালদা নদীতে রুই জাতীয় ব্রুড মাছ ডিম ছেড়েছে। নদীতে মৎস্য অধিদফতর, বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট, নৌপুলিশ ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় হালদা রিভার রিসার্চ ল্যাবরেটরি যৌথভাবে ডিম পরিস্ফুটন মনিটরিং করা হচ্ছে।’
তিনি বলেন, ‘সংগ্রহ করা ডিম ৯৬ ঘণ্টা পর রেণু পোনা হিসেবে বিক্রির উপযোগী হবে। গত বছর প্রথম দিকে প্রতিকেজি পোনা দুই লাখ টাকা থেকে শুরু করে ৫০ হাজার টাকা করে বিক্রি হয়। রেণু পোনাগুলোর বয়স যত বাড়বে দাম তত কমে আসবে।’
এর আগে, ২০২৩ সালে ১৪ হাজার ৬৬৪ কেজি ও ২০২৪ সালে এক হাজার ৬৮০ কেজি ডিম সংগ্রহ করা হয়।
বৃহস্পতিবার রাত ২টার পর থেকে নদীতে ডিম মিলতে শুরু করে। এর আগে থেকে নৌকা নিয়ে হালদায় অবস্থান করছিলেন ডিম সংগ্রহকারীরা। ডিম সংগ্রহকে ঘিরে হালদা নদীতে উৎসবের আমেজ বইছে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, এপ্রিল থেকে জুন মাস পর্যন্ত হালদা নদীতে মা মাছ ডিম ছাড়ার উপযুক্ত সময়। মৌসুমের অমাবস্যা ও পূর্ণিমা তিথিতে বজ্রসহ বৃষ্টিপাত হলে নদীতে পানি বাড়ে। আর এতে মা মাছ ডিম ছাড়ে।
রুই জাতীয় মাছের মৎস্য প্রজননকেন্দ্র হিসেবে খ্যাত হালদা নদীকে বঙ্গবন্ধু মৎস্য হেরিটেজ হিসেবে ঘোষণা করে গেলো আওয়ামী লীগ সরকার। ২০২০ সালের ২২ ডিসেম্বর এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়।