জেএসএসের বিরুদ্ধে শিক্ষক ও স্থানীয়দের শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ

রাঙামাটির লংগদুতে সন্তু লারমার নেতৃত্বাধীন আঞ্চলিক সংগঠন পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির (জেএসএস) বিরুদ্ধে স্কুলের প্রধান শিক্ষক, সহকারী শিক্ষক ও স্থানীয় ব্যবসায়ীসহ তেরো জনের ওপর শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ আনা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে আরেক আঞ্চলিক সংগঠন ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিপিডিএফ)।

বুধবার (১৮ জুন) বিকালে ইউপিডিএফের প্রচার ও প্রকাশনা বিভাগের প্রধান নিরন চাকমা স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়। তবে এই ঘটনা সরাসরি অস্বীকার করেছে জেএসএস।

বিজ্ঞপ্তিতে রাঙামাটি জেলা ইউনিটের অন্যতম সংগঠক সচল চাকমা ঘটনার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন ‘অমানুষিক, কাপুরুষোচিত ও মধ্যযুগীয় বর্বরতা এটি।’

বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, গতকাল (১৭ জুন) এলাকার কতিপয় সমস্যা বিষয়ে আলোচনার জন্য ইউপিডিএফের স্থানীয় নেতারা দেখা করতে গেলে বিকালে জেএসএস সন্তু গ্রুপের সশস্ত্র কমান্ডার রিটেন তাদের আটকায় এবং তাদের ওপর শারীরিক নির্যাতন চালায়।

জেএসএস সন্তু গ্রুপকে রাজনৈতিক ও আদর্শিকভাবে দেউলিয়াগ্রস্ত আখ্যায়িত করে বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, একটি বিশেষ মহলের স্বার্থ উদ্ধার ও আঞ্চলিক পরিষদের গদি রক্ষা করতে তারা এভাবে গণবিরোধী ফ্যাসিস্টের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে এবং জনগণের আন্দোলনের পথের কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সচল চাকমা আরও জানান, সমস্ত রাষ্ট্রশক্তি ব্যবহার করেও কয়েক হাজার লোককে হত্যা, গুম, নির্যাতন করেও ফ্যাসিস্ট হাসিনা টিকতে পারেনি। সন্তু লারমাও খুন, অপহরণ, নির্যাতন চালিয়ে বেশি দিন ক্ষমতায় থাকতে পারবেন না। তার পরিণতিও একদিন হাসিনার মতো হতে বাধ্য।

শারীরিক নির্যাতনের শিকার ব্যক্তিরা হলেন- কাট্টলী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অভয় চাকমা, সহকারী শিক্ষক বিদ‌্যাধন চাকমা, লিটু চাকমা, একই বিদ্যালয়ের খণ্ডকালীন শিক্ষক বিমল জ্যোতি চাকমা, বাবুল চাকমা, রাধামন বাজারের ব্যবসায়ী সুবর্ণ জীবন চাকমা, দাশ চাকমা, লিটন চাকমা, স্থানীয় বীর রঞ্জন চাকমা, প্রেম লাল চাকমা, বিরাজ মোহন চাকমা, জ্যোতি চাকমা ও বাকপ্রতিবন্ধী মরত চবো চাকমা। তারা সবাই কাট্টলী মাস্টারপাড়ার বাসিন্দা।

তবে এই বিষয়ে সন্তু লারমার নেতৃত্বাধীন আঞ্চলিক সংগঠন পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি লংগদু উপজেলার সাধারণ সম্পাদক মনি শংকর চাকমা বলেন, ‘এই ঘটনার সঙ্গে জেএসএস কোনোভাবে জড়িত না। তাদের (ইউপিপিডিএফ) নিজেদের মধ্যে সমস্যার কারণে এমন ঘটনা ঘটতে পারে। সে দায় জেএসএসের ওপর চাপিয়ে জনগণকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে।’