আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সদস্য সাদ্দাম হোসেনকে (৩৫) গুলি করে হত্যার ঘটনায় করা মামলার প্রধান আসামি জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক দেলোয়ার হোসেন দীলিপ (৪৯) ও বাবুল মিয়াকে (৩৩) গ্রেফতার করেছে র্যাব। তাদের পাঁচ দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।
গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রবিবার (৩০ নভেম্বর) রাত ১০টায় র্যাব-৯ এর সিপিসি-১ এবং র্যাব-৩ এর ঢাকার একটি টিম যৌথভাবে ঢাকার সবুজবাগ থানাধীন বাসাবো এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদেরকে গ্রেফতার করে।
গ্রেফতার দেলোয়ার হোসেন দিলীপ ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের কান্দিপাড়ার মাইমলহাটির মৃত রফিকুল ইসলাম নেপালের ছেলে এবং বাবুল মিয়া একই এলাকার হান্নান মিয়ার ছেলে।
সোমবার (ডিসেম্বর) দুপুরে র্যাব-৯ এর মিডিয়া অফিসার, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কে এম শহিদুল ইসলাম সোহাগ স্বাক্ষরিত প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের কান্দিপাড়া এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে একই এলাকার বাসিন্দা ও সদর উপজেলা কৃষক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক শাকিল সিকদারের সঙ্গে জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক দেলোয়ার হোসেন দীলিপের বিরোধ চলে আসছিল।
এই বিরোধের জেরে গত বৃহস্পতিবার (২৭ নভেম্বর) সন্ধ্যায় কান্দিপাড়া মাদ্রাসা রোডে লায়ন শাকিল ও তার সহযোগীরা দেলোয়ার হোসেন দিলীপের অনুসারীদের ওপর এলোপাতাড়ি গুলি করে। এতে তিন জন গুলিবিদ্ধ হন। এরপর পরই কান্দিপাড়া এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা দেখা দেয়।
পরে ওই দিন রাতে মধ্যরাতে শহরের কান্দিপাড়ার মাইমলহাটির নিজ বাসা থেকে ডেকে নিয়ে ছাত্রদলের সাবেক নেতা সাদ্দাম হোসেনকে গুলি করে হত্যা করা হয়। স্বজনদের অভিযোগ, স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা দেলোয়ার হোসেন দিলীপ ও তার সহযোগীরা তাকে হত্যা করেছেন। নিহত সাদ্দাম হোসেনের স্ত্রী ও দুটি মেয়ে সন্তান রয়েছে।
এই ঘটনায় ২৮ নভেম্বর (শুক্রবার) রাতে নিহত সাদ্দাম হোসেনের পিতা মোস্তফা কামাল ওরফে মস্তু মিয়া বাদী হয়ে জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক দেলোয়ার হোসেন দিলীপকে প্রধান আসামি করে সদর মডেল থানায় ৭ জনের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলাটি করেন।
অন্য আসামিরা হলেন- একই এলাকার হান্নান মিয়ার ছেলে বাবুল মিয়া (২৮) ও তার ভাই সাদিল মিয়া (৩৫), একই এলাকার ভুলন মিয়ার ছেলে পলাশ মিয়া (৩৫), জাকির মিয়ার ছেলে টিটন মিয়া (৩৪), গোলাপ মিয়ার ছেলে বাপ্পা মিয়া (২৬) ও দেলোয়ার হোসেন দিলীপের ভাই কাজল মিয়া (৪৫)। মামলায় অজ্ঞাত আরও ৫-৭ জনকে আসামি করা হয়।
এরই পরিপ্রেক্ষিতে র্যাব-৯ এর সদস্যরা আসামিদের আইনের আওতায় আনতে ছায়া তদন্ত শুরু করে এবং গোয়েন্দা তৎপরতা জোরদার করে। পরে রবিবার রাতে ঢাকার বাসাবো এলাকায় অভিযান চালিয়ে দিলীপ সহ দুই আসামিকে গ্রেফতার করা হয়।
এ বিষয়ে সদর মডেল থানার ওসি মোহাম্মদ আজহারুল ইসলাম বলেন, গ্রেফতার দীলিপ ও বাবুলকে আদালতে সোপর্দ করে তাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করলে আদালত ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। গ্রেফতার দিলীপের বিরুদ্ধে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানায় বিভিন্ন ধরনের ১৯টি মামলা রয়েছে।