চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি) আসনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির প্রার্থী সরওয়ার আলমগীরের প্রার্থিতা বাতিলের পর ওই সংসদীয় আসনে নানা সমীকরণ কষছে বাকি প্রার্থীরা। তবে প্রার্থিতা ফিরে পাওয়ার আশায় আছেন বিএনপির প্রার্থী ও ভোটাররা। অপরদিকে প্রার্থিতা বাতিলের বিরুদ্ধে সোমবার (১৯ জানুয়ারি) উচ্চ আদালতে বিএনপি প্রার্থী সরওয়ার আলমগীরের পক্ষে আপিল করা হয়েছে। মঙ্গলবার শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে। চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত হোসেন এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
এর আগে রবিবার (১৮ জানুয়ারি) বিকালে আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনের অডিটোরিয়ামে আপিল শুনানির শেষ দিনে নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তে চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি) আসনে বিএনপির প্রার্থী সরোয়ার আলমগীরের মনোনয়ন বাতিল হয়। যাচাই-বাছাইয়ে বৈধ ঘোষণার পর আপিল পর্যায়ে এসে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো।
নির্বাচনি কার্যক্রমের শুরুতে গত ৪ জানুয়ারি যাচাই-বাছাইয়ের দিনে চট্টগ্রাম-২ আসনে বিএনপির প্রার্থী সরোয়ার আলমগীরের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেছিলেন সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তা। তবে ওই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিলের পর নির্বাচন কমিশন চূড়ান্ত শুনানি শেষে তার প্রার্থিতা বাতিল করে।
এর আগে চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি) আসনে বিএনপির প্রার্থী সরওয়ার আলমগীরের বিরুদ্ধে ৪০০ কোটি টাকা ঋণখেলাপির তথ্য গোপনের অভিযোগ এনে তার প্রার্থিতা বাতিলের দাবি জানান একই আসনের জামায়াতের প্রার্থী নুরুল আমিন।
জামায়াতের প্রার্থীর আইনজীবী ইসমাইল গণি বলেন, ‘সরওয়ার আলমগীর সাহেবের প্রায় ৪০০ কোটি টাকার ঋণখেলাপির তথ্য আমাদের হাতে এসেছে। কিন্তু তিনি হলফনামায় এর খুব সামান্য অংশ দেখিয়েছেন। অধিকাংশ তথ্যই গোপন করেছেন। এ কারণে তার প্রার্থিতা বাতিলের আবেদন করেছি।’
চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক সরওয়ার আলমগীরের হলফনামায় দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, শাহজালাল ইসলামী ব্যাংকে ১৯ কোটি ৬২ লাখ ৫১ হাজার টাকা। যমুনা ব্যাংকে ৩ কোটি ১১ লাখ ২৬ হাজার টাকা। প্রিমিয়ার লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্স লিমিটেডের ৭ কোটি ৭২ লাখ ৪৭ হাজার টাকা। স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংকে ২০ কোটি ৬৭ হাজার টাকা এবং স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক থেকে ৮০ কোটি ৩২ লাখ টাকা।
এ প্রসঙ্গে চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি) আসনের প্রার্থী সরওয়ার আলমগীর বলেন, ‘আমাদের সমর্থকদের বলবো ধৈর্য ধরুন। আশা করছি, হাইকোর্টে আমি পুনরায় প্রার্থিতা ফিরে পাবো।’
এদিকে, বিএনপি প্রার্থী সরওয়ার আলমগীর প্রার্থিতা ফিরে না পেলে কী হবে? তা নিয়ে ফটিকছড়ির মানুষের মাঝে চলছে নানা আলোচনা-সমালোচনা। এ আসনে বিএনপির বিকল্প কোনও প্রার্থী নেই। সরোয়ার আলমগীর ছাড়াও এ আসনে আরও ৭ জন প্রার্থী রয়েছেন। ধানের শীষ প্রার্থিতা ফিরে না পেলে জামায়াত ইসলামীর প্রার্থী মোহাম্মদ নুরুল আমিনের বিজয় সহজ হবে বলেও মনে করছেন ভোটাররা। তবে এ আসনে বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টির (বিএসপি) প্রার্থী হিসেবে আছেন শাহজাদা সৈয়দ সাইফুদ্দিন আহমদ।
এ প্রসঙ্গে চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক বেলায়েত হোসেন বলেন, ‘আমরা আশাবাদী আপিলে সরোয়ার আলমগীর প্রার্থিতা ফিরে পাবেন। যদি কোনও কারণে না পান তখন দল সিদ্ধান্ত নেবে।’