নোয়াখালীর চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের হাজতখানায় আওয়ামী লীগের দুই নেতার জন্য ‘বেয়াইখানার’ (বর ও কনের বাবার ভূরিভোজ) আয়োজন করায় পুলিশের পাঁচ সদস্যকে বদলি করা হয়েছে। এ ছাড়া ঘটনা তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার রাতে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বুধবার বিকালে বিষয়টি জানিয়েছেন জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) আবু তৈয়ব মো. আরিফ হোসেন।
এর আগে গত সোমবার দুপুরে আদালতে হাজিরা দিতে এলে দায়িত্বরত পুলিশের সহযোগিতায় হাজতখানায় দুই আসামির ভূরিভোজের আয়োজন করা হয়। দুই আসামি হলেন কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা যুবলীগের সভাপতি ও উপজেলার সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান আ জ ম পাশা চৌধুরী এবং হাতিয়া পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও বঙ্গবন্ধু আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক ছাইফ উদ্দিন আহমদ।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আ জ ম পাশার মেয়ে ফালিহা আজম চৌধুরীর সঙ্গে ছাইফ উদ্দিন আহমদের ছেলে ছাইম উদ্দিনের বিয়ে হয় গত ৩০ ডিসেম্বর। তবে আ জ ম পাশা ও ছাইফ উদ্দিন আহমদ হত্যা-বিস্ফোরকসহ একাধিক মামলায় কারাগারে থাকায় আদালতে হাজিরার দিনে হাজতখানায় দুজনের বেয়াইখানার আয়োজন করা হয়। মঙ্গলবার ভূরিভোজের ১৭ সেকেন্ডের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এরপর বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই সমালোচনা শুরু করেন।
যে হাজতখানায় ভূরিভোজের আয়োজন করা হয়, সেটি নারী আসামিদের জন্য সংরক্ষিত। ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, ভূরিভোজের সময় আসামি আ জ ম পাশা ও ছাইফ উদ্দিনের সঙ্গে তাদের পরিবারের সদস্যরাও ছিলেন। এর মধ্যে আ জ ম পাশার স্ত্রী খোদেজা আক্তার, মেয়ে ফালিহা আজম এবং ছাইফ উদ্দিনের ছেলে ছাইম উদ্দিনকে ভিডিতে দেখা যায়। পাশে ছিলেন আরও এক যুবক।
পুলিশ জানায়, হাজতখানার মতো সুরক্ষিত স্থানে বেয়াইখানা আয়োজনের ঘটনা জানার পর তদন্ত কমিটি গঠন করে জেলা পুলিশ। কমিটিতে জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) আবু তৈয়ব মো. আরিফ হোসেনকে প্রধান করা হয়। কমিটির অপর দুই সদস্য হলেন বেগমগঞ্জ সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার লিয়াকত আকবর এবং পরিদর্শক মো. শাহ আলম।
একই ঘটনায় বদলি হওয়া পাঁচ জনের মধ্যে রয়েছেন সহকারী শহর উপপরিদর্শক (এটিএসআই) জাহেদুল ইসলাম ও কবির আহম্মদ ভূঁইয়া এবং তিন কনস্টেবল বিল্লাল হোসেন, মো. হাসান ও সাইফুল ইসলাম। তাদের হাতিয়ার বিভিন্ন পুলিশ ফাঁড়িতে বদলি করা হয়েছে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবু তৈয়ব মো. আরিফ হোসেন বলেন, ‘তদন্ত কমিটিকে আগামী সাত কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। কমিটির কার্যক্রম আজ থেকে শুরু হয়েছে। প্রতিবেদন পাওয়ার পর অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি আবদুর রহমান বলেন, ‘আজ আদালতে গিয়ে ঘটনাটি শুনেছি। তবে এভাবে হাজতে আসামিদের খাবার খাওয়ানো গুরুতর অন্যায়। আদালতের পুলিশ পরিদর্শকও এর দায় এড়াতে পারেন না।’
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, কারাগারে থাকা আ জ ম পাশার বিরুদ্ধে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় ছাত্রশিবিরের সাত কর্মীকে গুলি করে হত্যার মামলাসহ একাধিক মামলা রয়েছে। অন্যদিকে ছাইফ উদ্দিন আহমদের বিরুদ্ধে হাতিয়া, চরজব্বর ও কবিরহাট থানায় বিস্ফোরকসহ পাঁচটি মামলা আছে।