প্রতীক বরাদ্দের পর চট্টগ্রাম-৮ (চান্দগাঁও-বোয়ালখালী) আসনে জাতীয় নাগরিক পার্টির প্রার্থী মো. জুবাইরুল হাসান আরিফকে সমর্থন দিয়ে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ালেন জামায়াতের প্রার্থী ডা. আবু নাছের। বুধবার (২১ জানুয়ারি) বিকালে মহানগর জামায়াতে ইসলামীর কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে এ সিদ্ধান্তের কথা জানান মহানগরের সহকারী সেক্রেটারি মো. মোরশেদুল ইসলাম চৌধুরী।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে মোরশেদুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, ‘দলীয় সিদ্ধান্তে জোটের ঐক্যের স্বার্থে এনসিপি প্রার্থীকে সমর্থন জানিয়ে আবু নাছের আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন থেকে সরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। আবু নাছের অসুস্থ থাকায় এখানে উপস্থিত হতে পারেননি। ঢাকায় অবস্থান করায় মঙ্গলবার তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করতে পারেননি।’
এদিকে বুধবার সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত চট্টগ্রাম-৮ আসনের রিটার্নিং কর্মকর্তা ও চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার মো. জিয়া উদ্দিন প্রার্থীদের মাঝে প্রতীক বরাদ্দ করেন। আগের দিন মঙ্গলবার শেষ হয় প্রার্থিতা প্রত্যাহারের সময়সীমা। নির্বাচনি বিধি অনুযায়ী, প্রার্থিতা প্রত্যাহারের সময়সীমা শেষ হওয়ার পর নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর সুযোগ থাকে না। ব্যালটে প্রার্থির নাম ও বরাদ্দকৃত মার্কা থেকেই যায়।
প্রতীক বরাদ্দের পর সরে দাঁড়ানোর বিষয়ে মোরশেদুল ইসলাম বলেন, ‘মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের দিন তার অনুপস্থিতিতে প্রত্যাহার করা যায়নি। জামায়াত সুশৃঙ্খল আদর্শিক সংগঠন। জামায়াত আমিরসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দের ভূমিকায় জোট গঠন হয়েছে। জোটের ঐক্যের স্বার্থে আমরা সিদ্ধান্তটি নিলাম।’
সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামী কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও চট্টগ্রাম মহানগরীর আমির নজরুল ইলাম ও দক্ষিণ জেলা জামায়াতের আমির আনোয়ারুল আলম চৌধুরী, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা সেক্রেটারি বদরুল হক, সহকারী সেক্রেটারি মোহাম্মদ জাকারিয়া, বোয়ালখালী উপজেলা আমির খোরশেদুল আলম ও বায়েজিদ থানা আমির জাকির হোসেন।
চট্টগ্রাম-৮ আসনে বিএনপির প্রার্থী এরশাদ উল্লাহ, জামায়াতের আবু নাছের ও এনসিপির জোবাইরুল হাসানসহ সাত জন প্রার্থী ছিলেন। তাদের মধ্যে খেলাফত মজলিসের প্রার্থী মোহাম্মদ এনায়েত উল্লাহ মঙ্গলবার প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে নেন। সবশেষ জামায়াতের প্রার্থী সরে যাওয়ায় পাঁচ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।