নোয়াখালী-২ আসনের সোনাইমুড়ী উপজেলার বারগাঁও ইউনিয়নের ভোরের বাজারে বিএনপির বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী কাজী মফিজুর রহমানের নির্বাচনি কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। এতে কাজী মফিজুর রহমানের পাঁচ সমর্থক আহত হয়েছেন। এ সময় অফিসের আসবাবপত্র ভাঙচুর করা হয়। রবিবার (১ ফেব্রুয়ারি) দুপুর সোয়া ১২টার দিকে ভোরের বাজারে বিএনপির কর্মী-সমর্থকরা ঘটনাটি ঘটিয়েছেন বলে জানান প্রত্যক্ষদর্শীরা।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, উপজেলার বারগাঁও ইউনিয়নের রাজিবপুর গ্রামের ভোরের বাজারে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী কাজী মফিজুর রহমানের নির্বাচনি কার্যালয়ে সভা চলছিল। এ সময় ধানের শীষ প্রতীকের ৮-১০ জন প্রচারকারী কার্যালয়ের সামনে দিয়ে যাওয়ার সময় উভয় পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি স্লোগান দেওয়া শুরু হয়। এ নিয়ে দুই পক্ষের কথা কাটাকাটি থেকে উত্তেজনা সৃষ্টি হলে তা সহিংসতায় রূপ নেয়। এ সময় ধানের শীষ প্রতীকের কর্মী-সমর্থকরা বিদ্রোহী প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকদের ধাওয়া করেন। পাশাপাশি বিদ্রোহী প্রার্থীর কার্যালয়ের চেয়ার-টেবিলসহ বিভিন্ন আসবাবপত্র ভাঙচুর করে ধানের শীষের কর্মী-সমর্থকরা।
বিদ্রোহী প্রার্থী কাজী মফিজুর রহমান বলেন, ‘সকালে উপজেলার বারগাঁও ইউনিয়ন ২ নম্বর ওয়ার্ডের রাজিবপুর গ্রামে নির্বাচনি কার্যালয়ে একটি সভা করি। সভা শেষে আমি চলে আসার পর সাবেক চেয়ারম্যান দুলাল, বিএনপি নেতা কামাল উদ্দিন বাবুলের নির্দেশে যুবদলের নেতা ও ধানের শীষ প্রতীকের সমর্থক মো. পলাশ, মহিউদ্দিন চৌধুরী, মো. কানন, মো. বাদশা মো. রকি, গিয়াস উদ্দিন, পিন্টু, বাদশার নেতৃত্বে ১৫-২০ জনের একটি দল আমার নির্বাচনি অফিসে হামলা-ভাঙচুর চালান। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে অভিযোগ করে আমি কোনও প্রতিকার পাচ্ছি না। তারা ব্যবস্থা নিচ্ছে বলে কালক্ষেপণ করছে। বিএনপির নেতাকর্মীদের হুমকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শন অব্যাহত থাকায় এলাকায় নির্বাচনি পরিবেশ অবনতির দিকে যাচ্ছে।’
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে সোনাইমুড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কবির হোসেন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘নির্বাচনি অফিসে ভাঙচুর করা হয়নি। তবে স্বতন্ত্র প্রার্থীর বৈঠকে বিএনপির কিছু লোক ধানের শীষ প্রতীকের স্লোগান দেন। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটি ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। একপর্যায়ে চেয়ার ভাঙচুর করা হয়। বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’